• নেপালে খোঁজ মিলল বাংলার দু’জনের, বাকিদের কী খবর? টিম পাঠাতে চান শুভেন্দু
    প্রতিদিন | ২৯ আগস্ট ২০২৬
  • হিমবাহ হ্রদ ভাঙা জলরাশি আর হড়পা বানের স্রোত – প্রকৃতির জোড়া ফলায় তছনছ হয়ে যাওয়া নেপাল থেকে অবশেষে সামান্য স্বস্তির খবর এল বঙ্গে। এ রাজ্য থেকে বেড়াতে গিয়ে নিখোঁজ ৩৯ জনের মধ্যে ২ জনের খোঁজ মিলেছে বলে শুক্রবার জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন সন্ধ্যায় তিনি ভবানীভবনে গিয়ে খোঁজ নেন। বসিরহাটের ২ পর্যটকের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়েছে বলে জানতে পারেন। এছাড়া ভারচুয়াল বৈঠকে তিনি কথা বলেন নিখোঁজদের পরিবারগুলির সঙ্গে। বিপর্যয় থেকে সকলকে উদ্ধারের আশ্বাস দিয়ে মু্খ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, ‘‘এটা শুধু আপনাদের সংকট নয়, গোটা রাজ্য এনিয়ে চিন্তিত। আমরা যতটা সম্ভব চেষ্টা করছি সকলকে নিরাপদে ফেরানোর।” শুভেন্দু জানান, রাজ্যের তরফে একটি টিম পাঠাতে চান নেপালে। তার জন্য বিদেশ মন্ত্রকের অনুমতি চাওয়া হয়েছে।

    গত ২৬ আগস্ট, বুধবার নেপালে এত বড় বিপর্যয়ের পর  ভারত থেকে যাওয়া তিনশোর বেশি পর্যটক সেখানে আটকে পড়েছেন। তাঁদের মধ্যে বেশিরভাগ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না বলে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। পশ্চিমবঙ্গ থেকে বেড়াতে যাওয়া অন্তত ৩৯ জন নিখোঁজ। সেই তালিকা হাতে এসেছে সরকারের। পরিবারগুল্র কাছে তাঁদের খোঁজ পৌঁছে দিতে নবান্নে বিশেষ কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। দায়িত্বে রয়েছেন শীর্ষ পুলিশকর্তারা। সেই কাজ কতদূর এগোল, তা জানতে শুক্রবার রাত ৮টা নাগাদ নিজে কন্ট্রোল রুমে যান মুখ্যমন্ত্রী। তারপর তিনি ভবানীভবনে এসে নিখোঁজদের পরিবারের সঙ্গে ভারচুয়ালি কথা বলেন। সঙ্গে ছিলেন ডিজিপি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা, কলকাতার সিপি অজয় নন্দা। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলেন প্রয়াত বর্ষীয়ান নেতা মুকুল রায়ের ছেলে শুভ্রাংশুও। তাঁর স্ত্রী নেপালে গিয়েছিলেন, এখনও পর্যন্ত কোনও খবর নেই। 

    মুখ্যমন্ত্রী সবাইকে আশ্বাস দিয়ে জানান, রাজ্য সরকারের তরফে কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় ও যোগাযোগ রেখে নিখোঁজদের হদিশ পাওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু অধিকারী জানান, ‘‘আমাদের রাজ্য থেকে অফিশিয়ালি ৩৯ জন নিখোঁজ ছিল। ২ জনের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা গিয়েছে। তাঁরা বসিরহাট থেকে নেপাল বেড়াতে গিয়েছিলেন। বাকি ৩৭ জনের সঙ্গে এখনও কোনও যোগাযোগ করতে পারিনি আমরা। আমি বিদেশমন্ত্রকের কাছে অনুমতি চেয়েছি, একটা টিম আমরা ওখানে পাঠাতে চাই। তাতে একজন মন্ত্রী, একজন বিধায়ক, আইজি র‌্যাঙ্কের একজন পুলিশ অফিসার, একজন আইএএস থাকবেন। অনুমতি পেলেই এই টিম কাঠমাণ্ডু রওনা দেবে।” সবমিলিয়ে, নেপালে বিপর্যয় থেকে রাজ্যের পর্যটকদের উদ্ধারে অত্যন্ত তৎপর সরকার।
  • Link to this news (প্রতিদিন)