বাড়বে নাব্যতা, খুলবে আয়ের পথ ; মাইথনে থাকা 100 মিলিয়ন কিউবিক মিটার বালি তোলার উদ্যোগ
eTV Bharat | ২৯ আগস্ট ২০২৬
আসানসোল, 25 অগস্ট: রাজ্যে দিন প্রতিদিন বাড়ছে বালির দর। নদীঘাটে বেআইনিভাবে বালি উত্তোলন বন্ধ। পর্যাপ্ত বালি আসবে কোথা থেকে তা নিয়ে দুশ্চিন্তা । এমনই আবহে খবর মিলছে যক্ষের ধনের। মাইথন জলাধারে প্রায় 100 মিলিয়ন কিউবিক মিটার বালি সঞ্চিত রয়েছে বলে ডিভিসি জানতে পেরেছে।
বিপুল পরিমাণ এই বালি উত্তোলন করা সম্ভব হলে দু'টি বিষয়ে লাভবান হবে ডিভিসি। একদিকে মাইথন জলাধারের নাব্যতা বৃদ্ধি পাবে। জলধারণ ক্ষমতা বাড়বে। তেমনি নির্মাণকাজে ব্যবহারের জন্য এই বিপুল পরিমাণ বালি বাজারে বিক্রয় করা সম্ভব হলে অর্থনৈতিক দিক থেকেও লাভবান হওয়ার বড় সম্ভাবনা দেখছে ডিভিসি। পাশাপাশি এর থেকে রাজ্যেরও রাজস্ব আদায় হবে।
রাজ্যে 'ডবল ইঞ্জিন' সরকার আসার পরেই ডিভিসি মাইথনে জলাধারে জমে থাকা পলি ও বালি ধাপে ধাপে সরানোর পরিকল্পনা নিচ্ছে। ইতিমধ্যেই পলি মাটি সরানোর জন্য 'গ্লোবাল টেন্ডার' প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে। জলাধার থেকে বিপুল পরিমাণ পলি মাটি সরানো নিয়ে পরীক্ষা-নিরিক্ষার সময়ই জানা যায় প্রায় 353 কোটি সিএফটি বালি মজুত আছে মাইথন জলাধারের গর্ভে। আর এই পলি ও বালি সরানো হলে বাঁধের স্থায়িত্ব ও নাব্যতা কতটা বাড়বে তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া চলছে।
এখন প্রশ্ন উঠছে আদৌ কি জলাধার থেকে পলি সরানো বাস্তবসম্মত ?
অতীতে রাজ্যে তৃণমূল সরকার থাকাকালীন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার মাইথনে ড্রেজিং করার দাবি তুলেছিলেন। রাজ্যে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হলেই মমতা এমন দাবি তুলতেন। বিভিন্ন সময়ে এই দাবি উঠলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। ডিভিসি বরাবরই জানিয়ে এসেছে যে টাকা খরচ হবে পলি তুলতে তা দিয়ে আরেকটি বাঁধ নির্মাণ হতে পারে। কিন্তু রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলে এবার সেই পলি সরানোর পরিকল্পনাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে ডিভিসি।
ডিভিসি সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই বাঁধের তলদেশে কত পরিমাণ পলি ও বালি জমেছে, তা নির্ধারণ করতে বিশেষজ্ঞ সংস্থার মাধ্যমে সমীক্ষা করানো হয়েছে। সেই সমীক্ষায় বিপুল পরিমাণ বালির অস্তিত্বের কথা উঠে এসেছে। পলি থেকে বালি আলাদা করে উত্তোলন করা গেলে ডিভিসির পাশাপাশি রাজ্য সরকারেরও রাজস্ব আয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। জানা গিয়েছে, বাঁধ থেকে পলি বা বালি উত্তোলনের জন্য ড্রেজিং পদ্ধতি ব্যবহার করা হতে পারে। উত্তোলিত বিপুল পরিমাণ বালি কোথায় রাখা হবে, সেই প্রশ্নও রয়েছে।
তবে বর্তমানে বালির বাণিজ্যিক সম্ভাবনাই ডিভিসির কাছে অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে বালি তুলে তা বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবহার করা গেলে বিপুল আর্থিক লাভ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ডিভিসির তরফে জানা গিয়েছে, জলাধারের জলকে তিনটি জোনে ভাগ করা হয়েছে। সবচেয়ে নীচের অংশকে 'ডেড জোন', তার উপরের অংশকে 'লাইভ জোন' এবং তারও উপরের অংশকে 'ফ্লাড জোন' বলা হয়। সমীক্ষা অনুযায়ী, জলাধারের ডেড জোনে বড় অংশে পলি জমেছে। প্রায় 57 শতাংশ ভরে গিয়েছে। বাকি জোনগুলিও পলির গ্রাসে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পলি ক্রমাগত জমতে থাকলে ভবিষ্যতে জলাধারের জলধারণ ক্ষমতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই পলি ও বালি উত্তোলনের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে জলাধারের ধারণক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে বাঁধের কার্যকারিতাও বজায় রাখা সম্ভব হতে পারে। একইসঙ্গে উত্তোলিত বালি বিক্রি করে ডিভিসির স্থায়ী আয়ের পথও খুলে যেতে পারে। তবে বছরে চার মিলিয়ন কিউবিক মিটার করে পলি তোলার কাজ চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে ডিভিসি।
কারণ প্রতিবছরই পলি জমবে। তাই নিয়মিতভাবেই এই কাজ চালিয়ে যেতে যেতে হবে। ডিভিসির প্রজেক্ট হেড সুবীর সাহা বলেন, "ডিভিসির বাঁধ থেকে পলি তোলার উদ্যোগের বিষয়ে ভাবনা চিন্তা চলছে।" এখন দেখার এই প্রকল্প কবে বাস্তবায়নের পথে হাঁটে।