কাঠমাণ্ডু: হড়পা বানের ধ্বংসলীলার পর চারদিন কেটে গিয়েছে। এখনও মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনি নেপাল। মৃতের সংখ্যা ৬৭৫ পার করেছে। এখনও নিখোঁজ অন্তত সাড়ে তিন হাজার মানুষ। কাদার স্তূপের নীচে পচতে শুরু করেছে বহু মৃতদেহ। তার মধ্যেই নতুন করে দুর্যোগের মেঘ ঘনাচ্ছে এভারেস্টের দেশে। শনিবার আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, বিপর্যস্ত এলাকাগুলিতে প্রবল ঝড়-বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। ফলে পাহাড়ি নদীগুলিতে জল বাড়ার সম্ভাবনা চরমে। ফলে বিপদের মুখে পড়তে পারেন উদ্ধারকারীরাও। এখানেই শেষ নয়, চীন আগেই জানিয়েছিল, হড়পা বানের পর পাথর, কাদা ও তুষার জমে তিব্বতের দুই নদীর সংযোগস্থলে কৃত্রিম হ্রদ তৈরি হয়েছে। সেই হ্রদ ফেটে নতুন করে বান আসতে পারে। প্রাথমিকভাবে সেই হ্রদের জলস্তর কমার কথা জানা গেলেও চীনা প্রশাসন জানিয়েছে, উপগ্রহচিত্র ও অন্যান্য সূত্রে প্রাপ্ত ছবিতে দেখা গিয়েছে, ৯৯ হাজার বর্গমিটার বা ১৪টি ফুটবল মাঠের সমান এলাকাজুড়ে ওই হ্রদটির বিস্তার। ওই লেকের জলের রং ক্রমশ কালো হচ্ছে। যার অর্থ, জলস্তর বেড়ে যে কোনো সময় ফেটে যেতে পারে হ্রদটি। সেক্ষেত্রে প্রতি সেকেন্ডে ৫০০ ঘনমিটার জল নেমে আসতে পারে নদীখাতে। ফলাফল? ফের বিপর্যয়ের সম্ভাবনা। পাহাড়ের নীচের দিকে নদী তীরবর্তী জনবসতির বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। বুধবার বিপর্যয়ের দিন যেখানে হিমবাহ ধসে পড়েছিল, সেখানেও একটি হ্রদ তৈরি হয়েছে। সেটি ১ লক্ষ ২০ হাজার বর্গমিটার এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে। তবে হ্রদটির গভীরতা এখনও স্পষ্ট হয়নি।
শনিবার বিকল্প পথে চীন সীমান্ত পেরিয়ে তিব্বত থেকে নেপালে ফিরে এসেছেন ১২০ জন ভারতীয়। তাঁরা কৈলাস মানসরোবর যাত্রায় অংশ নিয়েছিলেন। জিরং সীমান্ত হড়পা বানে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়ায় বিদেশি পর্যটকরা কেউই ফিরতে পারছিলেন না। এদিন তাঁদের ঝাংমু সীমান্ত দিয়ে নেপালে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। বিপর্যয়ের প্রথম দিনেই জিরং সীমান্তের অভিবাসন দপ্তরে জল-কাদার পাহাড়সমান ঢেউ আছড়ে পড়ার ভিডিয়ো ভাইরাল হয়েছিল। চারদিন পর ওই এলাকায় পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে চীনা উদ্ধারকারী দল। কিন্তু তাঁরা জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপ ছাড়া সেখানে আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। অভিবাসন দপ্তরের বিরাট ভবনের প্রায় পুরোটাই জল-কাদার তলায়। ওই সীমান্ত দিয়েই কৈলাস মানসরোবরে যান পুণ্যার্থীরা। ফলে নিখোঁজ ভারতীয়দের নিয়ে উদ্বেগ কমছে না। নেপালের ডিজাস্টার এজেন্সি অবশ্য আশার কথা জানিয়েছে। তা হল—প্রায় চার হাজার মানুষকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, এদিন আরও ৮৮ জন ভারতীয়কে উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও ২৮৭ জন ভারতীয় এবং ১২৮ জন ভারতীয় বংশোদ্ভূত নিখোঁজ। উদ্ধার হওয়া ভারতীয়দের মধ্যে রাসুয়ায় নির্মীয়মাণ জলবিদ্যুত্ প্রকল্পের টানেলে আটকে পড়া চার শ্রমিকও রয়েছেন। সেখান থেকে ৩৫০ জন শ্রমিককে আগেই উদ্ধার করা হয়েছিল। তবে আটকে পড়েছিলেন ১০০ জন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম ওই চারজন। তাঁদের কাঠমাণ্ডু আনা হচ্ছে। ভারতের তরফে ছ’টি ফরেনসিক টিম এবং সুড়ঙ্গ খোঁড়ায় বিশেষজ্ঞ একটি দল নেপালে পাঠানো হয়েছে।