মালদা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে শুধু অগস্ট মাসেই ৮৯ শিশুর মৃত্যু নিয়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজ্যের স্বাস্থ্য মহলে। স্বাস্থ্য ভবন গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটির অনুসন্ধানে জানা গেল, হাসপাতালে শিশুমৃত্যুর জন্য দায়ী মূলত অপুষ্টি। এ ছাড়াও রয়েছে জন্মের পরে শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগ, জন্ডিস এবং কম ওজনের সমস্যা।
সম্প্রতি শিশুমৃত্যুর পরিসংখ্যান প্রকাশ্যে আসার পরেই বিশেষজ্ঞ কমিটি গড়ে স্বাস্থ্য ভবন। কমিটির চেয়ারম্যান চিকিৎসক ও অ্যাডিশনাল ডিরেক্টর হেলথ সার্ভিসেস প্রলয় আচার্য। এ ছাড়াও রয়েছেন মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসক অধ্যাপক রাজশেখর সরকার ও ভোলানাথ আইচ এবং এসএসকেএম-এর চিকিৎসক অধ্যাপক বিজন সাহা। শনিবার দুপুরে তাঁরা হাসপাতাল পরিদর্শনে যান। ঘুরে দেখেন হাসপাতালের শিশু বিভাগ। বিভিন্ন পরিকাঠামো ও রোগী পরিষেবাও খতিয়ে দেখা হয়। অনুসন্ধান কমিটির সদস্যরা কথা বলেন সংশ্লিষ্ট আধিকারিক ও চিকিৎসকদের সঙ্গেও।
মালদা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল সূত্রে খবর, চলতি বছরের জুলাই মাসে হাসপাতালে ৭৭ শিশুর মৃত্যু হয়। অগস্টে সেই সংখ্যা বেড়ে হয় ৮৯। অর্থাৎ এই দু’মাস মিলিয়ে ১৬৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। অন্য দিকে, গত বছর অগস্ট মাস পর্যন্ত মালদা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে শিশুমৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৯৬। এই পরিসংখ্যান নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে স্বাস্থ্য মহলে। বিশেষজ্ঞ কমিটির চেয়ারম্যান প্রলয় বলেন, ‘ঘটনা খুবই উদ্বেগজনক। হাসপাতাল পরিদর্শন করে একাধিক পরিকাঠামোগত ত্রুটি নজরে এসেছে। শিশুমৃত্যুর পিছনে অপুষ্টি একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। পাশাপাশি জন্মের পর শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগ, জন্ডিস এবং কম ওজন থাকায় বেশ কয়েকটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে।’
প্রলয় আরও জানান, জেলা স্বাস্থ্য দফতরের বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সমন্বয়ের ক্ষেত্রেও কিছু ঘাটতি রয়েছে। বিষয়গুলি বিস্তারিত ভাবে খতিয়ে দেখে রিপোর্ট তৈরি করা হচ্ছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে। তার পাশাপাশি, শিশুদের চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আরও সচেতনতা প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।