অরিন্দম বন্দ্যোপাধ্যায়, নয়াদিল্লি
মহারাষ্ট্রে অটো এবং ট্যাক্সি চালাতে হলে ড্রাইভারদের মারাঠি ভাষা জানতেই হবে৷ অ–মারাঠি চালকদের মারাঠি শিখতেই হবে— মহারাষ্ট্র সরকারের ঘোষিত এই নীতি নিয়ে জলঘোলা চলছিলই৷ ভিন্রাজ্য থেকে মহারাষ্ট্রে রুটিরুজির কারণে যাওয়া চালকদের কেন মারাঠি শিখতে বাধ্য করা হবে?
প্রশ্ন তুলে মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশের নেতৃত্বাধীন মহারাষ্ট্র সরকারের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন কয়েকজন। ফড়নবীশ সরকারের এই নির্দেশিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করে বিরোধী শিবিরও। প্রবল বিক্ষোভ ও চাপের মুখে বৃহস্পতিবার মহারাষ্ট্র প্রশাসনের তরফে জানানো হয়, এখনই নয়, আগামী এক বছরের মধ্যেই মহারাষ্ট্রের অটো–ট্যাক্সি চালকরা মারাঠি শিখে নিলে হবে৷ এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে,হঠাত্ কেন নিজের ঘোষিত অবস্থান থেকে পিছু হটলেন ফড়নবীশ?
আগামী বছর দেশের সাতটি রাজ্যের বিধানসভা ভোট৷ এর মধ্যে উত্তরপ্রদেশ, গুজরাট এবং উত্তরাখণ্ডে ক্ষমতা ধরে রাখার পাশাপাশি বিজেপির বড় চ্যালেঞ্জ পাঞ্জাব এবং হিমাচল প্রদেশে ক্ষমতা দখল করা৷ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতিতে দেশের কোনও অংশেই ভাষাকে কেন্দ্র করে কোনও বিতর্ক চায় না দল৷ ফলে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশেই শেষ পর্যন্ত অবস্থান বদল করেছেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী৷ উদ্ধব ঠাকরের নেতৃত্বধীন শিবসেনা গোষ্ঠীর অন্যতম নেতা, বর্ষীয়ান সাংসদ সঞ্জয় রাউতের দাবি, 'দিল্লির চাপে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছেন ফড়নবীশ৷ এ ছাড়া তাঁর আর কোনও উপায় ছিল না৷'
মহারাষ্ট্র সরকার আচমকা ভাষার বাধ্যবাধকতা চাপানোয় অসন্তোষ দেখা গিয়েছিল অটো চালকদের সংগঠনগুলির তরফে। সরকার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করায় খুশি তারা৷ 'মুম্বই ট্যাক্সিম্যানস অ্যাসোসিয়েশন'–এর নেতা প্রেম সিংয়ের মতে, 'অনেক চালকের বয়সই ৬০ বছরের বেশি এবং অল্প সময়ের মধ্যে নতুন কোনো ভাষা শেখা তাঁদের পক্ষে কঠিন ছিল।' 'সেবা সারথি ট্যাক্সি রিকশা ট্রান্সপোর্ট ইউনিয়ন' আবার ঘোষণা করেছে, তারা চালকদের মারাঠি ভাষা শেখানোর জন্য ক্লাস শুরু করছে।
আপাতত সরকারের এই সিদ্ধান্ত চালকদের সাময়িক স্বস্তি দিলেও, ভাষা সংক্রান্ত বিরোধটা পুরোপুরি মিটছে বলে মনে হয় না। রাজ্যের বিরোধী শিবির এই ইস্যুতে ফড়নবীশের নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকারকে চাপে ফেলার জন্য ধারাবাহিক আন্দোলনে নামার কথা ভাবছে, শুক্রবারই আভাস দিয়েছেন শিবসেনার সঞ্জয় রাউত৷ এর মধ্যে আবার, এমএনএস প্রধান রাজ ঠাকরের ছেলে অমিত ঠাকরে শুক্রবার সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হটার জন্য ফড়নবীশকে একহাত নিয়েছেন!
তাঁর বক্তব্য, 'যদি দেখি কোনও অটো–রিকশা ড্রাইভার হিন্দিতে কথা বলছেন বা খারাপ ব্যবহার করছেন, খুব পেটাব। এখানকার মানুষ আপনাদের জন্য হিন্দি বলবেন না। আমরা মারাঠিই বলব। আপনাদের বুঝতে হবে।' সেই সঙ্গে অমিতের দাবি, 'ফড়নবীশ যে ভাবে মারাঠি ভাষা শেখার জন্য ১০–১৫ বছরের ছাড় দিচ্ছেন, সেটাই বুঝিয়ে দেয় মারাঠি ভাষার প্রতি তাঁর ভালোবাসা কতটা!'