সুগত বন্দ্যোপাধ্যায়
রাজ্য সরকারি কর্মীদের একাংশ ইতিমধ্যেই বকেয়া ডিএ পেয়েছেন। কিন্তু শিক্ষক, অধ্যাপক, পুর ও পঞ্চায়েত, সমবায়ের কর্মী–সহ গ্রান্ট–ইন–এড অর্থাৎ সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত কর্মীরা এখনও বকেয়া ডিএ পাননি। এ নিয়ে ক্ষোভ বেড়েছে। শিক্ষকদের একটি সংগঠন কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থও হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, কবে এই সব ক্ষেত্রের কর্মী এবং পেনশনাররা বকেয়া ডিএ পাবেন? এ নিয়ে কোনও সদুত্তর এখনও রাজ্য সরকারের তরফে মেলেনি। তবে সূত্রের খবর, এই সব গ্রান্ট–ইন–এড কর্মীদের ডিএ পাওয়ার ক্ষেত্রে অসুবিধা তৈরি করছে তাঁদের ম্যানুয়াল সার্ভিস রেকর্ড। এই তালিকায় থাকা যে সব সরকারি কর্মী ব্যাঙ্ক থেকে পেনশন তোলেন, তাঁদের বড় অংশের সার্ভিস রেকর্ডও সরকারের কাছে নেই, তাই চাইলেও এই কর্মীদের বকেয়া ডিএ মেটাতে পারছে না রাজ্য সরকার।
এই সমস্যার সমাধানের পথ খুঁজতে রাজ্য সরকার গ্রান্ট-ইন-এড কর্মীদের জন্য গত সপ্তাহেই একটি পোর্টাল চালু করেছে। এই পোর্টালে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে কর্মীর সার্ভিস বুক ও তিনি কত টাকা ডিএ বাবদ পাবেন, সেই হিসেব আপলোড করতে হবে। সেই হিসেব খতিয়ে দেখবে অর্থ দপ্তর। তাতে যদি কোনও ভুল–ত্রুটি না থাকে, তা হলে দ্রুত সেই কর্মীর প্রাপ্য ডিএ–র টাকা মিটিয়ে দেওয়া হবে। তবে এই প্রক্রিয়া কত দিনে শেষ হবে, তা নিয়ে কিছু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। কারণ এত বিপুল সংখ্যক কর্মী ও অবসরপ্রাপ্তের ডিএ–র হিসেব করা যথেষ্ট সময়সাপেক্ষ। তবে এই পোর্টাল চালু হওয়ায় এই প্রক্রিয়ায় গতি এসেছে—এমনটাই দাবি নবান্নের।
নবান্নের কর্তাদের দাবি, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সরকারি কর্মীদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মীরাও এই তালিকায় রয়েছেন। তবে গ্রান্ট-ইন-এড–এর আওতায় থাকা কর্মীদের কথা উল্লেখ করা হয়নি। তাঁরা মামলায় যুক্তও ছিলেন না। বিধানসভা ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশের আগেই বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দেওয়ার রায় দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। এর ভিত্তিতেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার তড়িঘড়ি সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে ডিও প্রাপকদের তালিকায় গ্রান্ট-ইন-এড কর্মীদের যুক্ত করে। বর্তমান রাজ্য সরকার সেই বিজ্ঞপ্তি মেনে নিয়েছে। তবে কী ভাবে এই কর্মীদের বকেয়া ডিএ মেটানো হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। বিশেষ করে শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের ক্ষেত্রে ২০০৮ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত সার্ভিস রেকর্ডের নথি পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হয়েছে। পোর্টালটির সাহায্যে সেই জটিলতা কাটানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে নবান্ন।
প্রশ্ন হলো শিক্ষক–সহ কত গ্রান্ট–ইন–এড কর্মীরা বকেয়া ডিএ পাবেন?
নবান্ন এখনও এ ব্যাপারে সঠিক তথ্য দিতে পারেনি। তবে সুপ্রিম কোর্টে রাজ্য সরকার ৫ মার্চ যে হলফনামা পেশ করেছিল, তাতে জানানো হয়েছিল অধ্যাপক, শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর সংখ্যা ৩ লক্ষ ৮৮ হাজার ৮৪ জন। পেনশনার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর সঠিক সংখ্যাটা এখনও জানা যায়নি। পুরসভা,পঞ্চায়েত–সহ বিভিন্ন সংস্থার কর্মীর সংখ্যা ৫৫ হাজার ৭২৮।
বকেয়া পাওয়ার ক্ষেত্রে আরও একটি অসুবিধার কারণ ব্যাঙ্কের অসহযোগিতা। কলকাতায় বিভিন্ন ব্যাঙ্ক থেকে পেনশন তোলেন, এমন সরকারি কর্মীরাও বকেয়া ডিএ পাচ্ছেন না। রাজ্য সরকার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জানিয়েছিল, ৭ জুলাইয়ের মধ্যে ৫০ শতাশ বকেয়া দেওয়া হবে। রাজ্য সরকারের হিসেব মতো কলকাতার বিভিন্ন ব্যাঙ্ক থেকে ৪৫ হাজার অববসরপ্রাপ্ত কর্মী বা তাঁদের পরিবার পেনশন পান। রাজ্য সরকার ব্যাঙ্কগুলিতে এজি বেঙ্গলের সুপারিশ মতো পেনশনের টাকা পাঠিয়ে দেয়। তবে ব্যাঙ্কগুলি ২০০৮ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত ডিজিটাজড নথি দিচ্ছে না। এ নিয়ে ব্যাঙ্কের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেও এ পর্যন্ত মাত্র ১৩ হাজার অবসরপ্রাপ্ত কর্মী বা তাঁদের পরিবার বকেয়া ডিএ পেয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে কলকাতার ব্যাঙ্ক থেকে পেনশন দেওয়ার প্রক্রিয়ারও পরিবর্তন করছে রাজ্য সরকার। ঠিক হয়েছে, ব্যাঙ্কের বদলে সংশ্লিষ্ট ট্রেজারি থেকে পেনশন দেওয়া হবে। যাতে সব নথি সরকারের কাছে থাকে।