এই সময়, গঙ্গারামপুর: মাছ চাষিদের সামনে কার্যত ঝুঁকতে হলো দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পরিষদকে। তিন বছরের জন্য লিজ নিয়ে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পরিষদের অধীনে থাকা গঙ্গারামপুরের কালদিঘিতে মাছ চাষ করেছিলেন কয়েক জন চাষি। তাঁদের অভিযোগ, মাছ বড় হওয়ার মুখেই ব্যাপক হারে দিঘি থেকে জল তুলতে শুরু করে সেচ দপ্তর। এর ফলে কোটি টাকার মাছ নষ্ট হয়ে যায়। আর্থিক লোকসানের মুখ দেখতে হয় চাষিদের। এ নিয়ে একাধিকবার প্রশাসনের দরজায় ঘুরেও বিষয়টির সুরাহা না-হওয়ায় ক্ষতিপূরণের দাবিতে আইনি লড়াইয়ে নামেন চাষিরা। আদালত তাঁদের পক্ষে রায় দিয়ে জেলা পরিষদকে ১ কোটি ৮৪ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে বলে। অভিযোগ, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সেই ক্ষতিপূরণ না-মেটানোয় এ বার জেলা পরিষদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিল আদালত।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২২-এ। জেলা পরিষদের অধীনস্থ কালদিঘি তিন বছরের জন্য লিজ নেয় বৈদ্যনাথ মৎস্যচাষি স্বনির্ভর দল। নয় সদস্যের ওই দলটি লক্ষাধিক টাকা বিনিয়োগ করে দিঘিতে মাছ চাষ শুরু করে। অভিযোগ, চাষ চলাকালীনই সেচের জন্য দিঘি থেকে ব্যাপক হারে জল তুলতে শুরু করে সেচ দপ্তর। এর ফলে জলস্তর নেমে গিয়ে মাছ চাষ কার্যত ধ্বংস হয়ে যায়। ওই স্বনির্ভর দলের সম্পাদক বাসুদেব হালদারের দাবি, 'এ নিয়ে গত তিন বছরে একাধিকবার জেলা পরিষদ এবং জেলাশাসককের কাছে অভিযোগ জানিয়েছি। কিন্তু কোনও কাজ হয়নি। ২০২৩-২৪-এ পরিস্থিতি চরমে পৌঁছয়। জলস্তর দুই ফুটেরও নীচে নেমে যাওয়ায় হাজার হাজার মাছ মরতে শুরু করে।'
তার পরেই কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন তাঁরা। কয়েক মাস আগে আদালতের হস্তক্ষেপে জেলাশাসকের উপস্থিতিতে ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, দিঘিতে অন্তত পাঁচ-ছ'ফুট জল রাখতে হবে। উদ্বৃত্ত জল থাকলে তবেই সেচের কাজে তা নেওয়া যাবে। স্বনির্ভর দলের অভিযোগ, আদালতের সেই নির্দেশ মানা হয়নি।
এরপরে রাজ্যের মৎস্য দপ্তরের আধিকারিক সরেজমিনে খতিয়ে দেখে জানান, দিঘিতে দু'ফুটেরও কম জল রয়েছে। তার পরেই ক্ষতিপূরণের দাবিতে ফের আদালতের দ্বারস্থ হন চাষিরা। হাইকোর্ট নিযুক্ত নিরপেক্ষ আর্বিট্রেটর ১ কোটি ৮৪ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দেন। বর্তমানে সুদ-সহ সেই ক্ষতিপূরণের অঙ্ক বেড়ে প্রায় ১ কোটি ৯৯ লক্ষ টাকা হয়েছে বলে দাবি মামলাকারীদের। অভিযোগ, এ বারও আদালতের নির্দেশ মানেনি জেলা পরিষদ। এরপরেই জেলা পরিষদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেয় আদালত। মামলাকারীদের পক্ষে আইনজীবী প্রসূন চৌধুরী বলেন, 'টাকা না-মেটানোয় আদালত জেলা পরিষদের আসবাবপত্র অধিগ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে। নাজিরখানাকে সঙ্গে নিয়ে সম্পত্তির ছবি তুলে নির্দেশ কার্যকরের কথাও বলা হয়েছে। নির্দেশ কার্যকর না-হলে জেলা পরিষদের আধিকারিকদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করা হবে।'
এ দিকে বিষয়টি নিয়ে জেলা পরিষদের সভাধিপতি চিন্তামণি বিহা বলেন, 'কোর্টের অর্ডার কপি দেখে প্রশাসনিক আলোচনার বিষয় রয়েছে। তার পরেই যাবতীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এর বেশি কিছু বলতে পারব না।'