• পরিবারের তিন জনের আত্মহত্যা, ঘরের দেওয়ালে লেখা ছিল, ‘মৃত্যুর জন্য দায়ী রবীন্দ্রনাথ…’ রহস্য উন্মোচন পুলিশের
    এই সময় | ২৯ আগস্ট ২০২৬
  • হুগলির ধনিয়াখালিতে ভাড়া বাড়ি থেকে একই পরিবারের তিন জনের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছিল শুক্রবার। তিন জনেই আত্মহত্যা করেছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানিয়েছিল পুলিশ। যে ঘর থেকে দেহ উদ্ধার হয়, সেই ঘরের দেওয়ালে একাধিক ব্যক্তির নাম লেখা ছিল। ঠিক কী কারণে তাঁরা আত্মহত্যা করেছেন, তা নিয়ে রহস্য দানা বেঁধেছিল। এই ঘটনায় ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধৃতরা হলেন প্রতিবেশী রবীন্দ্রনাথ মুর্মু, ভাড়া বাড়ির মালিক মধুমিতা সিংহ রায়, মধুমিতার মা টিঙ্কু ওরফে ইন্দ্রাণী সিংহ রায় এবং মধুমিতার স্বামী জয় সিংহ।

    ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, ডানকুনির বাসিন্দা উত্তম চাঁই ধনিয়াখালি সোমসপুর দুলেপাড়ায় একটি ভাড়া বাড়িতে উঠে আসেন কয়েকমাস আগে। ভাড়া বাড়ির মালিক মধুমিতা সিং রায়ের কাছে বাড়িটি ক্রয় করার জন্য চার লক্ষ টাকা অগ্রিম বাবদ দেন উত্তম। অন্য দিকে, এক প্রতিবেশী রবীন্দ্রনাথ মুর্মুর বাড়িতেও প্রতিদিন যাতায়াত ছিল উত্তমের।

    এর মাঝে রবীন্দ্রনাথের বাড়ি থেকে লক্ষাধিক টাকা সোনার গয়না চুরি যায় গত ১৬ অগস্ট। ঘরের তালা না ভেঙে কী ভাবে চুরি হলো তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। সন্দেহ গিয়ে পড়ে উত্তমের উপরে। ঠিক সেই সময়েই উত্তম স্থানীয় এক ব্যক্তিকে বেশ কিছু গয়না বিক্রি করেন। সেই টাকা থেকে বাড়ি কেনার জন্য ভাড়া বাড়ির মালিক মধুমিতা সিংহ রায়কে ৪ লক্ষ দেওয়া হয়।

    বিষয়টি নিয়ে উত্তমের বাড়িতে এসে চাপ দিতে থাকে রবীন্দ্রনাথ-সহ মধুমিতা, জয় ও ইন্দ্রাণী। সূত্রের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে উত্তম চাঁই তার দোষ স্বীকার করেন। গয়না বিক্রি করে পাওয়া ৮ লক্ষ টাকা রবীন্দ্রনাথকে ফিরিয়ে দেন। চুরি যাওয়া সোনার বাজার দর অনুযায়ী আরও চার লক্ষ টাকা দেওয়ার কথা জানান রবীন্দ্রনাথ। এমত অবস্থায় উত্তমকে হুমকি দেওয়া হয় ও বাড়ির মালিক মধুমিতা সিংহ রায় তাঁকে বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বলেন। লোকলজ্জার ভয়ে ও আর্থিক চাপে পড়েই উত্তম নিজেকে ও তাঁর পরিবারকে শেষ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বলে মনে করছে পুলিশ।

    এই ঘটনায় আরও একজন জড়িত থাকতে পারে বলে অনুমান পুলিশের। ধৃতদের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মৃত্যুর প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ দায়ের হয়। তবে তিনজনের মৃত্যুর পিছনে সত্যি এই ঘটনা রয়েছে কি না, বকেয়া টাকা ফিরিয়ে দিতে সত্যি চাপ দেওয়া হয়েছিল কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শনিবার ধৃতদের চুঁচুড়া আদালতে পেশ করা হয়।

    প্রসঙ্গত, শুক্রবার ধনিয়াখালির সোমসপুর দুলেপাড়ায় একটি ভাড়া বাড়ি থেকে উত্তম চাঁই (৫২), মা রূপা চাঁই (৪৫) ও মেয়ে অঙ্কিতা চাঁই-এর দেহ উদ্ধার হয়। যে ঘর থেকে দেহ উদ্ধার হয়, সেই ঘরের দেওয়ালে লেখা ছিল দেওয়ালে লেখা রয়েছে ‘আমাদের মৃত্যুর জন্য দায়ী রবীন্দ্রনাথ, ইন্দ্রাণী সিং রায়’, আরেকটি জায়গায় লেখা রয়েছে ‘আমাদের ৩ জনের মৃত্যুর জন্য দায়ী রবীন্দ্রনাথ মুর্মু, টিঙ্কু, মেয়ে, জামাই।’ ঘটনার তদন্ত শুরু করছে ধনিয়াখালি থানার পুলিশ।

  • Link to this news (এই সময়)