চালকের অশ্লীল স্পর্শ! চলন্ত অটো থেকে লাফিয়ে সম্ভ্রম বাঁচালেন তরুণী
প্রতিদিন | ২৯ আগস্ট ২০২৬
অটোর সামনের আসনে বসে চালকের লালসার শিকার তরুণী! লাগাতার অশালীন স্পর্শ, কনুইয়ের খোঁচা! বারবার সাবধান করা সত্ত্বেও অটোচালকের অভব্য আচরণ থেকে নিজের সম্ভ্রম বাঁচাতে অটো থেকে ঝাঁপ দেওয়ার মতো ঘটনা ঘিরে শোরগোল বেলঘরিয়ার নিমতা থানা এলাকা। নিজের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেছেন রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই ছাত্রী। শেষমেশ স্থানীয় বাসিন্দারা ওই চালককে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেন। তাকে গ্রেপ্তার করেছে নিমতা থানার পুলিশ। রাতের রাস্তায় মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার রাতে। ওইদিন নিমতা থানা এলাকার পাঠানপুরে ঘটনাটি ঘটে। জানা গিয়েছে, কাশীপুর সৎচাষীপাড়ার একটি মেসে থেকে রবীন্দ্রভারতীর ওই ছাত্রী নিয়মিত টিউশন পড়াতে যান। বৃহস্পতিবার বিরাটি থেকে গোলবাগানগামী অটোয় উঠেছিলেন। পিছনের আসন ভর্তি থাকায় সামনে চালকের পাশের সিটে বসেছিলেন। অভিযোগ, অটো চলতে শুরু করার পর চালক কনুই দিয়ে তাঁর সঙ্গে অশালীন আচরণ করতে থাকেন। পাঠানপুর এলাকায় পৌঁছে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয় বলে অভিযোগ। তরুণী চালককে একাধিকবার এনিয়ে সতর্ক করেন। কিন্তু চালক অভব্যতা চালিয়ে যান বলে অভিযোগ। একটা সময় পর আর থাকতে না পেরে আতঙ্কে চলন্ত অটো থেকেই ঝাঁপ দেন তিনি।
তরুণীর চিৎকার শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা অটোচালক কালাচাঁদ মণ্ডলকে ধরে ফেলেন এবং পুলিশের হাতে তুলে দেন। পরে তাঁকে গ্রেপ্তার করে নিমতা থানার পুলিশ। রবীন্দ্রপল্লি হাটখোলা এলাকায় ধৃতের বাড়ি। তাকে শুক্রবার আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেয় পুলিশ। ছাত্রীর বক্তব্য, প্রতিদিনই যাতায়াতের জন্য তাঁকে অটোয় উঠতে হয়। কোনও চালক যদি এমন অসভ্যতা করে, তাহলে তো অটোযাত্রা নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়বে। গোটা ঘটনা জেনে স্থানীয়রা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, নিজের সম্মান বাঁচাতে চলন্ত অটো থেকে ঝাঁপ দেওয়া তরুণীর তো আরও বড় কোনও বিপদ হতে পারত। তাঁদের দাবি, ধৃত অটোচালককে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক।