রাখিপূর্ণিমায় আয়োজন করা হয়েছিল শাড়ি বিলির। রক্ষাবন্ধন উপলক্ষে আয়োজিত ওই শাড়ি বিতরণ অনুষ্ঠানে ভিড়ের চাপে পিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে এক মহিলার বলে অভিযোগ। উত্তরপ্রদেশের বরেলি জেলার ঘটনা। ওই শাড়ি বিতরণের আয়োজন করেছিল এলাকার মেয়র উমেশ গৌতম এবং তাঁর ছেলে পার্থ গৌতমের সংস্থা। এই শাড়ি বিতরণ নিয়ে আগে থেকে তাঁদের কিছু জানানো হয়নি বলে জানিয়েছেন বরেলির পুলিশ সুপার মনুশ পারেখ।
পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে খবর, মৃতের নাম মধু সিং (৪৫)। শুক্রবার, পরিবারের লোকজন জানিয়েছেন, বরেলি ক্লাবে ওই শাড়ি বিতরণের আয়োজন করেন এলাকার মেয়র। তাঁর ছেলের সংস্থার তরফে ওই শাড়ি বিতরণ অনুষ্ঠান হয়। সেখানে ভিড়ের চাপে মৃত্যু হয় মধু সিং-এর। ওই দিন তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। পরিবারের অভিযোগ, মধুর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে অনেক দেরিতে জানানো হয়েছিল তাঁদের।
বারাদারি থানা এলাকার সাতিপুর কলোনির চন্দ্রগুপ্তপুরমের বাসিন্দা মধু সিং রক্ষাবন্ধন উপলক্ষে শাড়ি সংগ্রহ করতে সেই অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন। তাঁর ভাইপো তথা বিজেপি পূর্ব মণ্ডল-এর সভাপতি রাজা টোমার জানিয়েছেন, সকাল ১০টা নাগাদ মধুকে সেখানে ছেড়ে দিয়ে আসেন তিনি। আর দুপুর দেড়টা নাগাদ ফোন করে জানানো হয় ভিড়ের চাপে অসুস্থ হয়ে পড়ায় মিশন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁর কাকিমাকে।
ওই পরিবার এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, একাধিক মহিলা একসঙ্গে শাড়ি নিয়ে যাওয়ার ফলে সেখানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। শাড়ি নেওয়ার জন্য অতিরিক্ত ভিড় হয়। এই কারণে শুরু হয় হুড়োহুড়ি। যদি আধিকারিকরা জানিয়েছেন, এই অনুষ্ঠান নিয়ে আগে থেকে কিছু জানানো হয়নি তাঁদের। অনেক মহিলাই একে অপরের উপর পড়ে যাওয়ার কারণে গুরুতর আহত হন মধু।
যদিও, সুষ্ঠুভাবে এবং কোনও রকম বিশৃঙ্খলা ছাড়াই শেষ হয় ওই শাড়ি বিতরণ অনুষ্ঠান বলে দাবি করেছেন বরেলির মেয়র।
এই নিয়ে কোনও অভিযোগ তাঁদের কাছে আসেনি বলে জানিয়েছেন বরেলির জেলাশাসক অবিনাশ সিং। তবে বরেলি শহরের পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, আগে থেকে পুলিশকে এই নিয়ে কিছু জানানো হয়নি। তবে বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়ার পরেই সেখানে যায় পুলিশ। এই নিয়ে কোনও অভিযোগ দায়ের হলে তা তদন্ত করে দেখা বলেও জানিয়েছেন তিনি।