মুর্শিদাবাদের একাংশে বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে গঙ্গা, জারি কমলা সতর্কতা
eTV Bharat | ২৯ আগস্ট ২০২৬
মুর্শিদাবাদ, 29 অগস্ট: উচ্চ এবং নিম্ন অববাহিকায় ফুঁসছে গঙ্গা নদী ৷ তার জেরে প্লাবন আর ভাঙনের আতঙ্কে রাত কাটছে গঙ্গাপারের বাসিন্দাদের ৷ পরিস্থিতির জেরে প্রশাসনের তরফে মাইকিং করে কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে ৷
জানা গিয়েছে, নিম্ন অববাহিকায় মুর্শিদাবাদের সাহেবগঞ্জ এবং মালদার মানিকচকে গঙ্গা নদীর জলস্তর বিপদসীমা পেরিয়ে গিয়েছে ৷ অন্যদিকে, সামশেরগঞ্জ ও জঙ্গিপুরে বিপদসীমার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে গঙ্গার জলস্তর ৷ নেপালে ভয়াবহ হড়পা বানের জেরেই এই পরিস্থিতি বলে জানাচ্ছে প্রশাসন ৷
এই জলস্তর বৃদ্ধির জেরে মুর্শিদাবাদ-সহ গঙ্গা নদীর নিম্ন অববাহিকার নিচু এলাকাগুলির মানুষজন আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন ৷ কোথাও প্লাবনের আশঙ্কা করা হচ্ছে, কোথাও ভাঙনের সম্ভাবনা প্রবল ৷ ফলে রাতের ঘুম উড়েছে মানুষজনের ৷ লোকজনকে নদীপাড় সংলগ্ন এলাকা ছেড়ে নিরাপদ উঁচু জায়গায় সরে যাওয়ার আবেদন করা হচ্ছে ৷ এই পরিস্থিতিতে নদীতে মাছ ধরতে যেতে মৎস্যজীবীদের নিষেধ করা হয়েছে ৷ খেয়া পারাপারের ক্ষেত্রে মাঝিদের সতর্কতা অবলম্বন করতে নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন ৷
গঙ্গার জলস্তর বিপদসীমা অতিক্রম করায় ফরাক্কা ব্যারেজ সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ভাঙন এবং প্লাবনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে ৷ এই অবস্থা আগামী সাতদিন পর্যন্ত থাকবে বলে অনুমান করছে ব্যারেজ কর্তৃপক্ষ ৷ জানা গিয়েছে, শুক্রবার সকাল থেকেই গঙ্গার জলস্তর দ্রুত বাড়ছিল ৷
মুর্শিদাবাদের সাহেবগঞ্জ-ঝাড়খণ্ড সীমানায় গঙ্গার জলস্তর বিপদসীমা অতিক্রম করে 27.85 মিটারে পৌঁছেছে (বিপদসীমা 27.25 মিটার) ৷ মালদা জেলার মানিকচকে বর্তমানে 25.18 মিটারে বইছে (বিপদসীমা 24.69 মিটার) গঙ্গা নদীর জল ৷ সামশেরগঞ্জ ও নিমতিতা এলাকায় জলস্তর 21.50 মিটার (বিপদসীমা 21.90 মিটার) ৷ অন্যদিকে, জঙ্গিপুরে পদ্মা নদীর জলস্তর 20.30 মিটারে (বিপদসীমা 20.94 মিটার) পৌঁছে গেছে ৷
শুক্রবার সকালে ফরাক্কায় গঙ্গার জলস্তর রেকর্ড করা হয়েছিল 22.79 মিটার ৷ দুপুরের পর থেকে তা দ্রুত বৃদ্ধি পেতে থাকে ৷ বেলা 2টোয় 22.83 মিটার এবং শুক্রবার রাত 9টার সময় 22.86 মিটারে পৌঁছে যায় ৷ বিপদসীমা ২২.২৫ মিটার। অর্থাৎ, ফরাক্কায় গঙ্গার জলস্তর বিপদসীমার 61 সেন্টিমিটার উপর দিয়ে বইছে ৷
ব্যারেজ বিশেষজ্ঞদের অনুমান, আগামী সাতদিন জলস্তর এরকম থাকতে পারে ৷ তবে, নেপালের হড়পা বান এবং উত্তরপ্রদেশের উপচে পড়া জল পুরোপুরি এসে পৌঁছলে গঙ্গার জলস্তর আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ফরাক্কা ব্যারেজের আধিকারিকরা ৷ পরিস্থিতি বিচার করে স্থানীয় প্রশাসন ইতিমধ্যেই নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের সাবধান করার কাজ শুরু করেছে ৷
গঙ্গার জলস্তর বাড়ায় রঘুনাথগঞ্জ, সাগরদিঘি ও সামশেরগঞ্জের বাসিন্দারা আতঙ্কে রয়েছেন ৷ সাগরদিঘির বাসিন্দা রাম মণ্ডল বলেন, "সকাল থেকে দু’আঙুল মতো জল বেড়েছে ৷ এই সময় তো জল আরও বাড়বে ৷
ফরাক্কার বিডিও সুজয় ব্যাপারী বলেন, "নেপালে ঘটে যাওয়া প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে এই পরিস্থিতি ৷ জলস্তর বৃদ্ধির জন্য আপার ক্যাচমেন্টে প্রচুর বৃষ্টিও অন্যতম কারণ ৷ তাই আগামী কয়েকদিন জলস্তর বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে ৷ সতর্কতা জারি করা হয়েছে ৷ ফরাক্কা ব্লক অফিসে একটি কন্ট্রোলরুমও খোলা হয়েছে ৷ কেন্দ্রের জলসম্পদ মন্ত্রকের পক্ষ থেকেও সতর্কতা জারি করা হয়েছে বলে ফরাক্কা ব্যারেজ কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গিয়েছে ৷