মাত্র ১৫ মিনিট। গাড়ি ধরতে সেই সামান্য দেরিই নতুন জীবন দিল বসিরহাটের শিক্ষক দম্পতি অনুকূল পোদ্দার ও রেবা পোদ্দারকে। কাঠমান্ডু থেকে গাড়িতে ওঠার কথা ছিল তাঁদের। ভিসা ভেরিফিকেশনের জন্য মিনিট পনেরো দেরি হয়। তাতেই প্রাণ রক্ষা পায় পোদ্দার দম্পতির।
অনুকূল এবং তাঁর স্ত্রী রেবা বসিরহাট পুরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাছারিপাড়ার বাসিন্দা। দু’জনেই প্রাক্তন স্কুল শিক্ষক। চলতি মাসে নেপালে বেড়াতে গিয়েছিলেন তাঁরা। বুধবার হড়পা বানে ভেসে যায় সব কিছু। সেই সময়ে স্ত্রীকে নিয়ে নেপালেই ছিলেন অনুকূল। দুর্যোগের পরে দীর্ঘ সময়ে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। উদ্বেগে দিন কাটছিল পরিবার ও প্রতিবেশীদের।
অবশেষে শুক্রবার তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়। ফোনে পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন দু’জনেই। তাঁরা জানিয়েছেন, ভয়াবহ বিপদের মধ্যে পড়লেও শেষ পর্যন্ত তাঁরা নিরাপদে রয়েছেন। আতঙ্কের রেশ এখনও কাটেনি, তবে বড় বিপদ কেটে যাওয়ায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে পরিবারে।
অনুকূল ও রেবা জানিয়েছেন, তাঁদের সঙ্গে থাকা দলের অন্য সদস্যরাও নিরাপদে রয়েছেন। শনিবার সকালে তাঁরা ট্রেনে উঠবেন, রবিবার বাড়ি ফিরবেন। তবে রাজ্য সরকার তাঁদের বিমানে বাড়ি ফেরানোর তোড়জোড় করছে। ফলে শেষ পর্যন্ত তাঁরা ট্রেনেই ফিরবেন, না কি বিমানে—তা এখনও নিশ্চিত নয়।
কখনও কখনও জীবনের সবচেয়ে বড় মোড় আসে কয়েক মিনিটের ব্যবধানে। কাঠমান্ডুর সেই ১৫ মিনিটের দেরি অনুকূল-রেবার কাছে হয়তো তেমনই এক মুহূর্ত। এখন শুধু একটাই প্রার্থনা—সুস্থ শরীরে যেন বাড়ি ফিরতে পারেন অনুকূল ও রেবা। আবার ভরে উঠুক ঘরের পরিচিত উঠোন।