• ইথানলের চাপে বাড়ছে ডিমের দাম? এক বছরে বৃদ্ধি প্রায় ৪০%
    এই সময় | ২৮ আগস্ট ২০২৬
  • চিনির পাশাপাশি ডিমও এখন ব্রেকফাস্টের বাড়তি খরচের কারণ হয়ে উঠছে। গত এক বছরে ভারতে ডিমের দাম প্রায় ৩৫-৪০% বেড়েছে। এর পিছনে বড় কারণ হয়ে উঠেছে মুরগির খাবার হিসেবে ব্যবহৃত ভুট্টার দাম বৃদ্ধি। ইথানল তৈরিতে ভুট্টার ব্যবহার বাড়ায় পোলট্রি শিল্পের জন্য সরবরাহ কমছে, ফলে বাড়ছে পোলট্রি শিল্পের উৎপাদন খরচ।

    ডিমের দাম কতটা বেড়েছে?

    ন্যাশনাল এগ কো-অর্ডিনেশন কমিটির (NECC) তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে ডিমের দাম প্রায় ৩৫-৪০% বেড়েছে। এখন খামার থেকে বেরোনোর সময় একটি ডিমের দাম প্রায় ৭ টাকা। শহরের খুচরো বাজারে সেই ডিমই বিকোচ্ছে প্রায় ৮.৫০-৯ টাকা দরে। শীতকালে ডিমের চাহিদা সাধারণত বাড়ে। তাই আগামী মাসগুলিতে দাম আরও চড়ার আশঙ্কা করছেন পোলট্রি শিল্পের সঙ্গে জড়িতরা।

    আসল চাপ ভুট্টায়

    ডিমের দাম বাড়ার নেপথ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মুরগির খাবারের খরচ বৃদ্ধি। NECC-এর মতে, পোলট্রি শিল্পের মোট উৎপাদন খরচের ৬৫-৭০% ব্যয় হয় খাবারে। আর সেই খাবারের অন্যতম প্রধান উপাদান হলো ভুট্টা।

    তিন বছর আগে এক টন ভুট্টার দাম ছিল প্রায় ১৪,০০০ টাকা। এখন তা বেড়ে প্রায় ২৬,৫০০ টাকা হয়েছে। শুধু গত পাঁচ মাসেই দাম বেড়েছে প্রায় ২০%। ফলে মুরগি পালনের খরচ বেড়েছে, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত ডিমের দামে পড়ছে।

    ইথানলের জন্যই কি ভুট্টার টান?

    ভুট্টা দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটেই উঠে আসছে ইথানল তৈরির বিষয়টি। পেট্রলে ইথানল মেশানোর সরকারি কর্মসূচির আওতায় মিশ্রণের হার এখন ২০%-এ পৌঁছেছে। ফলে ইথানল তৈরিতে ভুট্টা ও আখের ব্যবহারও বেড়েছে।

    The Economic Times-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, NECC-এর এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, দেশের মোট ভুট্টা উৎপাদনের প্রায় ৩৭% এখন ইথানল কারখানায় যাচ্ছে। সংসদের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে প্রায় ৪.৩৪ কোটি টন ভুট্টা উৎপাদন হয়। তার মধ্যে প্রায় ১.৭ কোটি টন এখন ইথানল তৈরিতে ব্যবহার হচ্ছে।

    ভুট্টা-ভিত্তিক ইথানল উৎপাদনও দ্রুত বেড়েছে। ইথানল তৈরিতে ভুট্টার ব্যবহার বৃদ্ধির পরিসংখ্যান—

    ২০২২: প্রায় ১০ লক্ষ টন
    ২০২৪: ৬০ লক্ষ টনের বেশি
    ২০২৬: প্রায় ১.৭ কোটি টন
    ২০৩০: শিল্পের অনুমান অনুযায়ী ২.৫ কোটি টন পর্যন্ত হতে পারে।

    দেশের মোট ভুট্টার প্রায় ৬০% পোলট্রি শিল্পে ব্যবহৃত হয়। ফলে একই ভুট্টার জন্য এখন ইথানল কারখানা ও পোলট্রি শিল্পের মধ্যে সরাসরি প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে।

    শুধু ইথানলই দায়ী নয়

    তবে ডিমের দাম বৃদ্ধির একমাত্র কারণ ইথানল নয়। এক পোলট্রি শিল্প কর্তা The Economic Times-কে জানিয়েছেন, গরমে মুরগির অসুস্থতা, মৃত্যুহার, আবহাওয়ার সমস্যা এবং আমদানি করা খাবারের উপকরণের দামও উৎপাদন খরচ বাড়াচ্ছে। অর্থাৎ ভুট্টার সঙ্কটের সঙ্গে আরও কয়েকটি কারণ যোগ হয়ে ডিমের বাজারে চাপ তৈরি করছে।

    এর প্রভাব শুধু ডিমে সীমাবদ্ধ থাকছে না। ভুট্টার সরবরাহ কমে যাওয়ায় ভারত, যা একসময় বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের মতো দেশে ভুট্টা রপ্তানি করত, এখন আমদানির দিকেও ঝুঁকছে। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে দেশের ভুট্টা আমদানি রেকর্ড ১০ লক্ষ টনে পৌঁছেছিল। বর্তমানে প্রায় ৫ লক্ষ টন ভুট্টা আমদানি হচ্ছে বলে শিল্পমহলের দাবি।

    রান্নাঘরের আরও কয়েকটি পণ্যে চাপ

    ডিমের পাশাপাশি আরও কয়েকটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও বাড়ছে। ২৪ অগস্ট দেশের গড় খুচরো পেঁয়াজের দাম বছরে ৫৯% বেড়ে ৪৩.৫৩ টাকা কেজি হয়েছে। পরিস্থিতি সামলাতে সরকার ‘কান্দা এক্সপ্রেস’-এর মাধ্যমে পেঁয়াজ পাঠাচ্ছে।

    মহারাষ্ট্র ও উত্তরপ্রদেশে গত পনেরো দিনে গুড়ের দাম প্রায় ২৫% বেড়েছে বলে The Economic Times-এর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। উৎসবের মরসুম সামনে থাকায় এই দাম আরও বৃদ্ধির আশঙ্কাও রয়েছে।

    এ দিকে গত এক মাসে ভোজ্যতেলের দামও প্রায় ১৫% বেড়েছে। খুচরো বাজারে বেশ কিছু তেলের দাম লিটারপিছু ২০০ টাকার উপরে পৌঁছেছে।
  • Link to this news (এই সময়)