নেপালে ভয়াবহ হড়পা বানে নিখোঁজ প্রয়াত রাজনীতিবিদ মুকুল রায়ের পুত্রবধূ শর্মিষ্ঠা ভৌমিক রায়। মঙ্গলবার তাঁর সঙ্গে শেষ কথা হয়েছিল স্বামী শুভ্রাংশুর। তার পর থেকে আর যোগাযোগ করা যায়নি শর্মিষ্ঠার সঙ্গে। উৎকণ্ঠায় রয়েছে রায় পরিবার। এর মধ্যেই শুক্রবার শুভ্রাংশু ও তাঁর মেয়ের সঙ্গে ভিডিয়ো কলে কথা বললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্য সরকারের তরফে সব রকম ভাবে রায় পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
রায় পরিবার সূত্রে খবর, গত ২১ অগস্ট একটি ভ্রমণ সংস্থার সঙ্গে কৈলাস-মানসসরোবরে গিয়েছিলেন শর্মিষ্ঠা। সেখানে পৌঁছনোর পরে শুভ্রাংশুর সঙ্গে নিয়মিত কথা হতো তাঁর। মঙ্গলবার রাতেও ফোনে শুভ্রাংশুর সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ কথা বলেন শর্মিষ্ঠা। পরের দিন নেপালে হড়পা বান নামে। তার পরেই বদলে যায় পরিস্থিতি। হড়পা বানের খবর পাওয়ার পরেই স্ত্রীকে ফোন করেছিলেন শুভ্রাংশু। কিন্তু আর যোগাযোগ করতে পারেননি।
ঘটনার পর থেকে উৎকন্ঠায় রয়েছেন শুভ্রাংশু। তিনি বলেন, ‘নিখোঁজ তালিকায় আমার স্ত্রীর নাম রয়েছে। ছেলেমেয়ে যায়নি। আমার সঙ্গেই রয়েছে। প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করছি।’ ৭ সেপ্টেম্বর শর্মিষ্ঠার ফেরার কথা ছিল বলে জানিয়েছেন তিনি।
রাজ্য সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী নেপালের এই দুর্যোগের পর থেকে পশ্চিমবঙ্গের অন্তত ৩৬ জন পর্যটক নিখোঁজ। তাঁদের মধ্যে অন্তত ৩১ জন কলকাতার বাসিন্দা। শুক্রবার রাতে নিখোঁজ পর্যটকদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ভিডিয়ো কনফারেন্সে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্য সরকারের তরফে তাঁদের পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। ওই সময়েই শুভ্রাংশু এবং তাঁর মেয়ের সঙ্গে কথা বলেন শুভেন্দু।
মুখ্যমন্ত্রীর কাছে চিন ও তিব্বত প্রশাসনের পদক্ষেপ ও উদ্ধারকাজ নিয়ে জানতে চান শুভ্রাংশু। জবাবে শুভেন্দু জানিয়েছেন, ভারত সরকার নিয়মিত চিন, তিব্বত ও নেপাল সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলছে। নিখোঁজদের ফিরিয়ে আনাই প্রধান লক্ষ্য বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। উল্লেখ্য, শনিবার সকাল পর্যন্ত ৫৭৯ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। এখনও নিখোঁজ ১৯২৪ জন। এর মধ্যে ৫১৭ জন বিদেশি নাগরিক।