• থানার লক-আপের মেঝেতে একই বিছানায় দিন কাটছে নির্মল-তীর্থঙ্করের
    বর্তমান | ২৯ আগস্ট ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: বাবা ও ছেলের যুগলবন্দি দেখেছে পানিহাটি। তাদের দাপটে এক সময় বাঘে-গোরুতে একঘাটে জল খেয়েছে। বিরোধীরা তো বটেই, নিজের দলের বিরুদ্ধ গোষ্ঠী পর্যন্ত তাঁদের দাপটে সব সময় আতঙ্কে থাকত। কিন্তু রাজ্যে পালাবদল হওয়ায় বদলে গিয়েছে সমস্ত সমীকরণ। এখন প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষ ও তাঁর ছেলে তীর্থঙ্কর ঘোষ পৃথক ঘটনায় খড়দহ থানায় পুলিশ হেপাজতে রয়েছেন। তাঁরা একই লকআপে বন্দি। নিয়তির এই নিষ্ঠুর পরিহাস নিয়ে পানিহাটি জুড়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। 

    বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ নির্মলবাবু বিধানসভার মুখ্য সচেতকের দায়িত্বও পালন করেছেন এক সময়ে। ছেলে তীর্থঙ্কর ঘোষ ওরফে পুচি গত বিধানসভা ভোটে পানিহাটিতে তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছিলেন। এছাড়া পানিহাটি পুরসভার জল বিভাগের সিআইসিও ছিলেন। পুর চেয়ারম্যান বা ডেপুটি চেয়ারম্যানের পদে না থাকলেও কার্যত তিনি এবং তাঁর পরিবারের কথাতেই পরিচালিত হত পানিহাটি পুরসভা। গত ২৫ আগস্ট থেকে বাবা ও ছেলে খড়দহ থানার একই লক-আপে রয়েছেন। মেঝেতে পাতা বিছানায় একইসঙ্গে দিন কাটছে নির্মল ও তীর্থঙ্করের। মাঝেমধ্যে তাঁদের গল্প করতেও দেখা যাচ্ছে। কখনও আবার চিন্তা ও অবসাদ গ্রাস করছে তাঁদের। নির্মলবাবু সাদা পায়জামা-পাঞ্জাবি আর তীর্থঙ্কর পরছেন প্যান্ট ও টি-শার্ট। খাবার বলতে আসামিদের জন্য তৈরি পাতলা ডাল, সবজি, ডিমের ঝোল, ভাত বা রুটি। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, লটারির টিকিট জোর করে ছিনিয়ে নেওয়ার মামলায় তীর্থঙ্করকে হেপাজতে নিয়েছে পুলিশ। সেই মামলায় আগেই নির্মলবাবুকে হেপাজতে নিয়ে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। পুলিশ সূত্রের খবর,  বাবা-ছেলেকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করা হতে পারে। 

    তাঁদের এই পরিণতির প্রেক্ষিতে দুই ধরনের মত সামনে আসছে। বিজেপি নেতা কৌশিক চট্টোপাধ্যায় বলেন, পাপ কখনও বাপকেও ছাড়ে না। পানিহাটিজুড়ে যে অরাজকতা দশকের পর দশক ধরে ঘোষ পরিবার করে এসেছে, তার কোনো ক্ষমা নেই। আবার অনেকেই বলছেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন নির্মলবাবু ও তাঁর ছেলে। 
  • Link to this news (বর্তমান)