• ‘নিজেদের ঈশ্বর ভাবছেন নাকি’, তুকারাম মুণ্ডের নির্দেশ বাতিল করে ক্ষোভপ্রকাশ বম্বে হাই কোর্টের
    প্রতিদিন | ৩০ আগস্ট ২০২৬
  • হাই কোর্টে ধাক্কা খেলেন মহারাষ্ট্রের ‘সিংহম’ আইএএস তুকারাম মুণ্ডে। মুম্বই ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের পাঁচটি রেস্তরাঁর লাইসেন্স সাসপেন্ড করার যে নির্দেশ তুকারামের দপ্তরের তরফে দেওয়া হয়েছিল, সেটা খারিজ করে দিল বম্বে হাই কোর্ট। একই সঙ্গে আদালতের ভর্ৎসনা, “নিজেদের ঈশ্বর ভাবছেন নাকি। আপনারা বাস্তবিক দৃষ্টিতে কিছু দেখতে পারেন না। শুধু নিয়মের ফাঁসে আটকে থাকেন কেন?”

    কিছুদিন আগে মুম্বই ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের (এমসিএ) পাঁচটি রেস্তরাঁয় হানা দিয়েছিলেন মহারাষ্ট্র ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের কমিশনার তুকারাম। সেখানে গিয়ে তিনি দাবি করেন, এমসিএর অধীনে যে পাঁচটি রেস্তরাঁ চলছে, সেখানে ন্যূনতম স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। ক্রিকেটারদের আমিষ চা খাওয়ানো হচ্ছে। রান্নাঘর আরশোলা-মাছিতে ভর্তি। মেঝে পিচ্ছিল। রান্নাঘর ও অন্যান্য জায়গায় অপরিচ্ছন্নতার ছাপ। শেষমেশ বান্দ্রা-কুরলা কমপ্লেক্সে (বিকেসি) এমসিএ-র পাঁচটি রেস্তরাঁর লাইসেন্স বাতিল করে দেওয়া হয়।

    কিন্তু মহারাষ্ট্র ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাই কোর্টে পালটা আবেদন করে মুম্বই ক্রিকেট সংস্থা। সেই মামলাতেই বম্বে হাই কোর্ট তুকারামকে তীব্র ভর্ৎসনা করেছে। ওই পাঁচ রেস্তরাঁর লাইসেন্স সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত বাতিল করে আদালত বলে, “আপনারা নিয়ম সর্বস্ব না হয়ে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না? আদালত বলছে, “আপনারা আমাদেরই নির্দেশ ব্যবহার করে অহেতুক তাড়াহুড়ো করে নিয়ম সর্বস্ব সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। আপনাদের বকাবকি করতে করতে আমরা ক্লান্ত। এবার কড়া সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আপনারা এসব সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিন নয়তো জেলে যান।”

    মহারাষ্ট্র হাই কোর্ট বলছে ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন সব সিদ্ধান্তে অহেতুক তাড়াহুড়ো করছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ঘুগে এবং বিচারপতি গৌতম অঙ্খড়ের ডিভিশন বেঞ্চ বলছে, “আপনারা মশা মারতে তলোয়ার ব্যবহার করেন কেন? নিজেদের ঈশ্বর ভাবছেন নাকি? আপনারা যা খুশি করতে পারেন?” আদালতের বক্তব্য, এই ধরনের সিদ্ধান্ত ভেবে চিন্তে নেওয়া উচিত। সিদ্ধান্ত যেন বাস্তবসম্মত হয়। অথচ তুকারাম মুণ্ডেরা অহেতুক তাড়াহুড়ো করে, শুধু নিয়মের দোহাই দিয়ে শিরোনাম কুড়নোর চেষ্টা করছেন।
  • Link to this news (প্রতিদিন)