• কোন পথে কোচবিহার জেলা পরিষদ? অনাস্থা বৈঠক ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে
    বর্তমান | ২৯ আগস্ট ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কোচবিহার: কোন পথে কোচবিহার জেলা পরিষদ? তা নিয়ে জেলাজুড়ে জল্পনা এখন তুঙ্গে। প্রশাসন সূত্রে খবর, আগামী সোমবার অনাস্থা বৈঠকের নোটিস জারি হতে পারে। সেই ক্ষেত্রে নতুন সভাধিপতি নির্বাচিত হবে, নাকি বোর্ড ভেঙে প্রশাসক বসবে, এনিয়েই শুরু হয়েছে জোর চর্চা। 

    প্রশাসনের এক পদস্থ কর্তা বলেন, অনাস্থা প্রস্তাব জমা পড়েছে। পশ্চিমবঙ্গ পঞ্চায়েত আইন অনুযায়ী এবার ডিভিশনাল কমিশনার চিঠি দিয়ে অনাস্থা বৈঠকের দিন ঠিক করে দেবেন। শুক্রবার সরকারি ছুটি রয়েছে। আগামী সপ্তাহের শুরুতেই অনাস্থা বৈঠক ডাকা হতে পারে।  

    জেলা পরিষদ সূত্রে খবর, এখানে নির্বাচিত বোর্ডের বিরুদ্ধে নয়, অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়েছে সভাধিপতি এবং সহকারী সভাধিপতির বিরুদ্ধে। কাজেই অনাস্থা প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে ডিভিশনাল কমিশনার প্রথমে একটি আস্থা প্রমাণের বৈঠক ডাকবেন। সেখানে সভাধিপতি, সহকারী সভাধিপতি নিজেদের শক্তিপ্রমাণ করতে না পারলে তাঁদের পদ খোয়া যাবে। সেই ক্ষেত্রে আরএকটি বৈঠক ডাকা হবে, যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলকে নতুন সভাধিপতি, সহকারী সভাধিপতি নির্বাচনের সুযোগ দেওয়া হবে। কিন্তু, সবটাই নির্ভর করছে রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর। 

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আস্থা প্রমাণের বৈঠক ডাকা হলেও সভাধিপতি, সহকারী সভাধিপতি নির্বাচনের দ্বিতীয় বৈঠকটি ডাকা নাও হতে পারে। কারণ খুব স্পষ্ট। জেলা পরিষদে বিজেপির মাত্র দু’জন সদস্য। বাকিরা তৃণমূলের। এই ক্ষেত্রে নতুন সভাধিপতি, সহকারী সভাধিপতি নির্বাচন করা হলে ক্ষমতা সেই তৃণমূল কংগ্রেসের হাতেই থেকে যাবে। তাতে রাজ্যের শাসকদল বিজেপির পক্ষে খুব একটা সুবিধাজনক কিছু হবে না। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সেই ক্ষেত্রে দ্বিতীয় বৈঠকটি না ডেকে সরাসরি প্রশাসক বসিয়ে জেলা পরিষদ চালানো হতে পারে। 

    তৃণমূল নেত্রী কর্মাধ্যক্ষ হিমানী ঈশোরের নেতৃত্বে মঙ্গলবার জেলাশাসকের কাছে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দিয়েছেন তৃণমূলের ১৯ জন সদস্য। হিমানী বলেন, শুক্রবার রাখিবন্ধন উৎসবের ছুটি। শনি, রবি ছুটি। কাজেই সোমবারের আগে অনাস্থা বৈঠক ডাকা হবে না বলেই মনে হচ্ছে। 

    এদিকে জেলা পরিষদ সূত্রে খবর, সভাধিপতি মাঝেমধ্যে অফিস আসছিলেন। কিন্তু, অনাস্থা প্রস্তাব পেশ হওয়ার পর তাঁকে আর অফিসে দেখা যায়নি। সহকারী সভাধিপতি জলিল আহমেদ সাধারণ সভার পরদিন থেকেই আর অফিস আসছেন না। কর্মাধ্যক্ষদের এক-দু’জন অফিসে এলেও, বাকিদের দেখা যাচ্ছে না।
  • Link to this news (বর্তমান)