ভটভটির দিন শেষ! দেশে প্রথম ব্যাটারিচালিত যাত্রীবাহী ভেসেল গঙ্গায়, কাজ শুরু গার্ডেনরিচে
প্রতিদিন | ২৯ আগস্ট ২০২৬
পর্যটক ও সাধারণ যাত্রীদের জন্য বড় পদক্ষেপ রাজ্য সরকারের। দেশের মধ্যে প্রথম ব্যাটারিচালিত যাত্রীবাহী ভেসেলের জন্য দরপত্র তুলে দেওয়া হল গার্ডেনরিচ শিপ বিল্ডার্সকে। সেখানেই রাজ্যের জন্য আপাতত দুটি ভেসেল তৈরি হবে। আজ, শনিবার এই দরপত্র দেওয়া হল। রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ এদিন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও ছিলেন শিপ বিল্ডার্সের আধিকারিক পি আর হরি, মন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তী, বরুণ রায়। এই ভেসেল সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব হবে বলে জানানো হয়েছে।
বিজেপি সরকার গঙ্গার জলপথকে পরিবহণ ব্যবস্থার জন্য কাজে লাগাতে একাধিক পদক্ষেপ করেছে। গঙ্গায় ওয়াটার ট্যাক্সি, ওয়াটার মেট্রো চলবে। সেই কথা জানিয়েছেন রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিং। যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্য ও পরিবেশ সচেতনতার জন্য এই ভাবনা বলে জানানো হয়। সেই হিসেবেই এবার যাত্রীবাহী ব্যাটারিচালিত ভেসেলের দরপত্র দেওয়া হল। কত খরচ পড়বে এক একটি ভেসেল তৈরিতে? কোথায় চলবে এই ভেসেল? গঙ্গায় পর্যটক ও সাধারণ যাত্রীদের চলাচলের জন্য লঞ্চ ও ভটভটি চলে। আগামীতে তাহলে ভটভটির দিন শেষ? সেই চর্চাও শুরু হয়েছে।
জানা গিয়েছে, ২১ কোটি টাকা খরচ হবে একটি ভেসেল তৈরিতে। সেক্ষেত্রে মোট ৪২ কোটি টাকা খরচ হবে। এদিন মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ বলেন, “কেন্দ্র ও রাজ্যের উদ্যোগে অধরা কাজ শেষ করতে চাই। আজ ঐতিহাসিক দিন। প্রধানমন্ত্রী দিক নির্দেশ করেছেন। সবুজ পরিবেশ বান্ধব পরিবহনে জোর দেওয়া হচ্ছে।” “বেলুড়, দক্ষিণেশ্বর ধর্মীয় স্থানে এই ওয়াটার ওয়ে ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার করতে চাই।” সেই কথাও বলেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রত্যেকটি ভেসেলে একশো যাত্রী চলাচল করতে পারবেন। আগামী ১৫ মাসের মধ্যে এই দুই জলযান গঙ্গায় নামবে। সেই কথাও জানানো হয়েছে।
উত্তরবঙ্গের জলদাপাড়া দুটো বেলি ব্রিজ ভেঙে গিয়েছে। গার্ডেনরিচ শিপ বিল্ডার্স সেই ব্রিজ তৈরির বরাত পেয়েছে। ব্রিজ ও জলযান মিলিয়ে মোট ৪৫ কোটি টাকা খরচ হবে। কেন্দ্রের স্কিম সাস্কি থেকে এই খরচ হবে। পর্যটকদের নিরবিচ্ছিন্ন সুবিধায় পরিবেশবান্ধব গড়ে তোলাই লক্ষ্য। সেই বিষয়েও সরকারের তরফে জোর দেওয়া হচ্ছে।