তৃণমূল চা শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা দল ছাড়ছেন, ঘর গোছানোর সুযোগ বিজেপির!
বর্তমান | ২৯ আগস্ট ২০২৬
রবীন রায়, আলিপুরদুয়ার: রাজ্যে পালা বদলের পর তৃণমূল চা শ্রমিক ইউনিয়ন কার্যত নির্মূল হওয়ার মুখে। একে একে সংগঠন ছেড়ে চলে যাচ্ছেন তৃণমূলের চা শ্রমিক সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির হেভিওয়েট নেতারা। তৃণমূল চা শ্রমিক সংগঠনের এই শূন্যতার সুযোগে রাজ্যের বর্তমান শাসকদল বিজেপির চা শ্রমিক সংগঠন বিটিডব্লুইউয়ের চা বলয়ে ঘর গোছানোর সুযোগ রয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। যদিও বিটিডব্লুইউয়ের সেই সম্ভবনা কতটা আছে তা সময়েই বলবে। আগামীকাল দুবেলাই আমি দোকানে আছি।
বিটিডব্লুইউ নেতৃত্বের অবশ্য দাবি, বিগত শাসকদলের চা শ্রমিক ইউনিয়নের এই ছন্নছাড়া অবস্থায় চা বলয়ে তাঁদের সংগঠনের শ্রীবৃদ্ধি ঘটবে। গত ২১ তারিখ শিলিগুড়িতে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের হাত ধরে কংগ্রেসে যোগ দেন তৃণমূল চা শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান নকুল সোনার। কংগ্রেস প্রভাবিত চা শ্রমিক সংগঠন এনইউপিডব্লুতে নকুলবাবুর যোগদান এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা মাত্র। নকুলবাবুর সঙ্গেই কংগ্রেসে যোগ দিয়েছিলেন তৃণমূল চা বাগান শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি তবারক আলি ও ওমদাস লোহারও। অন্যদিকে, ভোটে হারার পরেই তৃণমূল চা বাগান শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক রবীন রাই পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। যদিও রবীনবাবুর ইস্তফা এখনও গৃহীত হয়নি। আর ভোটে হারার পর থেকেই তৃণমূলের চা শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি বীরেন্দ্র বরা ওরাওঁ অন্তরালে চলে গিয়েছেন।
রবীন রাই বলেন, ভোটে হারার পরেই আমি সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছি। কিন্তু, আমার ইস্তফাপত্র এখনও গৃহীত হয়নি। আমি ইস্তফা দেওয়ার পর বাম ও বিজেপির চা শ্রমিক সংগঠনে যোগ দেওয়ার ডাক এসেছিল। কিন্তু, যাইনি।
সব মিলিয়ে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির মাথারা একে একে সরে যাওয়ায় চা বলয়ে বর্তমানে নির্মূল হওয়ার পথে তৃণমূল চা বাগান শ্রমিক ইউনিয়ন। সংগঠনের এই শূন্যতায় চা বলয়ে বিজেপির চা শ্রমিক সংগঠন কতটা বাড়বে তা নিয়ে অবশ্য রাজনৈতিক মহলে দ্বিমত আছে। যদিও বিটিডব্লুইউয়ের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি বুদ্ধিমান টিগ্গা বলেন, বিধানসভা ভোটে হারার পর তৃণমূলের চা শ্রমিক সংগঠনের আর কোনো অস্তিত্বই নেই। ফলে চা বাগানগুলিতে নিশ্চিতভাবেই আমাদের সংগঠনের শ্রীবৃদ্ধি ঘটবে বলে আমরা মনে করছি।