হকির জাদুকর মেজর ধ্যানচাঁদের জন্মবার্ষিকীতে দেশজুড়ে পালিত হয়েছে জাতীয় ক্রীড়া দিবস। সেই উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গেও বিশেষ অনুষ্ঠান। নবান্নে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। যেখানে কৃতী ক্রীড়াবিদদের সংবর্ধনা ও চাকরির নিয়োগপত্র দেওয়া হয়। তারপর মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের ক্রীড়া বাজেট থেকে মেসি কাণ্ডের টাকা ফেরানোর মতো বিষয় নিয়ে কথা বলেন। পাশাপাশি বিগত সরকারের আমলের ‘অবহেলা’ নিয়েও মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী।
নবান্নে জাতীয় ক্রীড়া দিবসের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন হকি খেলোয়াড় গুরুবক্স সিং, ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ, সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি কল্যাণ চৌবে প্রমুখ। বিগত সরকারকে তোপ দেগে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আপনারা জানলে অবাক হবেন, আজ নিয়োগপত্র পাওয়া ক্রীড়াবিদদের মধ্যে অনেকের কাগজ ১১ বছর মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে পড়ে ছিল। গত কয়েক বছরে অলিম্পিক, এশিয়াড বা জাতীয় দলে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিনিধি প্রায় শূন্য। অথচ উড়িষ্যা, ঝাড়খণ্ড থেকে প্রতিনিধি পাঠায়। বাংলায় মেধা-বুদ্ধি-নিষ্ঠা-একাগ্রতা আছে। কিন্তু ব্যবস্থা, উদ্যোগ, সদিচ্ছা নেই। প্রতিটি ক্রীড়া ক্ষেত্র বা সংগঠন রাজনীতির দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবে কেন? এবারের পরিবর্তন হবে সেই ব্যবস্থার পরিবর্তন। আমরা সেটা করে দেব।”
কীভাবে হতে পারে, সেটারও রূপরেখা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “আমরা চারশো কোটি বাজেট ধরেছি ক্রীড়াক্ষেত্রে। যদিও এটা পূর্ণাঙ্গ নয়, আট মাসের বাজেট। ২৯৪টা বিধানসভা কেন্দ্রে মিনি ইনডোর স্টেডিয়াম গড়ব। যেখানে টেনিস কোর্ট, ব্যাডমিন্টন কোর্ট, জিম সব থাকবে। এক বছরে তো ২৯৪টা স্টেডিয়াম গড়া সম্ভব নয়। এবছর ১০০টা স্টেডিয়াম তৈরি করব। সে স্টেডিয়ামগুলো আছে, সেগুলোও ভগ্নপ্রায়। বিগত সরকার ক্রীড়াক্ষেত্রে অবহেলা করেছে।”
তারপরই তিনি মেসি-কাণ্ডের কথা উল্লেখ করেন। ২০২৫-র ১৩ ডিসেম্বর লিওনেল মেসি যুবভারতীতে আসেন। কিন্তু সেখানে বিশৃঙ্খলা হয়। যার জন্য তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ‘অতি মাখামাখি’কে দায়ী করা হয়। সেই দিন স্টেডিয়ামে আগত দর্শকরা টাকা ফেরতের দাবি জানালেও তা এখনও পূর্ণ হয়নি। সেই প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু আশ্বাস দেন, “মেসির প্রচুর ভক্ত। তারা ৪০০০, ৬০০০ টাকার টিকিট কেটেছিলেন। আমার ইচ্ছা আছে ৩৩ হাজার ক্রীড়াপ্রেমীর টাকা যাতে ফেরত করাতে পারি। আমি তার প্রক্রিয়া আভ্যন্তরীণভাবে চালু করেছি। আশা করি, সেটা করতে পারব।”