• বিটি রোডের তীব্র জ্যাম এ বার অতীত, বরাহনগর-ব্যারাকপুর মেট্রো গতি আনবে অর্থনীতিতেও
    এই সময় | ২৯ আগস্ট ২০২৬
  • কলকাতা মেট্রোয় নতুন লাইন নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে। দীর্ঘ অপেক্ষার পরে জট কাটার ইঙ্গিত এসেছে বরাহনগর-ব্যারাকপুর মেট্রো লাইন নিয়ে। প্রস্তাবিত এই পিঙ্ক লাইন (Pink Line) নিয়ে সবুজ সঙ্কেত দিয়েছে প্রশাসন। তার পর থেকেই আশায় বুক বাঁধতে শুরু করেছেন উত্তর ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ এলাকা এবং কলকাতা উত্তর শহরতলির বাসিন্দারা। ব্যারাকপুর থেকে কলকাতায় নিত্য যাতায়াতের জন্য এখনও পর্যন্ত প্রধানত ২টি উপায় রয়েছে। একটি হলো রেলপথ, অন্যটি সড়ক পথ — বিটি রোড। অফিস টাইমে এই রাস্তায় গাড়ির চাপে প্রতিদিন ভোগান্তি হয় নিত্যযাত্রীদের। তাঁদের আশা, মেট্রো যদি চালু হয়ে যায়, তাহলে প্রতিদিনের যাতায়াত অনেকটাই সুগম হবে। যেমনটা হয়েছে গ্রিন লাইনের ক্ষেত্রে অথবা হয়েছে ব্লু লাইন সম্প্রসারিত হয়ে বা পার্পল লাইনে।

    এই রুটে সব মিলিয়ে ১১টি স্টেশন তৈরি হওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। একদিকে ব্যারাকপুর এবং অন্যদিকে বরাহনগর। মাঝে সোদপুর, পানিহাটি-সহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় হবে স্টেশন। সেই তালিকায় রয়েছে কামারহাটি, আগরপাড়া, সুভাষনগর, খড়দা, টাটা গেট, টিটাগড় ইত্যাদি।

    মেট্রো কর্তৃপক্ষের তরফে এখনই নির্দিষ্ট কোনও সময় বলা হয়নি। তবে মেট্রোর অন্দরের খবর, ২০৩০ সালের মধ্যে গোটা প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। তারপরে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া পেরিয়ে আর ১-২ বছরের মধ্যে পুরোদমে যাতায়াত চালু করার ভাবনা রয়েছে।

    ব্লু ও গ্রিন লাইনের মধ্যে যে ভাবে মেট্রো বদল করা যায়, সেই পদ্ধতিতেই ব্লু ও পিঙ্ক লাইন সংযুক্ত হবে বলে সূত্রের খবর। এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বরাহনগর স্টেশন। কারণ ব্লু লাইনের অন্যতম স্টেশন এটি। এখানে নেমে লাইন বদলে নিতে পারবেন ব্লু লাইন ও পিঙ্ক লাইনের যাত্রীরা। প্রতিদিন ব্যারাকপুর থেকে পার্কস্ট্রিটে অফিস করতে যান গৌরব সিং। পিঙ্ক মেট্রোর খবর শুনে খুশি তিনি। গৌরব বলছেন, ‘রোজ বিটি রোডের জ্যাম ঠেলে যাতায়াত করতে হয়। মেট্রো হলে খুব সুবিধা হবে।’ কলকাতা এবং সল্টলেকের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে চাকরি ও পড়াশোনার জন্য বহু লোক সোদপুর-ব্যারাকপুর থেকে প্রতিদিন যান। দীর্ঘ দিনের অপেক্ষাশেষে তাঁদের জন্য এই খবর আশার আলো বলেই মত গৌরবের।

    কোনও এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হলে, সেই অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গতি পায়। ব্যারাকপুর উত্তর ২৪ পরগনা জেলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। মেট্রোর মাধ্যমে ব্যারাকপুর পর্যন্ত বিস্তীর্ণ জনপদ কলকাতা, দক্ষিণ কলকাতা শহরতলি, সল্টলেক, শিয়ালদহ ও হাওড়ার সঙ্গে সহজে সংযুক্ত হবে। এর ফলে বরাহনগর থেকে ব্যারাকপুর এলাকা পর্যন্ত রিয়েল এস্টেট, মেডিক্যাল সেক্টর থেকে শুরু করে আরও নানা ক্ষেত্রে উন্নতির আশা দেখছেন ব্যবসায়ীরা।

    পূর্তি রিয়েলটির (Purti Realty) এমডি মহেশ আগরওয়ালের মতে, ‘উত্তর কলকাতা এবং লাগোয়া শহরতলি এলাকার চেহারা বদলে দিতে পারে বরাহনগর-ব্যারাকপুর মেট্রো করিডর। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হওয়ায় সময় কম লাগবে। তার ফলে আবাসন শিল্প থেকে শুরু করে বাণিজ্যিক ক্ষেত্রেও নতুন সুযোগ আসবে।’ তিনি মনে করেন, এমনটা হলে তার হাত ধরে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, হসপিটালিটির মতো অন্য সেক্টরগুলিও গতি পাবে এই এলাকায়। বিশেষত রিয়েল এস্টেট সেক্টরের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলছেন, ‘যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হলে সেটা উন্নয়নে গতি আনে। তার ফলে নাগরিক পরিষেবা যেমন বৃদ্ধি পাবে, তেমনই গোটা এলাকার অর্থনীতিও এগোবে।’

    একই মত এনকে রিয়েলটর্স (NK Realtors)-এর রিসার্চ ও ব্র্যান্ড ডেভেলপমেন্টের জিএম কুণাল সেনগুপ্তর। তিনি বলছেন, ‘বিটি রোড ধরে বরাহনগর-ব্যারাকপুর এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই পরিকাঠামোগত উন্নয়নের অপেক্ষায় ছিল। রিয়েল এস্টেটের দিক থেকে দেখতে গেলে এই বিস্তীর্ণ এলাকার অনেক সম্ভাবনা রয়েছে।’ তাঁর মতে, কলকাতার কাছে হলেও এই এলাকা গত কয়েক দশক ধরে সে ভাবে পরিকাঠামোগত উন্নয়ন দেখেনি। নরেন্দ্রপুর-কামালগাজি এবং জোকার মেট্রোর প্রসঙ্গ টেনে কুণাল বললেন, এই মেট্রো করিডর রিয়েল এস্টেট সেক্টরের চাহিদা বৃদ্ধি করবে।

    পিঙ্ক লাইন নিয়ে যথেষ্ট আশাবাদী দিশা আই হসপিটালের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ড. দেবাশিস ভট্টাচার্য। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির হাত ধরে স্বাস্থ্য পরিষেবা আরও বেশি নাগরিকের কাছে সহজলভ্য হবে বলে তাঁর মত। তিনি বলেন, ‘ব্যারাকপুরের দিশা আই হসপিটালে উত্তর কলকাতা ও লাগোয়া এলাকা থেকে প্রতিদিন বহু রোগী আসেন। তাঁদের জন্য খুব সুবিধা হবে।’

  • Link to this news (এই সময়)