চলন্ত ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিলেন এক যুবক। এর পরেই আত্মহত্যা করলেন তাঁর বাবা-মাও। ছেলের মৃত্যুর ঠিক পরেই চরম পদক্ষেপ করেন তাঁরা। রেললাইন থেকেই উদ্ধার হয়েছে তাঁদের দেহ। শুক্রবার এই ঘটনা ঘটেছে মধ্যপ্রদেশের দামো (Damoh) জেলায়। রক্ষাবন্ধনের দিনে কেন এই চরম পদক্ষেপ নিয়েছেন তাঁরা তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, শুক্রবার সকালে চলন্ত ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দেন মুকেশ আহিরওয়ার (৩০)। দামো-কাটনি রেলপথে (Damoh-Katni railway track) কারাইয়া গেটের কাছে ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি। হিন্দোরিয়া থানার কারাইয়া গ্রামের মুকেশের আত্মহত্যর খবর পাওয়ার পরে সেখানে যান তাঁর বাবা ভারত আহিরওয়ার (৫৮) এবং মা উমা আহিরওয়ার (৫৩)। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই রেললাইন থেকে উদ্ধার হয় ভারত এবং উমার দেহ। জানা গিয়েছে, যেখানে মুকেশ ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দেন, সেখান থেকে মাত্র ২ কিলোমিটার দূরে ধরমপুরা গেটের কাছ থেকে উদ্ধার হয় ওই দম্পতির দেহ।
ওই এলাকার পুলিশ আধিকারিক মনীশ কুমার জানিয়েছেন, কী কারণে মুকেশ আত্মঘাতী হয়েছেন তা জানা যায়নি। সেখান থেকে কোনও সুইসাইড নোটও উদ্ধার হয়নি। কী কারণে ওই যুবক আত্মহত্যা করেছেন তা জানার জন্য তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তবে, প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারনা, পারিবারিক কোনও বিবাদের জেরে এই চরম পদক্ষেপ করেছেন মুকেশ।
জানা গিয়েছে, মুকেশের বাবা ভারত সেখানকার জেলা হাসপাতালে নিরাপত্তা রক্ষী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। একই বেসরকারি সংস্থায় কাজ করতেন মুকেশ। তাঁর স্ত্রী দু’মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
সূত্রের খবর, ভারতের ছোট ছেলে দৌলত সাগরে গিয়েছিলেন। সেখানেই থাকতেন ভারত এবং উমার বিবাহিতা মেয়ে। রক্ষাবন্ধনের অনুষ্ঠানের জন্য তাঁকে আনতে গিয়েছিলেন দৌলত। সেই সময়েই তিনজনেই আত্মহত্যা করেছেন। এই কারণ জানার জন্য দৌলতেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানিয়েছেন আধিকারিকরা।