• মেসির ইভেন্টে গিয়েছিলেন? ৩৩ হাজার দর্শকের টাকা ফেরাবে সরকার, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
    আজ তক | ৩০ আগস্ট ২০২৬
  • Suvendu Messi Kolkata: যুবভারতীতে মেসির ইভেন্টের দর্শকদের টাকা ফেরানোর চেষ্টা করছে রাজ্য সরকার। শনিবার জাতীয় ক্রীড়াদিবসের অনুষ্ঠানে এমনই ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানিয়েছেন, মেসির অনুষ্ঠান দেখতে গিয়ে প্রায় ৩৩ হাজার দর্শক সমস্যায় পড়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে অনেকে ৪ হাজার, ৬ হাজার এমনকি ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ করে টিকিট কিনেছিলেন। সেই টাকা কীভাবে ফেরানো যায়, তা নিয়ে প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি।

    'মেসিকে দেখতে সারা বছরের জমানো টাকা খরচ'
    মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মূলত তরুণ প্রজন্মই এই অনুষ্ঠানে যেতে টিকিট কেটেছিলেন। তাঁদের অনেকেই সারা বছরের সঞ্চয় ভেঙে টিকিট কিনেছিলেন।  

    মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, মেসির মতো তারকার অনুষ্ঠান ঘিরে এমন ঘটনা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। তাই ক্ষতিগ্রস্ত দর্শকদের টাকা ফেরানোর জন্য সরকার চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়ার জন্য কিছুটা সময় লাগবে বলেও জানান তিনি।

    ক্রীড়ায় ৪০০ কোটি টাকা, ২৯৪ কেন্দ্রে মিনি স্টেডিয়াম
    জাতীয় ক্রীড়াদিবসের মঞ্চ থেকে বাংলার ক্রীড়াক্ষেত্রের জন্য একাধিক বড় পরিকল্পনার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর ঘোষণা, ক্রীড়া দফতরের জন্য ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

    রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রেই মিনি ইনডোর স্টেডিয়াম তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে টেবিল টেনিস, ব্যাডমিন্টন এবং জিমের মতো ব্যবস্থা থাকবে। তবে একসঙ্গে সবগুলি তৈরি করা হবে না। প্রথম বছরে ১০০টি মিনি ইনডোর স্টেডিয়াম তৈরির লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে।

    এর পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা ক্রীড়া পরিকাঠামোও নতুন করে চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। শ্রী অরবিন্দ স্টেডিয়াম-সহ বিভিন্ন অচল ক্রীড়া প্রতিষ্ঠানকে ফের সচল করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।

    বড় ক্লাবগুলিকে বছরে ১ কোটি টাকা?
    রাজ্যের ক্রীড়াক্ষেত্রে ক্লাবগুলির ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, কলকাতার বড় ক্লাবগুলির সঙ্গে বৈঠক করে তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। জাতীয় স্তরের ক্লাবগুলিকে বছরে ১ কোটি টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়ার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে।

    জাতীয় ক্রীড়াদিবস উপলক্ষে এ দিন বহু কৃতী ক্রীড়াবিদকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। মোট ১৪৫ জন কৃতী প্রতিযোগীকে সম্মানিত করা হয়েছে। তাঁদের হাতে মোট ৪ কোটি ৩১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়।

    পদক জেতার পর নয়, আগেই টাকা পাবেন খেলোয়াড়েরা
    ক্রীড়াবিদদের আর্থিক সাহায্যের নীতিতেও বদল আনার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, কোনও খেলোয়াড় পদক জেতার পরেই শুধু পুরস্কার দেওয়ার নীতি যথেষ্ট নয়। আন্তর্জাতিক বা জাতীয় প্রতিযোগিতায় যোগ্যতা অর্জনের পর থেকেই খেলোয়াড়দের পাশে দাঁড়াতে হবে।

    এ ক্ষেত্রে হরিয়ানার ক্রীড়া মডেলের উদাহরণ দেন তিনি। আন্তর্জাতিক স্তরে যাওয়ার আগে খেলোয়াড়দের আর্থিক সাহায্য করে উৎসাহ দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।

    পাশাপাশি পুলিশ-সহ বিভিন্ন সরকারি ‘ডিসিপ্লিনড সেক্টর’-এ স্পোর্টস কোটায় চাকরির সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগের কথাও জানানো হয়েছে। চালু করা হবে ‘অটল খেলরত্ন খেল সম্মান’ও।

    ২০১৫ সাল থেকে ফাইল আটকে থাকার অভিযোগ
    অনুষ্ঠানে বাংলার ক্রীড়াক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থা নিয়েও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকারের আমলে ক্রীড়াক্ষেত্রকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। বহু ক্রীড়াবিদের নিয়োগ সংক্রান্ত ফাইল বছরের পর বছর আটকে ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

    তাঁর বক্তব্য, অলিম্পিক্স, এশিয়ান গেমস, কমনওয়েলথের মতো বড় প্রতিযোগিতায় বাংলার প্রতিনিধিত্ব প্রত্যাশামতো হচ্ছে না। প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও সঠিক পরিকাঠামো, আর্থিক সাহায্য এবং উৎসাহের অভাবে বাংলার খেলোয়াড়েরা পিছিয়ে পড়ছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    দিল্লি থেকে ১০০০ কোটি টাকা আনার লক্ষ্য
    কেন্দ্রের ‘খেলো ইন্ডিয়া’ প্রকল্প থেকেও বড় অঙ্কের অর্থ আনার পরিকল্পনা রয়েছে রাজ্যের। এই প্রকল্প নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট বা DPR তৈরি করে দিল্লিতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রয়োজনে ১০০০ কোটি টাকা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় অর্থ আনার চেষ্টা করা হবে। ক্রীড়ামন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের দিল্লিতে গিয়ে প্রকল্পের বিস্তারিত প্রস্তাব জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।  
  • Link to this news (আজ তক)