সংবাদদাতা, হরিশ্চন্দ্রপুর: সরকারি আবাস প্রকল্পের সমীক্ষায় টাকা চাওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুক্রবার উত্তেজনা ছড়াল হরিশ্চন্দ্রপুর-২ ব্লকের মালিওর-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের বেলসুর গ্রামে। যোগ্য উপভোক্তাদের বাড়ি বাড়ি সমীক্ষা করার নামে দুই থেকে চার হাজার টাকা চাওয়ার অভিযোগ তুলে শুক্রবার বিক্ষোভ দেখালেন গ্রামবাসীরা। তাঁদের অভিযোগ, টাকা দিতে না পারায় প্রকৃত গরিব পরিবারগুলির বাড়ি সমীক্ষা করা হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আবাস সমীক্ষার নামে টাকা চাওয়ার অভিযোগে বৃহস্পতিবারই ব্লক প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন কয়েকজন গ্রামবাসী। কিন্তু অভিযোগ জানানোর পরও দ্রুত কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় শুক্রবার ক্ষোভ আরও তীব্র হয়। বিক্ষোভকারীরা অভিযুক্ত পঞ্চায়েত এগজিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট সঞ্জীব কর্মকারের বিরুদ্ধে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। অভিযোগকারীদের দাবি, আবাস প্রকল্পের জন্য তাঁরা যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও টাকা দিতে না পারায় তাঁদের বাড়িতে সমীক্ষা করা হয়নি। অন্যদিকে টাকা দিতে পারছে এমন বাড়িতে সমীক্ষা করা হচ্ছে।
বেলসুরের বাসিন্দা আলিয়া বিবি, মাস্তারা বিবিদের অভিযোগ, আমাদের কাঁচা বাড়ি। সার্ভে করার জন্য দুই থেকে চার হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে। টাকা দিতে পারিনি বলে আমাদের বাড়ির সার্ভে করা হয়নি। অথচ পাকা বাড়ি থাকা পরিবারের বাড়িও টাকার বিনিময়ে সার্ভে করা হচ্ছে। হরিশ্চন্দ্রপুর-২ পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য আরজাউল হক বলেন, বিষয়টি নিয়ে ব্লক প্রশাসনের কাছে একাধিকবার অভিযোগ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার গ্রামবাসীরাও লিখিত অভিযোগ করেছেন। প্রকৃত যোগ্য উপভোক্তারা টাকা দিতে না পারায় বঞ্চিত হচ্ছেন। প্রশাসনের উচিত দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া।
পঞ্চায়েতের এগজিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট সঞ্জীব কর্মকার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বলেন, নিয়ম মেনেই আবাস সমীক্ষার কাজ চলছে। টাকা নেওয়ার অভিযোগ ভিত্তিহীন। হরিশ্চন্দ্রপুর-২ ব্লকের এক আধিকারিক বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা কতটা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।