বৃষ্টির জল ধরে রাখাতে উদ্যোগী নবদ্বীপ পুরসভা, তৈরি পরিকাঠামো
বর্তমান | ২৯ আগস্ট ২০২৬
সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: ভূগর্ভস্থ জলস্তর ধরে রাখা এবং ভবিষ্যতে জলসংকট মোকাবিলায় নবদ্বীপ পুরসভায় ‘ক্যাচ দ্য রেন’ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। আবাসন ও নগর বিষয়ক মন্ত্রকের উদ্যোগে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের যৌথ কর্মসূচির আওতায় এই প্রকল্পে পুরসভার ২৪টি ওয়ার্ডে সচেতনতা প্রচার চালানো হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় হোর্ডিং লাগানোর পাশাপাশি নির্মলবন্ধু ও নির্মলসাথীদের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি লিফলেট বিলি করে বৃষ্টির জল সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে।
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, ‘ক্যাচ দ্য রেন’ কর্মসূচি রাজ্যের ১২৮ পুরসভায় হচ্ছে। কিন্তু বৃষ্টির জল ধরে রাখার পরিকাঠামো তৈরির ক্ষেত্রে রাজ্যের মধ্যে কেবলমাত্র চারটি পুরসভাকে বেছে নেওয়া হয়েছে। সেগুলি হল বর্ধমান, আসানসোল, পুরুলিয়া এবং নবদ্বীপ। নদীয়া জেলার ১১টি পুরসভার মধ্যে একমাত্র নবদ্বীপ পুরসভা এই প্রকল্পের দায়িত্ব পেয়েছে।
নবদ্বীপ পুর এলাকায় মোট ১০টি জায়গায় ‘রেন ওয়াটার হারভেস্টিং’ বা বৃষ্টির জল ধরে রাখার পরিকাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত জায়গাগুলি হল নবদ্বীপ পুরসভার প্রশাসনিক ভবন, আরসিবি সারস্বত মন্দির স্কুল, আনন্দ কানন, প্রতাপনগর জ্যোতির্ময় প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মণিমালা লেন, প্রাচীন মায়াপুর তেঁতুলতলা, শ্রীচৈতন্য কলোনি, রানিরচড়া প্যাক কোম্পানি মাঠ, চটির মাঠ এবং মণিপুর ঘাট।
পুরসভা সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ১০টি প্রকল্পের মাধ্যমে বছরে প্রায় ৯২ হাজার ৪২০ কিউবিক মিটার বৃষ্টির জল সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। পরিশোধনের পর সেই জল ভূগর্ভে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে। প্রকল্পগুলির জন্য মোট ৫০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ হয়েছে। প্রতিটি পরিকাঠামোর জন্য বরাদ্দ পাঁচ লক্ষ টাকা। প্রস্তাবিত কাঠামোগুলি প্রায় ৩ মিটার বাই ৩ মিটার আকারের হবে। কাঠামোর নীচে বালি এবং ছোট বড় পাথরের স্তর থাকবে। প্রকল্পের ভবনের ছাদে জমা বৃষ্টির জল পাইপের মাধ্যমে ওই কাঠামোয় এসে পড়বে। এরপর প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায় পরিশোধিত হয়ে জল মাটির নীচে পৌঁছবে। পুরসভার দাবি, এই প্রক্রিয়ায় ভূগর্ভস্থ জলস্তর পুনরায় বৃদ্ধি পাবে।
আগামী সেপ্টেম্বর থেকে পরিকাঠামো তৈরির কাজ শুরু করে ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পগুলি চালু করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে কাঠামোগুলির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব স্বনির্ভর গোষ্ঠীর হাতে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পুর কর্তৃপক্ষের দাবি, এর ফলে স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে।
আরবান ইনফ্রাস্ট্রাকচার এক্সপার্ট শাশ্বত বিশ্বাস বলেন, নবদ্বীপে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে আগামী দিনে ভূগর্ভস্থ জলস্তর বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে। জলসংকটও অনেকটা কমবে। রাজ্যের ১২৮টি পুরসভার মধ্যে নবদ্বীপ নির্বাচিত হওয়ায় আমরা খুশি। দ্রুত পরিকাঠামো তৈরি করে তা সাধারণ মানুষের কাজে লাগানোই আমাদের লক্ষ্য।
পুরসভা কর্তৃপক্ষের দাবি, ক্রমশ কমতে থাকা ভূগর্ভস্থ জলস্তর এবং ভবিষ্যতে জলসংকটের আশঙ্কার কথা মাথায় রেখেই বৃষ্টির জল সংরক্ষণে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নবদ্বীপে এই প্রকল্পকে একটি মডেল প্রকল্প হিসেবে গড়ে তোলারও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।