• সেটিং করেছে কালীঘাটই, আক্রমণে বিদ্রোহী শিবির
    এই সময় | ২৯ আগস্ট ২০২৬
  • এই সময়: বিজেপির সঙ্গে কার সেটিং, তৃণমূল ছাত্র পরিষদের (টিএমসিপি) প্রতিষ্ঠা দিবসে তা নিয়ে আকচাআকচি চলল দুই তৃণমূূলের সভা থেকে। শুক্রবার কালীঘাট–তৃণমূল এবং বিদ্রোহী তৃণমূল দুই শিবিরই একে অন্যের বিরুদ্ধে রাজ্যের শাসকদলের সঙ্গে সেটিং করে চলার অভিযোগ ত‍ুলল। বিজেপি অবশ্য দুই তৃণমূলকে একই সুরে ‍নিশা‍না করে পাল্টা বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছে, তারা জোড়াফুলের কোনও গোষ্ঠীর সঙ্গেই নেই।

    ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বিদ্রোহী তৃণমূল শিবির বিজেপির হাতের তামাক খাচ্ছে বলে আগাগোড়াই কালীঘাট–তৃণমূলের অভিযোগ। শুক্রবার ক্যাথিড্রাল রোডে টিএমসিপির প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠান থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফের বিজেপির সঙ্গে বিদ্রোহী তৃণমূলের সেটিংয়ের অভিযোগ তুলেছেন। নাম না–করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘কিছু দলদাস পুষেছেন! ভাবছেন, দলদাসরা আপনাদের সাপোর্ট দিয়ে যাবে। আগামী দিন ওরাই প্রথমে বিট্রে করবে। গদ্দার যে একবার হয় সে চিরকাল গদ্দার হয়।’ রাজনৈতিক মহলের মতে, ‘দলদাস’ বলতে মমতা বিদ্রোহী তৃণমূলের কথাই বোঝাতে চেয়েছেন। তিনি বুঝিয়েছেন, বিজেপির সঙ্গে সেটিং করেই চলছেন ঋতব্রত, ফিরহাদ হাকিমরা।

    এ দিকে, বিদ্রোহী তৃণমূলও এ দিন রানি রাসমণি অ্যাভিনিউয়ে তাদের অনুগামী টিএমসিপির কর্মসূচি থেকে প্রমাণ করার চেষ্টা করেছে, বিজেপির সঙ্গে তাদের নয়, সেটিং আছে কালীঘাট–তৃণমূলের। বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, ‘গত সরকারের আমলে হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। মুখ্যমন্ত্রী বলছেন, দুর্নীতি নিয়ে বিধানসভায় আলোচনা হবে। অথচ এই দুর্নীতির মাথায় যাঁরা রয়েছেন, তাঁরা বহাল তবিয়তে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। ফলে প্রশ্ন উঠছে সেটিং কত গভীরে?’

    ঋতব্রতর দাবি, তাঁদের সঙ্গে তৃণমূলের যে নেতা–কর্মীরা আছেন, তাঁরাই আক্রান্ত হচ্ছেন। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের আরামবাগ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি উত্তম কুণ্ডু জেলে আছেন। আমাদের বিধায়ক সমীর পাঁজা তিন মাস বাড়ি ঢুকতে পারেননি। আমাদের সঙ্গে সেটিং, আর আমাদের নেতারাই বাড়ি ফিরতে পারছেন না— এটা কী ভাবে সম্ভব? আমাদের দলের নেত্রী সাবিনা ইয়াসমিনের স্বামীকে প্রতিদিন পুলিশ ডেকে পাঠাচ্ছে। আমাদের বিধায়ক শিউলি সাহাকে মুখ্যমন্ত্রীর আহ্বানে সরকারি কর্মসূচিতে চূড়ান্ত হেনস্থা করা হয়েছে।’

    ঋতব্রতর প্রশ্ন, ‘কালীঘাট–তৃণমূলের লোকরা বহাল তবিয়তে আছেন। সরকার কেন দুর্নীতিগ্রস্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না?’ রাজ্য বিজেপির প্রধান মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার অবশ্য দুই তৃণমূলকে একই বন্ধনীতে ফেলে বলেন, ‘কুচকুচে সাদা আর ধবধবে কালো, তৃণমূলের কেউ নয় ভালো।’

  • Link to this news (এই সময়)