শুধু মুসলিম মহিলাদের বিনামূল্যে শিক্ষা, আলাদা কলেজ! বিজয়ের ঘোষণায় বিতর্ক
প্রতিদিন | ৩০ আগস্ট ২০২৬
সংখ্যালঘু উন্নয়নের নামে তোষণ! ধর্ম বেছে বেছে সরকারি প্রকল্প ঘোষণা। ক্ষমতায় আসার চার মাসের মধ্যে বিতর্কে থলপতি বিজয়। দিন দুই আগে তামিলনাড়ু সরকারের ঘোষিত এক সিদ্ধান্তে প্রবল বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিজয়ের সরকার ঘোষণা করেছে, সে রাজ্যে এবার থেকে মুসলিম ছাত্রীদের স্নাতক পর্যন্ত পড়াশোনা হবে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। তাতেই সূত্রপাত বিতর্কের।
তামিলনাড়ু সরকারের সংখ্যালঘু উন্নয়ন মন্ত্রী এ এম শাহজাহান বৃহস্পতিবার ঘোষণা করেছেন, রাজ্যের সমস্ত সরকারি, আধা সরকারি এবং সরকারি কোটায় ভর্তি হওয়া বেসরকারি কলেজে মুসলিম ছাত্রীরা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পড়াশোনার সুযোগ পাবেন। স্নাতক স্তর পর্যন্ত আর্টস, সায়েন্স, ইঞ্জিনিয়ারিং, মেডিক্যাল, কৃষি এবং আইন পড়াশোনার জন্য মুসলিম ছাত্রীদের কোনওরকম ফি দিতে হবে না। এই প্রকল্পে বরাদ্দ ২০ কোটি টাকা। এখানেই শেষ নয়, আগে যে ওয়াকফ স্কলারশিপ রাজ্যের প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়ারা পেত, সেটা এবার দশম শ্রেণি পর্যন্ত করে দেওয়া হয়েছে।
এর বাইরে খ্রিষ্টান ছাত্রছাত্রীদের জন্যও আলাদা করে প্রকল্প ঘোষণা করা হয়েছে। থলপতির সরকারের সংখ্যালঘু উন্নয়ন মন্ত্রী জানিয়েছেন, রাজ্যে সংখ্যালঘু মহিলাদের শিক্ষার হার বাড়াতে চেন্নাইতে আলাদা করে একটি কলেজ গড়বে তামিলনাড়ু ওয়াকফ বোর্ড। খ্রিষ্টান এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের নিজের আয় বাড়ানোর জন্য ওয়াকফ এবং চার্চের সম্পত্তিতে কমিউনিটি হল এবং বাণিজ্যিক কমপ্লেক্স বানানো হবে। বর্তমান সময়ে উপযুক্ত দক্ষতা উন্নয়নের জন্য আলাদা করে ১০ হাজার সংখ্যালঘু ছাত্রছাত্রীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
বিজয়ের সংখ্যালঘু উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রীর দাবি, সবটাই করা হচ্ছে সমাজে পিছিয়ে পড়া সংখ্যালঘু মহিলাদের মূলস্রোতে আনার স্বার্থে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, সংখ্যালঘু উন্নয়নের নামে শুধু এক ধর্মের উন্নয়ন কতদিন? হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যেও বহু প্রান্তিক, আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া মহিলা রয়েছন। তাঁরাই বা এই সরকারি প্রকল্পের সুবিধা কেন পাবেন না? একাধিক হিন্দু সংগঠন বিজয়ের সিদ্ধান্তে আপত্তি জানিয়েছে।