মাত্র ১০০ গ্রাম MDMA উদ্ধারের তদন্ত করতে গিয়েই সামনে এল মাদক পাচারের বিশাল চক্র। সেই সূত্র ধরে অভিযান চালিয়ে কোয়েম্বাটোরের কাছে একটি গাড়ি থেকে উদ্ধার হল ১২.৮ কেজি MDMA অর্থাৎ বিশেষ ধরনের মাদক, যার বাজারমূল্য ১০ কোটি টাকারও বেশি বলে জানিয়েছে পুলিশ। কেরালা পুলিশের মালাপ্পুরম জেলা পুলিশের অভিযানে এই বিপুল পরিমাণ সিন্থেটিক মাদক উদ্ধার হয়েছে। ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের নাম জাবির আলি ও শাইম আকবর, দু’জনই মালাপ্পুরমের বাসিন্দা এবং মহম্মদ সালিহ, যিনি ওয়ানাড়ের বাসিন্দা। মালাপ্পুরম জেলা পুলিশ প্রধান চৈত্রা তেরেসা জনের নেতৃত্বে বিশেষ দল এই অভিযান চালায়। দলের মধ্যে ছিলেন মঞ্জেরি থানার ইনস্পেক্টর টি জি দিলীপ এবং জেলা DANSAF স্কোয়াডের সদস্যরা।
তদন্তকারীদের হাতে প্রথম বড় সূত্র আসে কয়েক সপ্তাহ আগে। গোপন খবরের ভিত্তিতে মঞ্জেরি শহরের একটি বেসরকারি অ্যাপার্টমেন্টে অভিযান চালায় পুলিশ। সেখানে প্রায় ১০০ গ্রাম MDMA-সহ ছ’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করতেই তদন্তকারীরা জানতে পারেন, তাঁদের পিছনে আরও বড় একটি আন্তঃরাজ্য মাদক সরবরাহ চক্র রয়েছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত এগোতে থাকে। পুলিশ জানতে পারে, দিল্লি, মুম্বই এবং বেঙ্গালুরু থেকে বিপুল পরিমাণ MDMA সংগ্রহ করে গোপন জায়গায় মজুত করা হতো। পরে সেখান থেকে কেরালা ও তামিলনাড়ুর বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হতো এই মাদক।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, মাদক পাচারের জন্য চক্রটি বিলাসবহুল গাড়ি ব্যবহার করত। গাড়ির ভিতরে বিশেষ ভাবে তৈরি গোপন জায়গায় মাদক লুকিয়ে এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে নিয়ে যাওয়া হতো।
তদন্তকারীদের নজর যায় তামিলনাড়ুর দিকে। কোয়েম্বাটোর, পালানি এবং কোদাইকোনালকে মাদক পাচার চক্রটির গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজ়িট পয়েন্ট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এর পরে মধ্যস্থতাকারী এবং সন্দেহভাজনদের গতিবিধির উপর নজরদারি শুরু করে পুলিশ।
এরপর কোয়েম্বাটোরের কাছে তিন অভিযুক্তকে আটক করে তল্লাশি চালানো হয়। তাঁদের ব্যবহৃত একটি টয়োটা ইনোভা গাড়ির দরজার প্যানেলের ভিতরে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা ছিল MDMA-র প্যাকেটগুলি।
পুলিশের দাবি, মোট ১২.৮ কেজি মাদককে ছোট ছোট প্যাকেটে ভাগ করা হয়েছিল। প্রতিটি প্যাকেটে প্রায় ১০০ গ্রাম থেকে ৫০০ গ্রাম পর্যন্ত MDMA ছিল। এই প্যাকেটগুলি কেরালার একাধিক এলাকায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছিল।
তদন্তকারীদের মতে, উদ্ধার হওয়া মাদকগুলি কোনও একটি জায়গায় বিক্রির জন্য ছিল না। বরং তিরুঅনন্তপুরম থেকে কাসারগোড় পর্যন্ত কেরালার বিভিন্ন এলাকায় আলাদা আলাদা জায়গায় ‘ড্রপ’ করার পরিকল্পনা ছিল। অর্থাৎ নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে ছোট ছোট চালানে মাদক পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। পুলিশের অনুমান, খুচরো বাজারে এই ১২.৮ কেজি MDMA-র মূল্য ১০ কোটি টাকারও বেশি হতে পারে।
তিনজনকে গ্রেপ্তার করলেও তদন্ত এখানেই শেষ হচ্ছে না। এত বিপুল পরিমাণ MDMA কোথা থেকে আনা হয়েছিল, কারা এই চালানের পিছনে রয়েছে এবং কেরালা ও তামিলনাড়ুতে কারা মাদকগুলি গ্রহণ করার কথা ছিল—তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
পুলিশের মতে, এই ঘটনায় একটি বড় আন্তঃরাজ্য নেটওয়ার্কের সন্ধান মিলেছে। দিল্লি, মুম্বই ও বেঙ্গালুরুর সঙ্গে এই চক্রের যোগাযোগের তথ্যও তদন্তে উঠে এসেছে। ফলে আগামী দিনে আরও গ্রেপ্তারি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। পুলিশের দাবি, এই অভিযান কেরালা ও তামিলনাড়ুতে সক্রিয় একটি বড় সিন্থেটিক ড্রাগ নেটওয়ার্কের শিরদাঁড়া ভেঙে দিয়েছে।