সুজয় মুখোপাধ্যায়
আরামবাগ এলাকার ৬৫ জনকে বাসে করে নেপালে বেড়াতে গিয়েছেন সুরজিৎ কুণ্ডু। এর পরেই নেপালে নেমেছে বিপর্যয়। সেই খবর শুনেই উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটিয়েছেন নেপাল ভ্রমণে যাওয়া পরিবারের লোকজন। একই রকম দুশ্চিন্তা ছিল বাসচালক সুরজিৎ কুণ্ডু এবং তাঁর সহযোগী মন্টু বটব্যালের পরিবারেরও। তবে নেপাল থেকেই সুখবর শুনিয়েছেন তাঁরা। তাতেই স্বস্তি ফিরেছে ওই পরিবারের সদস্যদের মনে। সুরজিৎ জানান, তাঁর কাছে মানুষের জীবনটাই আগে। যাঁদের বেড়াতে নিয়ে গিয়েছেন তাঁদের সবাইকে সুস্থভাবে ফিরিয়ে আনার দায়িত্বও তাঁর বলেও জানিয়েছেন তিনি।
গত ২৪ অগস্ট, লাক্সারি বাসে, আরামবাগ থেকে ৬৫ জন পর্যটক নিয়ে নেপালের উদ্দেশে রওনা দেন চালক সুরজিৎ কুণ্ডু। এরই মধ্যে উত্তর নেপালের রাসুয়া জেলায় চিন সীমান্তবর্তী ভোটেকোশি নদীতে হড়পা বানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ফলে গত তিন দিন ধরে উৎকণ্ঠায় ছিল আরামবাগের একাধিক পরিবার। তাঁদের সঙ্গে প্রথমে যোগাযোগ করতেও পারছিলেন না পরিবারের লোকজন। পরে অবশ্য তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা গিয়েছে। নেপালে বেড়াতে যাওয়া ওই ৬৫ জনের পর্যটক দলের প্রত্যেকেই সুস্থ রয়েছেন জেনে স্বস্তি ফিরেছে তাঁদের মনে।
সুরজিৎ জানিয়েছেন, তিনি সবথেকে বেশি চিন্তিত পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে। এই সময় অনলাইন-কে সুরজিৎ বলেন, ‘বাড়ির সকলেই চিন্তা করছেন। আরামবাগ এলাকার বাসিন্দারাও। মানুষের জীবনটা আগে, পয়সা নয়। জীবনে আবার নেপাল ঘুরতে আসতে পারব। আমাদের একটাই চিন্তা, পর্যটকদের নিয়ে এসেছি। তাঁরা ঘুরতে গিয়েছেন। আবার নতুন করে যদি বন্যা হয় তখন পর্যটকদের কী অবস্থা হবে সেটা ভেবেই ভয় হচ্ছে।’ তবে তাঁর আশা সবাইকে সুস্থ ভাবে ফিরিয়ে আনতে পারবেন তাঁরা।
শুক্রবারই নেপাল-চিন সীমান্তে ফের ভূমিকম্প হয়েছে। ফলে নতুন করে আবার জল ঢুকছে। সেই সঙ্গে নিরাপত্তার স্বার্থে অনেক জায়গা খালি করতে নির্দেশ দিয়েছে নেপাল্লের প্রশাসন। তবে সেই জায়গা থেকে অনেকটাই দূরে আসছেন সুরজিৎ এবং পর্যটক দলের সদস্যরা। সেখানে খাবার, পানীয় জল এবং বিদ্যুতের কোনও সমস্যা নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি।
সুরজিতের সহযোগী মন্টু বটব্যাল জানান, বৃহস্পতিবার থেকেই তাঁরা আছেন নারায়ণগড়ে। সেখানে বড় গাড়ি যেতে দেওয়া হচ্ছে না। তাই ছোট গাড়ি করে পর্যটকদলের সদস্যরা গিয়েছেন পোখরা ঘুরতে। শনিবার সকালে তাঁদের ফিরে আসার কথা। এর পরেই পর্যটকদের নিয়ে বাস ছাড়ার কথা রয়েছে।
ওই দলেই রয়েছেন রায়গঞ্জ বিএড কলেজের অধ্যাপক অর্ণব দত্তের মা শিখা দত্তও। অর্ণব জানান, মায়ের সঙ্গে কথা হয়েছে তাঁর। সেখানে তাঁদের কোনও সমস্যা হয়নি বলেও জানিয়েছেন তাঁর মা। মুক্তিনাথেও গিয়েছিলেন মা এবং অন্যরা। তাঁর আশা আগামী মঙ্গলবারের মধ্যেই বাড়িতে ফিরবেন তাঁরা।