• পুজোর আগেই সেলফি পয়েন্ট, পর্যটনের ব্যবসায় আরও শ্রীবৃদ্ধি ঘটবে, দাবি
    এই সময় | ২৯ আগস্ট ২০২৬
  • বুদ্ধদেব বেরা, ঝাড়গ্রাম

    ঘন সবুজ শালবনের মাঝে থাকবে সেলফি পয়েন্ট। সেখানে দেখা যাবে হাতি, ময়ূর, হরিণ ভালুক, শেয়াল। নাহ্, আসল নয়, কৃত্রিম। পর্যটকদের জন্য চা, ফাস্ট ফুডের স্টল ও জঙ্গলমহলের হস্তশিল্পের বিপণন কেন্দ্রও থাকবে সেখানে। ফলে সময় কাটানোর পাশাপাশি পছন্দের কেনাকাটাও করতে পারবেন পর্যটকেরা। আর এ সবের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন স্থানীয়রা। ঝাড়গ্রামের বিধায়ক লক্ষ্মীকান্ত সাউয়ের দাবি, সেলফি পয়েন্টের কারণে পর্যটন ব্যবসায় আরও শ্রীবৃদ্ধি ঘটবে।

    অরণ্যসুন্দরী ঝাড়গ্রাম শহরের প্রবেশপথের দু'পাশে রয়েছে কলাবনির গভীর শালবন। জঙ্গলের বুক চিরে চলে গিয়েছে পিচের রাস্তা। ঝাড়গ্রামে বেড়াতে আসা পর্যটকদের গাড়ি হঠাৎই থমকে যায় এই জঙ্গলে। সেলফি তোলার আনন্দে রাস্তার পাশে গাড়ি থামিয়ে নেমে পড়েন তাঁরা। সামান্য অসাবধানতায় ঘটে যেতে পারে দুর্ঘটনাও। বিষয়টি লক্ষ্য করে এমনই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন লক্ষ্মীকান্ত। পরে তিনি বন দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে জঙ্গলের ওই সব জায়গায় সেলফি পয়েন্ট গড়ে তুলতে উদ্যোগী হয়েছেন।

    লক্ষ্মীকান্ত বলেন, 'লোধাশুলি থেকে ঝাড়গ্রাম শহর পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার রাস্তাজুড়ে জঙ্গল রয়েছে। সৌন্দর্যের টানে সেই পথের বিভিন্ন জায়গায় দাঁড়িয়ে পড়েন পর্যটকরা। দুর্ঘটনা এড়াতে লোধাশুলি থেকে ঝাড়গাম পর্যন্ত চারটি জায়গায় সেলফি পয়েন্ট গড়ে তোলার জন্য বন দপ্তরের সঙ্গে কথা হয়েছে।'

    বিধায়ক জানিয়েছেন, সেলফি পয়েন্টে থাকবে 'ঝাড়গ্রাম' লেখা বড় সাইনবোর্ড, কৃত্রিম বন্যপ্রাণী এবং নানা রকমের স্টল। তবে গাছ কেটে কোনও সেলফি পয়েন্ট তৈরি করা হবে না বলেও আশ্বস্ত করেছেন তিনি। জঙ্গলের মধ্যে যেখানে যেখানে ফাঁকা জায়গা রয়েছে, সেগুলি চিহ্নিত করে সেখানেই গড়ে তোলা হবে সেলফি পয়েন্ট।

    বেলপাহাড়ির পাহাড়, ঝর্না ও শালজঙ্গলের টানে শীতে ও বর্ষায় এই অরণ্যশহরে ভিড় করেন পর্যটকরা। স্বাধীনতা দিবসের ছুটিতে পর্যটকের ভিড়ে জমজমাট ছিল সব হোটেল, রিসর্ট, হোমস্টে। সেলফি পয়েন্টকে কেন্দ্র করে চা, ফাস্ট ফুড এবং জঙ্গলমহলের হস্তশিল্প বিপণনকেন্দ্র গড়ে উঠলে কর্মসংস্থান বাড়বে বলে আশা করছেন স্থানীয়রাও।

    বিধায়কের এই ভাবনাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন ঝাড়গ্রামের পর্যটন ব্যবসায়ীরা। ঝাড়গ্রাম ট্যুরিজমের কর্ণধার সুমিত দত্ত বলছেন, 'পর্যটকরা ঝাড়গ্রাম শহরে ঢোকার মুখে কলাবনি থেকে বাঁদরভুলা রাস্তায় দাঁড়িয়ে পড়েন। এই জায়গার মধ্যে সেলফি পয়েন্ট গড়ে তুললে পর্যটকরা খুশি হবেন। তবে কিছু নিয়মাবলীও মানতে হবে। কারণ, জঙ্গলে হাতির করিডর রয়েছে। সন্ধ্যার পরে হাতির রাস্তায় উঠে পড়ার প্রবণতা রয়েছে। সব দিক মাথায় রেখে সেলফি পয়েন্ট গড়ে তোলা হলে পর্যটকদের কাছে তা আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।'

    কলাবনি এলাকার দশরথ মুর্মুর কথায়, 'পর্যটকদের ভিড় হলে আমরা নতুন দোকান তৈরি করে ব্যবসা করতে পারব। এতে দিনমজুরির কাজ পেতে আর ঝাড়গ্রাম শহরে যেতে হবে না। ঘরের কাছেই উপার্জন করতে পারব।'

  • Link to this news (এই সময়)