• 'কীসের আজাদি? মদ, গাঁজা, হেরোইনের?' যাদবপুরে বাম ছাত্রদের নিশানা শুভেন্দুর
    আজ তক | ২৯ আগস্ট ২০২৬
  • যাদবপুরের বাম ছাত্রদের তীব্র আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার যাদবপুরের ৮বি বাসস্ট্যান্ডে '১০ হাজার কণ্ঠে বন্দেমাতরম্' কর্মসূচির মঞ্চ থেকে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলিকে নিশানা করেন। প্রশ্ন তোলেন, 'কীসের আজাদি? মদ খাওয়ার আজাদি? গাঁজা খাওয়ার আজাদি? হেরোইন নেওয়ার আজাদি?'

    যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র রাজনৈতিক টানাপড়েন চরমে। তারই মধ্যে সেখানে বন্দে মাতরম্ গাওয়ার কর্মসূচি। সেই মঞ্চ থেকেই এ দিন শুভেন্দুর বারবার বিঁধলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাজনীতি, বামপন্থী সংগঠনকে। তাঁর দাবি, যাদবপুরকে এক সময় ‘রাষ্ট্রবাদী’ এবং ভারতীয় সংস্কৃতি থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। একই সঙ্গে তিনি বামপন্থী ছাত্রদের চে গুয়েভারার আদর্শ অনুসরণ নিয়েও কটাক্ষ করেন। বলেন, 'চে গুয়েভারা না কে একটা আছে'। 

    যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে মাদক ব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে এদিন কড়া বার্তা দেন শুভেন্দু। হস্টেল এবং বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে গাঁজা, হেরোইন বা অন্য কোনও মাদক ব্যবহার হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখার কথা বলেন তিনি। এমনকি প্রয়োজন হলে ড্রোন ব্যবহার করে নজরদারি চালানোর কথাও জানান।

    শুভেন্দু বলেন, 'গাঁজা, হেরোইন কোথায়, কে নিয়ে যাচ্ছে, কোথায় বসে পাতা পুড়িয়ে টানছে; আমি বের করব।'  

    শুভেন্দু বলেন, 'কমিউনিস্টদের ৩৪ বছরের রাজত্বে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন একটা মানসিকতা তৈরি করা হয়েছিল, যেখানে স্বাধীনতা দিবস, প্রজাতন্ত্র দিবস, দেশপ্রেম, রাষ্ট্রবাদ, ভারতীয় সংস্কৃতি, সনাতন সংস্কৃতি এবং বাঙালির পরম্পরাকে গুরুত্ব দেওয়া হত না।'

    তৃণমূলের আমলেও সেই মানসিকতা বদলায়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর কথায়, 'পরবর্তী সময়ে যারা পশ্চিমবঙ্গ শাসন করেছে, তাদের কাছেও রাষ্ট্রবাদকে প্রতিষ্ঠা করা অগ্রাধিকারের মধ্যে ছিল না।'

    এর পরেই যাদবপুরের ছাত্র আন্দোলনের প্রসঙ্গ তোলেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, যাদবপুরে কয়েকশো ছাত্রছাত্রীকে নিয়ে একটি মিছিল হয়েছিল। সেখানে ‘আজাদি’ স্লোগান দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন। শুভেন্দুর প্রশ্ন, 'আজাদি? কীসের আজাদি?'

    বাম ছাত্রদের নিশানা করে তিনি বলেন, 'ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্লোগান নেই, কর্মসংস্থান নিয়ে স্লোগান নেই, দেশের উন্নতি নিয়ে স্লোগান নেই। কিন্তু স্লোগান হচ্ছে আজাদি।' 

    শুভেন্দু বলেন, 'এই বাংলার মাটিতে ক্ষুদিরাম বসুরা গীতা হাতে নিয়ে আজাদির জন্য লড়াই করেছেন। মাতঙ্গিনী হাজরা এক হাতে তেরঙ্গা নিয়ে ব্রিটিশের গুলি খেয়ে স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। নেতাজি থেকে শুরু করে অসংখ্য বিপ্লবীর ত্যাগের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। আপনারা কিসের আজাদি চান?'

    এর পরেই তাঁর বক্তব্যে আসে মাদক প্রসঙ্গ। শুভেন্দু বলেন, 'হেরোইন খাওয়ার আজাদি? গাঁজা খাওয়ার আজাদি? ড্রাগ নেওয়ার আজাদি?'

    কাশ্মীর নিয়েও বামপন্থী ছাত্রদের স্লোগান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, ভারতীয় সেনা ও দেশের নিরাপত্তার প্রশ্নে যাঁরা প্রতিবাদ করেন, তাঁদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

    যাদবপুরে এবিভিপি-র এক ছাত্র আক্রান্ত হওয়ার ঘটনাকে ঘিরে সংবাদমাধ্যমের একাংশের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন শুভেন্দু। একটি সংবাদপত্রে ‘গেরুয়া তাণ্ডব’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করা নিয়ে আপত্তি জানান তিনি।

    শুভেন্দু বলেন, 'গেরুয়া মানে আপনি জানেন? স্বামী বিবেকানন্দের গায়ে গেরুয়া ছিল। শ্রীচৈতন্যদেবের গায়ে গেরুয়া ছিল। রামকৃষ্ণ মঠ-মিশনের সন্ন্যাসীদের গায়ে গেরুয়া থাকে। গেরুয়া শব্দটাকে এ ভাবে কালিমালিপ্ত করতে দেব না।'   
  • Link to this news (আজ তক)