• নদীতে ঝাঁপ বৃদ্ধার, সিভিক ভলান্টিয়ারের তৎপরতায় বাঁচলো প্রাণ, সাহায্য ২ গ্রামবাসীর
    এই সময় | ২৯ আগস্ট ২০২৬
  • লালগড় ব্রিজের উপরে ডিউটি করছিলেন সিভিক ভলান্টিয়ার তারাপদ সিং। হঠাৎ নীচে বয়ে চলা কংসাবতী নদীর দিকে তাঁর চোখ পড়তেই চমকে ওঠেন তিনি। সেই সময়ে নদীর জলের স্রোতে ভেসে যাচ্ছিলেন এক বৃদ্ধা। সঙ্গে সঙ্গে নদীর পাড় ধরে দৌড় শুরু করেন তারাপদ। চিৎকার শুনে দুই গ্রামবাসী এগিয়ে আসেন সাহায্যে। প্রায় তিনশো মিটার এগিয়ে এক জায়গায় নদীর জলের স্তর কম রয়েছে, আন্দাজ করেই নদীতে নেমে পড়েন তাঁরা। কোনওমতে উদ্ধার করা হয় ওই বৃদ্ধাকে। শুক্রবার লালগড় থানার কংসাবতী নদীর ব্রিজ সংলগ্ন এলাকার ঘটনা।

    পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধারের পরে ওই বৃদ্ধা জানান পারিবারিক অশান্তির কারণে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। পুলিশ সূত্রের খবর, ওই বৃদ্ধার বাড়ি বেলপাহাড়ি থানার বালিগুমা গ্রামে। দিন কয়েক আগে তিনি লালগড় থানার আমডাঙা গ্রামে তাঁর মেয়ের বাড়িতে এসেছিলেন। শুক্রবার বিকেলে মেয়ের বাড়িতে কোনও কারণে বচসা হলে বৃদ্ধা মেয়ের বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছেন, আমতলা নদী ঘাটে হঠাৎ করেই এক বৃদ্ধা এসে নদীতে ঝাঁপ দেন। নদীতে স্রোত থাকায় মুহূর্তের মধ্যে ভেসে যান তিনি।

    আমতলা নদী ঘাট থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে লালগড়ের ব্রিজ রয়েছে। সেই ব্রিজের উপরে ছিলেন সিভিক ভলান্টিয়ার তারাপদ সিং। তিনি এবং স্থানীয় দুই বাসিন্দার নজরে পড়তেই উদ্ধারের চেষ্টা শুরু করেন তিনি। বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে লালগড় প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করে লালগড় থানার পুলিশ। খবর দেওয়া হয় তাঁর মেয়ের বাড়িতে। বৃদ্ধা সুস্থ রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। বৃদ্ধার মেয়ে নীলিমা মাহাতো বলেন, ‘মা হঠাৎ করেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন। আমরা চারিদিকে তাঁর সন্ধান করছিলাম। তিনি যে এমন অঘটন ঘটাবেন তা আমরা বুঝতে পারিনি। পুলিশের নজরে না এলে আজ হয়তো আমার মা মারা যেতেন।’ সিভিক ভলান্টিয়ার তারাপদ সিং এবং উদ্ধারের জন্য এগিয়ে আসা দুই গ্রামবাসী ততন মাঝি এবং তাপস মাঝিকেও ধন্যবাদ জানিয়েছেন বৃদ্ধার পরিবার।

  • Link to this news (এই সময়)