• ধনেখালিতে বাবা-মা, মেয়ের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার, দেওয়ালে সুইসাইড নোট, অপবাদেই আত্মঘাতী? তদন্তে পুলিশ
    বর্তমান | ২৯ আগস্ট ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: একই পরিবারের তিন সদস্যের অস্বাভাবিক মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল ধনেখালিতে। শুক্রবার দুপুরে সেখানকার সোমশপুর দুলেপাড়ার একটি বাড়ি থেকে বাবা, মা ও কিশোরীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছে। তিনজনেই সিলিং ফ্যানের সঙ্গে শাড়ি, ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলছিলেন। এদিন অনেক বেলা পর্যন্ত ওই পরিবারের সাড়াশব্দ না পাওয়ায় প্রতিবেশীরা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ এসে দরজা ভেঙে তিনজনের মৃতদেহ উদ্ধার করে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, ঘরের দেওয়ালে লেখা ‘সুইসাইড নোট’ পাওয়া গিয়েছে। সেখানে তিনজনের মৃত্যুর জন্য রবীন্দ্রনাথ মুর্মু, ইন্দ্রাণী সিংহরায় সহ চারজনকে দায়ী করা হয়েছে। দুপুরেই তাঁদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করতে শুরু করেছে পুলিশ। পুলিশের একটি সূত্রে জানা গিয়েছে, এই অস্বাভাবিক মৃত্যুর পিছনে সোনার গয়না চুরির অপবাদ থাকতে পারে। তবে রাত পর্যন্ত রহস্য পরিষ্কার হয়নি। ধনেখালি থানার পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদের নাম উত্তম চাঁই (৫১), তাঁর স্ত্রী রূপা চাঁই (৪৫) ও মেয়ে অঙ্কিতা চাঁই (১৭)। চাঁই দম্পতি আদতে হুগলির ডানকুনি থানা এলাকার বাসিন্দা। ছ’মাস আগে তাঁরা সোমশপুরের দুলেপাড়ার মধুমিতা সিংহরায়ের বাড়ি ভাড়া থাকতেন। প্রতিবেশীদের সঙ্গে সেভাবে যোগাযোগ না থাকলেও স্থানীয় বাসিন্দা রবীন মুর্মুর সঙ্গে চাঁই দম্পতির যোগাযোগ ছিল। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মা ও মেয়ে রবীনের বাড়ি থেকে পানীয় জল আনতে যেতেন। সেই রবীন মুর্মুকেই, রবীন্দ্রনাথ মুর্মু বলে মনে করছে পুলিশ। অন্যদিকে, বাড়িওয়ালা মধুমিতাদেবীর মায়ের নাম ইন্দ্রাণী সিংহরায় ও স্বামীর নাম জয় সিংহরায়। তাঁদের কথা দেওয়ালে লেখা ‘সু‌ইসাইড নোটে’ উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রবীন মুর্মুর বাড়িতে সম্প্রতি সোনার গয়না চুরি হয়েছিল। লক্ষাধিক টাকার গয়না চুরি পিছনে চাঁই পরিবারের হাত আছে, এই সন্দেহে বিবাদ হয়। মুর্মু ও বাড়িওয়ালার পরিবার চাঁইদের বিপক্ষে দাঁড়িয়েছিল। সেখানে অপমানিত হয়েই তাঁরা আত্মহত্যা করেছেন কি না, খতিয়ে দেখছে পুলিশ। জেলার গ্রামীণ পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় অভিযুক্ত চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। মৃতদেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

    চাঁই পরিবার আয়ের উৎস, ডানকুনি থেকে তাঁদের চলে আসা— সবটাই রহস্যে মোড়া। তাঁদের ঘর বেশিরভাগ সময় তালাবন্ধ থাকত। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সিংহরায়দের বাড়িটি উত্তম চাঁই কিনতে চেয়েছিলেন। সেই বাবদ কিছু টাকা অগ্রিমও দিয়েছিলেন। তবে বকেয়া টাকা নিয়ে দু’পক্ষের মতান্তর চলছিল। এই বিষয়টিও অস্বাভাবিক মৃত্যুর নেপথ্যে রয়েছে কি না, তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।
  • Link to this news (বর্তমান)