প্রেসিডেন্সি জেলে বন্দি কুখ্যাত জঙ্গি আফতাব আনসারির সেল থেকে উদ্ধার হলো মোবাইল-সহ একাধিক ইলেকট্রনিক ডিভাইস। এমনকী, মিলেছে ৩১ হাজার টাকাও। শুক্রবার রাতের এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। হাই সিকিউরিটি জোনের নিরাপত্তা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। ওই রাতেই আফতাবের বিরুদ্ধে হেস্টিংস থানায় FIR দায়ের করেন কারা কর্তৃপক্ষ। তার ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
আমেরিকান সেন্টারে হামলার মূল চক্রী আফতাব আনসারি। ২০০৫-এর ২৬ এপ্রিল তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল কলকাতার সেশনস কোর্ট। পরে মামলা যায় কলকাতা হাইকোর্টে। ২০১০-এর ৫ ফেব্রুয়ারি তার মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে বিচারপতি অসীম বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কালীদাস মুখোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ। কিন্তু ২০১৪ সালে সুপ্রিম কোর্ট আফতাবের মৃত্যুদণ্ড মকুব করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়।
তার পর থেকে প্রেসিডেন্সি জেলেই রয়েছে আফতাব। কয়েক দিন আগে গোপন সূত্র মারফত পুলিশ খবর পায়, ১৪ নম্বর সেলে বন্দি আফতাব ইলেকট্রনিক ভিভাইস ব্যবহার করছে। এর পরেই শুরু হয় তল্লাশি অভিযান। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, আফতাবের সেল থেকে দু’টি জিও রাউটার, তিনটি জিও-র সিমকার্ড, তিনটি ওটিজি পেনড্রাইভ, ১২৮ জিবির একটি সাধারণ পেনড্রাইভ, একটি হেডফোন এবং একটি আইফোন উদ্ধার করে পুলিশ। এছাড়া বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে নগদ ৩১ হাজার টাকা।
কোথায় ফোন করত আফতাব? সেই নিয়ে ঘনিয়েছে রহস্য। গোপনে সে পাকিস্তানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। তবে জেলের মধ্যে কী ভাবে এত টাকা আর ইলেকট্রনিক ডিভাইস তার সেলে পৌঁছে দেওয়া হলো, কে দিল, তা-ও জানার চেষ্টা চলছে। এর পিছনে কারাকর্মীদের হাত রয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন অনেকে।
মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসেই জেলে ‘ঘুঘুর বাসা’ ভাঙতে সক্রিয় হন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। জেল থেকেই অপরাধচক্র চালানোর ঘটনায় জেল সুপার-সহ ২ জনকে সাসপেন্ডও করেছিল রাজ্য সরকার। সেই সময়ে শুভেন্দু বলেছিলেন, ‘প্রেসিডেন্সি জেলে মোবাইল ফোন ব্যবহারের অভিযোগ পেয়েছি। পুলিশ তদন্ত করে প্রচুর মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করেছে।’ এর জন্য পূর্বতন তৃণমূল কংগ্রেসের সরকারের গাফিলতির দিকে আঙুল তুলেছিলেন তিনি।