নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: মহিষাদল ব্লকের অমৃতবেড়িয়ায় গোষ্ঠী কোন্দলে নাজেহাল বিজেপি। আগামী ১ সেপ্টেম্বর তমলুকে জেলা পার্টি অফিসে এ নিয়ে জরুরি বৈঠক করবেন কাঁথির সাংসদ তথা পূর্ব মেদিনীপুরের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিজেপি নেতা সৌমেন্দু অধিকারী। সেই বৈঠকে মহিষাদলের জেলা নেতৃত্ব, মহিষাদল-১ মণ্ডল সভাপতি এবং অমৃতবেড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ও উপপ্রধান সহ দলের ৮ সদস্য উপস্থিত থাকবেন। তার আগে দলের প্রবীণ নেতা তথা পঞ্চায়েত সমিতির বিরোধী দলনেতা রঘুনাথ পণ্ডাকে সংবাদ মাধ্যমের কাছে মুখ খুলতে নিষেধ করা হয়েছে। সৌমেন্দুবাবু উভয়পক্ষের সঙ্গে বৈঠক করে নিজেদের মধ্যে খেয়োখেয়ি বন্ধ করতে উদ্যোগী হবেন বলে দলীয় সূত্রের খবর।
অমৃতবেড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতে বিজেপির প্রধান ও উপপ্রধান নিয়ে সদস্য সংখ্যা মাত্র আটজন। সেই আটজনের মধ্যে উপপ্রধান সহ ছয় জন প্রধানের বিপক্ষে। গত ২১ আগস্ট প্রধান শুভ্রা পণ্ডার বিরুদ্ধে বিজেপির ছয় সদস্য অনাস্থা আনেন। নিজেরা কোন দল থেকে নির্বাচিত, সেই তথ্য অনাস্থা চিঠিতে উল্লেখ না করায় বিডিও ওই চিঠি বাতিল করে দিয়েছেন। তারপর ফের অনাস্থা আনা হয়েছে বলে খবর। গত তিনদিন ধরে ওই পঞ্চায়েতে বিজেপির নিজেদের মধ্যে খেয়োখেয়ি দলকে চূড়ান্ত অস্বস্তিতে ফেলে দিয়েছে। বৃহস্পতিবার দলের জেলা কমিটির আমন্ত্রিত সদস্য তথা পঞ্চায়েত সমিতির বিরোধী দলনেতা রঘুনাথ পণ্ডার বাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান পঞ্চায়েত প্রধানের পক্ষে থাকা বিজেপি কর্মীরা। পাঁচ ঘণ্টা ধরে ঘেরাও, বিক্ষোভ ও বিজেপি কর্মীদের রণংদেহি মেজাজ দেখে পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যপদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন ৭২ বছর বয়সি রঘুনাথবাবু। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক রঘুনাথবাবু রাজনীতি থেকেই সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ওই পঞ্চায়েতের বিজেপির সদস্যরা আড়াআড়িভাবে বিভাজিত হয়ে পড়েছেন। দলের প্রাক্তন জেলা সহ সভাপতি এবং বিধায়ক প্রতিনিধি দুই শিবিরের মাথায় হাত রাখায় এই দ্বন্দ্ব প্রকট হচ্ছে বলে খবর। ২০২৩ সালে ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান হন শুভ্রা পণ্ডা। রঘুনাথবাবুর ইচ্ছাতেই তাঁকে প্রধান করা হয়েছিল। কিন্তু, এখন দুজনের সম্পর্কে ফাটল ধরেছে। তার জেরেই অনাস্থা প্রস্তাব পেশ। মহিষাদলের বিধায়ক সুভাষচন্দ্র পাঁজার প্রতিনিধি বিজেপি নেতা রামকৃষ্ণ দাস বলেন, আমি অমৃতবেড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের সাংগঠনিক কাজকর্মে নাক গলাইনি, এটা মিথ্যা রটনা। তবে, গত ক’দিন ধরে যা হচ্ছে, সেটা না হলেই ভালো হতো।