নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: যাদবপুর কাণ্ড নিয়ে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ঠিক উলটোদিকে শুক্রবার ৮বি বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে ‘বেয়াদপ’ পড়ুয়াদের রাষ্ট্রবাদের পাঠ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ১০ হাজার কণ্ঠে ‘বন্দে মাতরম’ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে ‘শেষ হিসাব’ বুঝে নেওয়ার চরম বার্তা দিলেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। এদিন বিকালে শুভেন্দু বলেন, ‘হিসাবের শেষ পর্যায় চলে এসেছে। নয় এরা থাকবে, নয় আমরা। মাঝে আর কিছু হবে না। এরা স্লোগান দিচ্ছে, কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি? এই বেয়াদপরা শুনে রাখো, অপারেশন সিঁদুরে মাসুদ আজহারের বংশকে নির্বংশ করেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। নন্দীগ্রাম থেকে যেভাবে কমিউনিস্টদের সাফাই করা হয়েছে, জঙ্গলমহল থেকে যেভাবে মাওবাদী সাফাই করা হয়েছে, ঠিক সেভাবে যাদবপুরেও অভিযান চলবে।’ বামপন্থী ছাত্র নেতাদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর গর্জন, ‘এত সাহস! আর্টস হোস্টেলের দেওয়ালে লিখছেন রেড স্যালুট কিষেনজি? লিখছেন ফ্রি প্যালেস্তাইন? আগে লিখুক, ফ্রি পাক অকুপায়েড কাশ্মীর! ড্রোন ওড়াব। কোথায় ফেনসিডিল, নেশার দ্রব্য নিয়ে যাচ্ছেন, কোথায় পাতা পুড়িয়ে টানছেন, আমি দেখব। আমি পুলিশমন্ত্রী। আমি জঞ্জাল সাফাই করতে জানি।’
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে উৎকর্ষের শ্রেষ্ঠ জায়গায় পৌঁছে দিতে তাঁর সরকার বদ্ধপরিকর—বুঝিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে যাদবপুরের রাষ্ট্রবিরোধী ভাবমূর্তির জন্য পূর্বতন বাম ও তৃণমূল সরকারকে তুলোধোনা করতে ছাড়েননি মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘দীর্ঘদিন ধরে যাদবপুরে বিদেশি প্রভাবযুক্ত কমিউনিস্টদের রাজত্ব ছিল। তারাই পড়ুয়াদের স্বাধীনতা দিবস, সাধারণতন্ত্র দিবস, ভারতীয় তথা সনাতন সংস্কৃতি থেকে বিচ্যুত করেছে। তৃণমূল এদের সঙ্গে সমঝোতা করে চলত। ডিভিডেন্ড একটাই দিত। নির্বাচন এলে এরা (পড়ুয়া) বলত, নো ভোট টু বিজেপি। তার সুফল পেয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। যিনি দু’বার আমার কাছে হেরেছেন। তাই এই শক্তিকে যাদবপুরের ভিতরে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে। রাজ্যের প্রথম বিজেপি শাসিত সরকারের আমলে এ সব চলবে না।’ দেশের অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (এবিভিপি) সদস্য-সমর্থকদের প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা, ‘দিল্লির জেএনইউ কিংবা হায়দরাবাদের ওসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয় আপনারা শুধরে দিয়েছেন। এবার বাকি যাদবপুর (যাদবপুর অভি বাকি হ্যায়)। এটাও হয়ে যাবে। রাষ্ট্রবাদের জাগরণ হয়েছে। এই সুনামি কেউ রুখতে পারবে না।’
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পালটা আক্রমণ শানিয়েছেন বামেরাও। সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম এদিন আলিমুদ্দিন স্ট্রিট থেকে বলেন, ‘আমি কিষেনজি আর শুভেন্দু অধিকারীর মধ্যে কথপোকথন শুনিয়ে দেব? যারা নতুন গুজরাত থেকে এসেছে, ওরা জানবে না। কিংবা না জানার ভান করবে। মমতা আর শুভেন্দু হাত ধরে কিষেনজিকে না আনলে কেউ নাম জানত? একটাই ভালো দিক, শুভেন্দু মন্দির-মসজিদ-বাংলাদেশি-রোহিঙ্গার বদলে এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম উচ্চারণ করছেন। তাঁর নজর গোবর থেকে শিক্ষায় প্রসারিত হয়েছে।’ এসএফআইয়ের রাজ্য সম্পাদক দেবাঞ্জন দে মনে করছেন, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের হুমকি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে দাঁড়িয়ে পড়ুয়াদের কার্যত হুমকি দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। যাদবপুর দখল নেওয়ার যদি এতই ইচ্ছা থাকে, তাহলে ছাত্র সংসদ নির্বাচন করুন। ক্যাম্পাস কাদের তা স্পষ্ট হয়ে যাবে। হুমকি দিয়ে, হাওয়া গরম করে, অসাংবিধানিক কথা বলে লাভ হবে না।’