কৌশিকী অমাবস্যার আগে বীরভূম জেলা, বিশেষ করে তারাপীঠের কালী মন্দির নিয়ে একাধিক পরিকল্পনার কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রামপুরহাটে প্রশাসনিক সভার পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি। সেখানেই তারাপীঠের পরিকাঠামো, লজ তৈরি থেকে শুরু করে কৌশিকী অমাবস্যাকে কেন্দ্র করে একাগুচ্ছ পরিকাঠামোর কথা জানিয়েছেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরে এই প্রথম বীরভূম জেলা সফরে মুখ্যমন্ত্রী। কয়েকদিন আগেই তারাপীঠের হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে ৯ জন পর্যটকের মৃত্যু ঘটেছে। ওই ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রীর মত, তারাপীঠকে জতুগৃহ বানিয়ে রাখা হয়েছে। এই ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে তার জন্য পদক্ষেপ করতে বলা হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
কৌশিকী অমাবস্যা ঘিরে তারাপীঠের কালীমন্দির ও মহাশ্মশানে ব্যাপক আয়োজন হয়। বহু ভক্ত ভিড় করেন কৌশিকী অমাবস্যার সময়ে পুজো দিতে। ওই সময়ে সব কিছু ঠিকমতো আয়োজন করার জন্য ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, ‘অর্থের কোনও অভাব হবে না।’ তারাপীঠে বহু পুণ্যার্থীর সমাগম হয়, বিশেষ বিশেষ তিথিতে এত ভিড় হয় যে থাকার জায়গাও পাওয়া যায় না। এই সমস্যা মেটাতে বড় ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘জেলাশাসককে বলে গিয়েছি বড় ট্যুরিস্ট লজ করতে। মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্তরা যাতে কম পয়সায় থাকতে পারেন।’
রাস্তায় ৫ কিমি অন্তর সহায়তা ক্যাম্প তৈরি করা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে ওআরএস দেওয়া হবে, মেডিক্যাল ক্যাম্প থাকবে। পুলিশ ক্যাম্প থাকবে। ওই ক্যাম্পে বাউল গানও হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
এছাড়াও, ১০ অক্টোবরের মধ্যে সব রাস্তা মেরামতি করে ফেলতে হবে বলেও স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পঞ্চায়েত এলাকা উন্নতির জন্য বিডিওদের আরও বেশি করে দায়িত্ব নেওয়ার কথা বলেছেন তিনি। সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে ফের তিনি বীরভূমে আসবেন বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ওই সময়ে দেউচা পাচামি নিয়ে কংক্রিট রোডম্যাপ করার ভাবনা রয়েছে।