• ‘মেয়ে নিখোঁজ, হেল্প মি’, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর সঙ্গে দেখা করতে তারাপীঠে অর্ধেন্দু, তার পরে...
    এই সময় | ২৯ আগস্ট ২০২৬
  • গলায় ঝোলানো সেই প্ল্যাকার্ড। যাতে মেয়ের নাম-ছবি রয়েছে। তার সঙ্গে হাতেও রয়েছে আরও একটি প্ল্যাকার্ড। তাতে লেখা, ‘মেয়ে নিখোঁজ। হেল্প মি।’ সেটি উঁচিয়ে ধরে রাস্তার একপাশে দাঁড়িয়ে রয়েছেন বৃদ্ধ। যাতে কনভয় নিয়ে রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময়ে সেই লেখা মুখ্যমন্ত্রীর নজরে পড়ে। বৃদ্ধ আশা করেছিলেন, হয়তো প্ল্যাকার্ড দেখে মুখ্যমন্ত্রী কনভয় থামিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলবেন। তিনিও মুখ্যমন্ত্রীর কাছে মেয়ে অমৃতা সিনহাকে খুঁজে দেওয়ার সাহায্য প্রার্থনা করবেন। তাঁর হাতে একটি চিঠিও তুলে দেবেন।

    কিন্তু বাবা অর্ধেন্দু সিনহার সেই ইচ্ছা পূরণ হলো না। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ তো দূর অস্ত, রাস্তা দিয়ে তাঁর কনভয় যাওয়ার আগেই নিরাপত্তার স্বার্থে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে না পারলেও যাতে চিঠিটি তাঁর কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়, পুলিশ আধিকারিকদের কাছে সেই অনুরোধ করেছেন অর্ধেন্দু। বৃদ্ধই জানান, তিনি চিঠিটি পুলিশকর্তাদের হাতে তুলে দিয়েছেন।

    গত মার্চ মাস থেকে নিখোঁজ বছর চব্বিশের তরুণী অমৃতা। বাবা অর্ধেন্দু সিউড়ি থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেছেন। নেতাদের দরজাতেও কড়া নেড়েছেন। কিন্তু এখনও সুরাহা হয়নি। শেষে মেয়ের খোঁজে নিজেই রাস্তায় নেমেছেন বৃদ্ধ। গলায় প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে কার্যত গোটা বীরভূমই চষে বেড়াচ্ছেন তিনি। আবার মেয়ের খোঁজে কখনও কলকাতায় আসছেন, কখনও আবার অজ্ঞাতপরিচয়ের ফোন পেয়ে ছুটে যাচ্ছেন আসানসোলে। জেলা পুলিশেরও একটি বিশেষ টিম অমৃতার খোঁজ করছে। কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ এবং সিআইডি-রও সাহায্য নেওয়া হয়। কিন্তু এখনও তরুণীর হদিশ মেলেনি।

    এই পরিস্থিতিতে শনিবার বীরভূমে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রশাসনিক সভায় যোদ দিতে আসছেন শুনেই গলায় প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েন অর্ধেন্দু। তিনি খবর পেয়েছিলেন, রামপুরহাটে প্রশাসনিক সভায় যাওয়ার আগে মুখ্যমন্ত্রী তারাপীঠের কালী মন্দিরে যাবেন। সেই মতো সিউড়ির বাড়ি থেকে সোজা সেখানেই চলে যান অর্ধেন্দু। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ হলো না বৃদ্ধের।

  • Link to this news (এই সময়)