• বিধবা ভাতার টাকা বৃদ্ধের অ্যাকাউন্টে, অবিলম্বে বন্ধের নির্দেশ ব্লক প্রশাসনের
    এই সময় | ২৯ আগস্ট ২০২৬
  • এই সময়, ঘাটাল: বৃদ্ধের অ্যাকাউন্টে ঢুকছে বিধবা ভাতা। পাঁচ বছর ধরে এমনটাই হয়ে আসছে প্রতি মাসে। রাজ্যে পালাবদলের পরে সম্প্রতি বার্ধক্য ভাতা, বিধবা ভাতা প্রাপকদের তালিকা যাচাইয়ে বাড়ি বাড়ি সার্ভে করার সময়ে ঘাটাল মহকুমার দাসপুর-২ ব্লকে এই তথ্য সামনে এসেছে।

    জানা গিয়েছে, দাসপুর-২ ব্লকের গোছাতি গ্রামের বাসিন্দা একাত্তর বছরের কেশব ঘোড়ইয়ের অ্যাকাউন্টে বিধবা ভাতার টাকা ঢুকছে। পাঁচ বছর ধরে এমন অবস্থা চললেও তিনি কেন জানাননি জানতে চাইলে বৃদ্ধের যুক্তি, 'সেই সময় আমি বার্ধক্য ভাতার জন্যই আবেদন করেছিলাম। পরে টাকাও ঢুকতে শুরু করে। কিন্তু তা যে বিধবা ভাতার টাকা, জানতাম না। এখন জানার সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসনকে জানিয়েছি।' ইতিমধ্যেই এই তথ্য ব্লক প্রশাসনের কাছে জানিয়ে বিধবা ভাতা বন্ধ করার জন্য আবেদন জানিয়েছেন কেশব।

    ব্লক প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ২০২১ থেকে বৃদ্ধের অ্যাকাউন্টে বিধবা ভাতার টাকা ঢুকছে। বৃদ্ধের লিখিত আবেদন পাওয়ার পরে তাঁর ভাতা বন্ধ করার জন্য জেলাতে পাঠানো হয়েছে। কেশবের দাবি, 'স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য মারফত আমি বার্ধক্য ভাতার জন্য আবেদন করেছিলাম। এতে আমার কোনও ভুল নেই। যাঁরা একাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এটা তাঁদের ভুলের কারণে হয়ে থাকতে পারে।'

    এই নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। বিজেপির ঘাটাল সাংগঠনিক জেলা সহ-সভাপতি প্রশান্ত বেরা বলেন, 'এটা নতুন কিছু নয়। গত পনেরো বছরে তৃণমূল সরকার নানা ভাবে সরকারি প্রকল্পের টাকা নয়ছয় করেছে। আমাদের সরকার ক্ষমতায় আসার পরে সরকারি প্রকল্প ঝাড়াই বাছাইয়ের কাজ শুরু করেছে। তাতে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার হোক বা বিধবা ভাতার মতো প্রকল্প নানা অনিয়ম সামনে এসেছে।'

    দাসপুরের সিপিএম নেতা ও জেলা কমিটির সদস্য লক্ষ্মীকান্ত ভৌমিক বলেন, 'ঘটনাটি আমি শুনেছি। ওই ব্যক্তির বয়স ৭১ বছর। একজন পুরুষ হয়েও তিনি বিধবা ভাতা পাচ্ছেন। অথচ যাঁদের বয়স ৬০ বছর পেরিয়ে গিয়েছে, তাঁরা এখনও বার্ধক্য ভাতা পাননি। বিগত সরকার সরকারি প্রকল্পের টাকা নয়ছয় করেছে। বর্তমান সরকারও দলতন্ত্র কায়েম করতে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা সঠিক প্রাপকদের দিচ্ছে না। আমাদের দাবি, যাঁরা যোগ্য তাঁদের সকলকে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা দিতে হবে।'

  • Link to this news (এই সময়)