• পুরুলিয়া জুড়ে ইউরিয়ার আকাল, ক্ষোভ কৃষকদের, সঙ্কটে আমন চাষ
    এই সময় | ২৯ আগস্ট ২০২৬
  • এই সময়, পুরুলিয়া: আমন চাষের মরশুমের গোড়াতেই পুরুলিয়া জেলা জুড়ে দেখা দিয়েছে ইউরিয়া সারের আকাল। এক বস্তা সারের জন্য কোথাও মাঝরাত থেকে দোকানের সামনে লাইন পড়ছে। কোথাও বা দোকানে গিয়ে কৃষকদের শুনতে হচ্ছে সার নেই। কোথাও আবার একবস্তা সার জোগাড় করতে দিন কাবার হয়ে যাচ্ছে। সার না-পেয়ে বিভিন্ন জায়গায় ক্ষুব্ধ কৃষকরা রাস্তা অবরোধও করছেন।

    সারের দাবিতে শুক্রবার সকাল থেকে পুরুলিয়া-বরাবাজার রাস্তার মানপুর মোড় অবরোধ করেন কৃষকরা। শুক্রবার শেষরাত থেকেই বরাবাজারের মানপুরে একটি সার বিক্রয়কেন্দ্রের সামনে কৃষকদের ভিড় জমে।

    সকালে সেখানে সার মিলবে না জানতে পেরে তাঁরা রাস্তা অবরোধ করেন। পরে পুলিশ-প্রশাসনের তরফে সার দেওয়া হবে বলে জানানো হলে অবরোধ ওঠে। তবে সার সবাই পাননি, অনেককেই খালি হাতে ফিরে যেতে হয়। ওই বিক্রয়কেন্দ্রের তরফে স্বপন কুম্ভকার বলেন, '২৮০ বস্তা সার পেয়েছিলাম। টোকেনের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে।' দিন দুয়েক আগে একই কারণে চাষমোড়-তুলিন রাজ্য সড়কের জয়পুরে ও গত শনিবার আড়শায় রাস্তা অবরোধে শামিল হয়েছিলেন কৃষকরা।

    শুকুরহুটু গ্রামের অশ্বিনী রুইদাস, কাইপাড়া গ্রামের শশধর মাহাতোরা এ দিন বলেন, 'দু'দিন ধরে বলা হচ্ছিল, মানপুরের বিক্রয়কেন্দ্র থেকে সার দেওয়া হবে। তাই রাত থাকতে গিয়ে লাইন দিই। বেলা বাড়লে জানতে পারি, আজও সার মিলবে না।' কাশীপুরের পাড়াশোল গ্রামের বাসিন্দা পবিত্র মাহাতো বলেন, 'এলাকার যে দোকানে যাচ্ছি, সেখানেই বলছে সার নেই।' আর এক কৃষক জয়শঙ্কর মাহাতো বলেন, 'এলাকায় সার পাওয়াই যাচ্ছে না। কৃষি দপ্তরকে সারের ব্যবস্থা করতে হবে।' কাশীপুরের বিধায়ক কমলাকান্ত হাঁসদা বলেন, 'সমস্যার কথা কানে এসেছে। কৃষি দপ্তরের সঙ্গে কথা বলছি।'

    আড়শা, ঝালদাতেও একই চিত্র। আড়শার বামুনডিহা গ্রামের দেবীলাল মাহাতো বলেন, 'এলাকায় ইউরিয়া সার নেই। পুরুলিয়া শহর থেকে কিনেছি। সাতসকালে লাইনে দাঁড়িয়েছিলাম। বিকেলে পেয়েছি।' একই অভিজ্ঞতা ঝালদা-১ ব্লকের কড়াডি গ্রামের সৃষ্টিধর কুইরির। দিনভর লাইনে দাঁড়িয়ে তিনি সার পেয়েছেন। আবার এলাকায় সার না-মেলায় পুরুলিয়া-১ ব্লকের গাড়াফুসড় গ্রামের বাসিন্দা সন্তোষ মাহাতোকে কালোবাজারে সার জোগাড় করতে হয়েছে ঝাড়খণ্ড থেকে।

    জেলা কংগ্রেস সভাপতি তথা প্রাক্তন বিধায়ক নেপাল মাহাতো বলেন, 'বোঝাই যাচ্ছে, কোনও পরিকল্পনা নেই। আমাদের প্রশ্ন, কেন এই অবস্থা তৈরি হবে!' জেলা বিজেপি সভাপতি শঙ্কর মাহাতোর বক্তব্য, 'কৃষকরা যাতে সার পান, প্রশাসনকে তা নিশ্চিত করতে বলেছি। কিছু সমস্যা হয়তো হচ্ছে। আগামিদিনে মিটে যাবে।' পুরুলিয়া জেলা এগ্রিকালচারাল ইনপুট ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের জেলা সভাপতি মৃত্যুঞ্জয় গড়াই বলেন, 'আমাদের কাছে যেমন মাল আসছে, আমরা সেভাবেই বিধি মেনে চাষিদের দিচ্ছি।' এ বিষয়ে জেলা কৃষি দপ্তরের কেউ কিছু বলতে চাননি।

  • Link to this news (এই সময়)