পরিযায়ী শ্রমিককে মারধর করে মোবাইল-টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ, জলপাইগুড়িতে তুলকালাম
দৈনিক স্টেটসম্যান | ২৯ আগস্ট ২০২৬
বাড়ি ফিরছিলেন এক পরিযায়ী শ্রমিক। বাড়ি ফিরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটানোর পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু পথে ঘটে গেল অঘটন। সুতরাং পরিকল্পনা ভেস্তে যায় তাঁর। রাস্তায় ওই পরিযায়ী শ্রমিককে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। এমনকী ছিনিয়ে নেওয়া হলো মোবাইল এবং টাকা বলেও অভিযোগ উঠেছে। প্রায় এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে নিখোঁজ ছিলেন ওই পরিযায়ী শ্রমিক। সুতরাং পরিবারের সদস্যরা উৎকণ্ঠায় ছিলেন। অবশেষে জলপাইগুড়ি রোড স্টেশন থেকে অচেতন এবং আহত অবস্থায় ওই পরিযায়ী শ্রমিক যুবককে উদ্ধার করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে তাঁকে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয় বলে জানা গিয়েছে।
এই পরিযায়ী শ্রমিককে অপহরণ করা হয়েছিল বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ তাঁর বাড়ি ফেরার কথা ছিল। কিন্তু বাড়ি ফেরার সময় একদল দুষ্কৃতী তাঁর উপর চড়াও হয়। তারপর তাঁকে মারধর করে সবকিছু ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এতটা তাঁর মনে আছে। তারপর একসপ্তাহ তিনি কোথায় ছিলেন, কারা তাঁকে কোথায় লুকিয়ে রেখেছিল সেসব তাঁর মনে নেই। সুতরাং তাঁকে অপহরণ করা হয়েছিল বলেই মনে করা হচ্ছে। আসামের লামডিংয়ের স্থানীয় বাসিন্দা তথা পরিযায়ী শ্রমিক বাপন দাস। গত ২০ আগস্ট বেঙ্গালুরু থেকে ট্রেনে বাড়ির ফিরছিলেন তিনি। কিন্তু মাঝপথ থেকেই মোবাইলে আর কোনও যোগাযোগ করতে পারছিলেন না পরিবারের সদস্যরা। তাই উৎকণ্ঠা বাড়তে থাকে। পরিবারের সদস্যদের বাপন দাস জানিয়েছিলেন, বাড়ি ফিরছেন তিনি।
অথচ একসপ্তাহ ধরে কোনও হদিশ মেলেনি তাঁর। বাপন দাসের কোনও খোঁজ না পেয়ে লামডিং থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন পরিবারের সদস্যরা। তখন থেকেই খোঁজখবর চলছিল। কিন্তু একসপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও বাপন দাসের কোনও খোঁজ না মেলায় দুশ্চিন্তা বাড়ছিল তাঁর পরিবারের। অবশেষে শুক্রবার সন্ধ্যায় জলপাইগুড়ি রোড স্টেশনে এক অজ্ঞাতপরিচয় যুবককে ঘোরাঘুরি করতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তখন তাঁরা বাপন দাসের সঙ্গে কথা বলেন। আর তখনই তাঁরা জানতে পারেন, বাপন দাস আসামের বাসিন্দা। তবে কেমন করে বেঙ্গালুরু থেকে জলপাইগুড়ি রোড স্টেশনে এসে পৌঁছলেন, সে বিষয়ে তাঁর কিছু মনে নেই। এমনকী তাঁর কাছে কোনও টাকা না থাকায় টিকিট কেটে বাড়ি ফেরারও উপায় ছিল না। একইসঙ্গে ওই যুবকের হাত-পা সহ শরীরের নানা জায়গায় আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। তখন জলপাইগুড়ির একটি বৃদ্ধাশ্রমের সঙ্গে যোগাযোগ করলে বৃদ্ধাশ্রম কর্তৃপক্ষ ওই যুবককে সেখানে থেকে নিয়ে যায়।
এই ঘটনার কথা পরিবার জানতে পেরে পুলিশকে জানিয়েছেন। গোটা ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ। তাছাড়া বৃদ্ধাশ্রমের পক্ষ থেকে জানা গিয়েছে, আশঙ্কা করা যাচ্ছে ট্রেনে খাবারের সঙ্গে কোনও মাদকজাতীয় কিছু মিশিয়ে খাইয়ে বাপন দাসকে অচেতন করা হয়ে থাকতে পারে। তারপর তাঁর কাছ থেকে টাকা এবং মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে মনে হচ্ছে। এমনকী শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখে মনে হচ্ছে মারধর করা হয়েছে যুবককে। তবে বৃদ্ধাশ্রম কর্তৃপক্ষ আসামে বাপন দাসের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁকে ফিরিয়ে দিয়েছেন।