• ট্রেনে সুটকেসে মহিলার দেহ, হাড়হিম করা খুনের ঘটনায় মণিপুর থেকে গ্রেপ্তার দম্পতি
    বর্তমান | ৩০ আগস্ট ২০২৬
  • ইম্ফল, ৩০ আগস্ট: এ ঘটনা হার মানাবে সিনেমাকেও। তামিলনাড়ু এক্সপ্রেসের কামরায় সুটকেস থেকে এক মহিলার খণ্ডিত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় দু’জনকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান ধৃত দু'জনই মূল অভিযুক্ত। ধৃতরা হলেন অসমের কাছাড় জেলার বাসিন্দা ২২ বছরের মণিক উদ্দিন লস্কর এবং তাঁর স্ত্রী ভগবতী মাঝি (২১), যিনি ওড়িশার কেন্দুঝড় জেলার বাসিন্দা। 

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার মণিপুরের জিরিবাম জেলার কাশিমপুর এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। মণিপুর ও তামিলনাড়ু পুলিশের যৌথ অভিযানে রাজ্যজুড়ে তল্লাশি চালানোর পর ওই দম্পতিকে পাকড়াও করা সম্বব হয়েছে। 

    ঘটনার সূত্রপাত গত ৫ অগস্ট। যাত্রী ভর্তি ট্রেন আগ্রা স্টেশনে ঢোকার পরেই একটি কামরা থেকে থেকে প্রবল দুর্গন্ধ পান যাত্রীরা। কামরায় পড়ে থাকা একটি লাল রঙের সুটকেস ঘিরে সন্দেহ তৈরি হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় রেল পুলিশ। তারপরেই সুটকেসটি খুলতেই উদ্ধার হয় এক মহিলার মাথাবিহীন দেহ। প্রথমে মৃতার পরিচয় জানা যায়নি। তদন্তে নেমে পুলিশ এবং ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা মৃতার পরিচয় শনাক্ত করেন। জানা যায়, মৃতার নাম হায়াতুন নিশা, বয়স ৩৮ বছর। ওড়িশার বাসিন্দা ওই মহিলা গুডুভাঞ্চেরিতে থাকতেন এবং একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করতেন। তদন্তকারীরা চেন্নাই সেন্ট্রাল স্টেশনের একাধিক সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখেন। সেখানেই এক যুবক ও এক মহিলাকে ভারী লাল সুটকেস নিয়ে স্টেশনের ভিতর দিয়ে যেতে দেখা যায়। সেই সূত্র ধরে তাঁদের গতিবিধি অনুসরণ করতে করতে পুলিশ তাঁদের হদিশ পায়। একটি ভাড়া বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে। বাড়ির ভিতরে একটি বড় রান্নার পাত্র থেকে উদ্ধার হয় মৃতার দেহের আরও কয়েকটি খণ্ডিত অংশ। এরপরই নিখোঁজ সংক্রান্ত মামলা খুনের মামলায় পরিবর্তন করে পুলিশ। তদন্তে মণিক উদ্দিন লস্কর ও তাঁর স্ত্রী ভগবতী মাঝির নাম উঠে আসে। দেহাংশ সরিয়ে ফেলার পরই তাঁরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ। এরপর তাঁদের খোঁজে বিশেষ পুলিশ দল দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তল্লাশি শুরু করে। অবশেষে ২৯ অগস্ট মণিপুরের জিরিবাম জেলার কাশিমপুরে ওই দম্পতির অবস্থান জানতে পারেন তদন্তকারীরা। সেখান থেকেই তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত দু’জনকে প্রথমে মণিপুরের স্থানীয় ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হবে। এরপর ট্রানজিট ওয়ারেন্টের মাধ্যমে গুডুভাঞ্চেরি থানার পুলিশ তাঁদের তাম্বরমে নিয়ে যাবে। কেন এবং কী কারণে ৩৮ বছরের ওই মহিলাকে খুন করা হয়েছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের পরই খুনের আসল কারণ জানা যাবে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।
  • Link to this news (বর্তমান)