• সংক্রমণের আশঙ্কার তোয়াক্কা না করে দলবল নিয়ে হাসপাতালে, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আচরণে বিতর্ক, ওয়ার্ডে প্রবেশ, ভিডিয়োগ্রাফি, আধিকারিকদের তিরস্কার
    বর্তমান | ২৯ আগস্ট ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বাস্থ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যাোপাধ্যায় হাসপাতালের ওয়ার্ডে প্রবেশ পারতপক্ষে এড়িয়ে যেতেন। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাধারণত সরকারি হাসপাতালের ওয়ার্ডে প্রবেশই করেন না। বরং বাকিদের বারণ করেন। সেখানে রাজ্যজুড়ে সরকারি হাসপাতালের ওয়ার্ডে সদলবলে ঢুকে যাওয়া, রোগীর গোপনীয়তার তোয়াক্কা না করে ভিডিয়ো তোলানো, হাসপাতাল চত্বরেই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে প্রতিক্রিয়া দেওয়া—স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডাঃ শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের আচরণে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। বিশেষত, তিনি নিজে একজন দায়িত্বশীল সিনিয়র রেডিয়েশন অঙ্কোলজিস্ট (ক্যান্সার চিকিৎসক) হওয়ায় এই প্রশ্ন জোরালো হয়েছে। 

    ওয়াকিবহাল মহলের মতে, বাইরের লোকজন ওয়ার্ডে ঢুকলে রোগীদের মধ্যে ঩সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা থাকে। আবার রোগীদের থেকেও সংক্রমণ ছড়ানোর ভয় থাকে। তা সত্ত্বেও তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট ভরে আছে হাসপাতালে ওয়ার্ডে ঢুকে নেওয়া ছবি, ভিডিয়োতে। স্বাস্থ্যকর্মী ও পদস্থ কর্তাদের তিনি যেভাবে প্রকাশ্যে তিরস্কার করছেন, তাও ভালো চোখে দেখছেন না অনেকে। তাঁর সাম্প্রতিক মন্তব্য, ‘মরদেহ বিশেষ কাজে লাগে না। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর দেহও কোনো কাজে লাগেনি’ বা ‘এআই এবং থ্রি  ডি ইমেজিং পদ্ধতিতে অ্যানাটমি’ শেখানোর পরামর্শ নিয়েও চলছে বিতর্ক। 

    নার্সেস ইউনিটির সম্পাদিকা ভাস্বতী মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘সরকারি হাসপাতালের রোগীদের কি প্রাইভেসি নেই? তাঁদের অনুমতি ছাড়া ভিডিয়োগ্রাফি করা যায় না। তাছাড়া চিকিৎসক-নার্সদের উনি প্রকাশ্যে না বকাবকি করে প্রশাসনিকভাবে বললেই পারেন।’ ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টরস ফোরামের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ডাঃ কৌশিক চাকী বলেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর হাসপাতাল পরিদর্শনকে স্বাগত জানাই কিন্তু হাসপাতাল সংবেদনশীল কর্মক্ষেত্র। জনপ্রতিনিধি, অনুগামী ও সংবাদমাধ্যমের বহর নিয়ে ভিতরে ঢুকে প্রকাশ্যে চিকিত্সক, স্বাস্থ্যকর্মীদের ধমকানো বা জনতার কাঠগড়ায় দাঁড় করানো কাম্য নয়। শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চও প্রেস বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘বহু চেষ্টায় রাজ্যে দেহদান জনপ্রিয় হয়েছে। মন্ত্রীর মন্তব্য বিভ্রান্তিকর।’ তবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অভিযোগগুলি সম্পূর্ণ অসত্য। আমি হাসপাতালে প্রবেশ করলে আধিকারিকরা ছাড়া কেউ থাকেন না। কোথায় কী খামতি, না হলে বুঝব কীভাবে? সংবাদমাধ্যমকে ভিতরে ঢুকতে আমিই বারণ করি। আধিকারিকদেরও প্রকাশ্যে ভর্ৎসনা করি না। বরং সমস্ত স্তরের স্বাস্থ্যকর্মীদের সম্মান করি। মরণোত্তর অঙ্গদান যেমন চলছে, চলুক। কিন্তু মস্তিষ্কের মৃত্যুর পর অঙ্গদান বেশি জরুরি। এতে অন্তত ১৬-১৮ জন মানুষ সরাসরি উপকৃত হন।’ 
  • Link to this news (বর্তমান)