যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘আজাদি’ স্লোগান নিয়ে আগেই আপত্তি জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার যাদবপুরে ১০ হাজার কণ্ঠে ‘বন্দে মাতরম’ অনুষ্ঠানে এসে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনকে তীব্র আক্রমণ মুখ্যমন্ত্রীর। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে পড়ুয়াদের নেশা করার বিষয়টি (অন্তত অভিযোগ এমনই) নিয়েও তীব্র আপত্তি তোলেন তিনি। শুভেন্দু বলেন, ‘ড্রোন ওড়াব, গাঁজা হেরোইন কোথায় কোথায় কে নিয়ে যাচ্ছে, কোথায় কোথায় বসে পাতা পুড়িয়ে টানছেন, আমি বের করব। আমি পুলিশমন্ত্রী। আমি জঞ্জাল সাফাই করতে জানি।’
‘আজাদি’ স্লোগান নিয়ে বিরোধিতা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা কীসের আজাদি চান, গাঁজা খাওয়ার আজাদি, হেরোইন খাবার আজাদি, ড্রাগ নেওয়ার আজাদি? অবন্তীপুরায় যখন ৪৫ জন সিআরপিএফকে উড়িয়ে দেয় পাকিস্তানের জঙ্গিরা, তখন এই বেয়াদপগুলোকে মিছিল করতে দেখা যায় না। যে দিন পহেলগামে ধর্ম দেখে খুন করা হয়, সে দিন এঁদের মিছিল হয় না। অপারেশন সিঁদুর হলে মিছিল বের করে ‘যুদ্ধ নয়, শান্তি চাই। অবিলম্বে পাকিস্তানে ভারতীয় হানা বন্ধ করো বলে।’
এই ধরনের রাষ্ট্রবাদী মানিসকতাকে প্রশয় দেওয়া হবে না বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’ স্লোগানের বিরোধিতা করেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘একদম শেষ পর্যায়ে এসে গিয়েছে। নয় এরা থাকবে, নয় আমরা থাকব। মাঝখানে আর কিছু হবে না। কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি? এই বেয়াদপরা শুনে রাখ। অপারেশন সিঁদুরে মাসুদ আজহারের বংশকে নির্বংশ করেছে আমাদের এয়ারফোর্স। আমরা পিওকে দখল করব।’
দিল্লির যন্তর মন্তরে নিট নিয়ে পড়ুয়াদের বিক্ষোভের পরে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যা মিটিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু সেই একই বিষয় নিয়ে কলকাতার মিছিলে ‘আজাদি’ স্লোগান দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর। এমনকী অনেক ক্ষেত্রে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের ‘ভয় দেখিয়ে’ মিছিলে নিয়ে যাওয়া হয় বলেও এ দিন দাবি করেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত ১৯ ও ২০ আগস্ট যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় নজিরবিহীন ছাত্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘিরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। সেই ঘগনার পরেই মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন, রাখিবন্ধনের দিন যাদবপুরে ১০ হাজার কণ্ঠে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া হবে। শুক্রবার সেই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে যাদবপুর সাংগঠনিক জেলা বিজেপি। যদিও এ দিন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। শুধুমাত্র ১ নং গেট দিয়ে যাতায়াত করা যাচ্ছে। তবে এই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে পুলিশি নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয় গোটা চত্বর।