• জেন জি আন্দোলনে কমছে মোদির ভক্ত! সমীক্ষার রিপোর্ট ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে তুমুল চাঞ্চল্য
    বর্তমান | ৩০ আগস্ট ২০২৬
  • বাপ্পাদিত্য রায়চৌধুরী, কলকাতা: বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল চলতি বছরের ১৫ মে। একটি মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত সোশ্যাল মিডিয়া ও আরটিআই অ্যাক্টিভিস্টদের একাংশকে আরশোলার সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। তার কয়েকদিনের মধ্যে সামাজিক মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। তারপর দ্রুত বদলাতে থাকে জাতীয় রাজনীতির প্রেক্ষাপট। প্রতি ঘণ্টায় লাফিয়ে বাড়তে থাকে সিজেপির ‘ফলোয়ার্স’। ভার্চুয়াল জগৎ থেকে ‘আরশোলা পার্টির’ আন্দোলন নেমে আসে বাস্তবের মাটিতে। দিল্লির যন্তরমন্তরে শুরু হয় জেন জি-দের একরোখা আন্দোলন। যোগ দেন সোনম ওয়াংচুক। নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের দায় নিয়ে তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অনড় থাকেন আন্দোলনকারীরা। শেষ পর্যন্ত তারাই সফল হন। এতদিন কেন্দ্রের যে প্রবল পরাক্রমশালী শাসক সরকার বিরোধী যাবতীয় বিক্ষোভকে হেলায় দমন করতে সক্ষম হয়েছিল, তারা মাথা নোয়াতে বাধ্য হয়। ২৫ জুলাই পদত্যাগ করেন ধর্মেন্দ্র। জেন জি আন্দোলনের এই সাফল্য শিরোনামে উঠে আসে। সেই সঙ্গে প্রশ্ন ওঠে, জেন জি অর্থাৎ সদ্য ভোটাধিকার পাওয়া যুবসমাজের মধ্যে কি বিজেপি তথা প্রধানমন্ত্রী মোদির জনপ্রিয়তা কমছে? সেই প্রশ্নের উত্তর মিলল দেশের অন্যতম প্রধান বিশ্লেষক সংস্থা ‘সেন্টার ফর মনিটরিং ইন্ডিয়ান ইকনমি’ (সিএমআইই)-এর সাম্প্রতিক রিপোর্টে। অর্থনীতি বিষয়ক এই বিশ্লেষক সংস্থার সমীক্ষাকে বরাবর মান্যতা দিয়ে এসেছে সরকার থেকে শিক্ষাবিদ, অর্থনীতিবিদরা। সেই সংস্থা তাদের সাম্প্রতিক রিপোর্টে জানিয়েছে, চলতি বছরের এপ্রিল-মে মাসে দেশের ১৮-২২ বছর বয়সিদের কাছে মোদি সরকারের জনপ্রিয়তা ছিল ৭০ শতাংশ। শুধু মে মাসে ছিল  ৭৪ শতাংশ। জুন-জুলাইয়ে এসে সেই হার ৬৪ শতাংশে নেমে এসেছে। বলা বাহুল্য, এই সময়কালেই দিল্লি, পাটনা, কলকাতা, জয়পুরসহ নানা শহর উত্তাল জেন জি আন্দোলনের সাক্ষী থেকেছে। তাই ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, জেন জি আন্দোলনের প্রভাবেই ক্রমশ কমছে মোদি ভক্তের সংখ্যা! 

    তবে শুধু সিএমআইই’র রিপোর্ট নয়, নির্বাচন সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সমীক্ষক সংস্থা ‘সিভোটার’-এর রিপোর্টেও মোদি সরকারেরর জনপ্রিয়তা হ্রাসের চিত্র স্পষ্ট। প্রধানমন্ত্রী হিসাবে নরেন্দ্র মোদি কতটা জনপ্রিয়—এই প্রশ্নে চলতি বছরের জানুয়ারিতে তারা একটি সমীক্ষা করেছিল। তাতে ৫৫ শতাংশ মানুষ বলেছিলেন, ‘মোদিই ভালো’। চলতি আগস্টে তেমনটা বলছেন ৪৮.৭ শতাংশ মানুষ। এই সংস্থা প্রতি ছ’মাস অন্তর এই ধরনের সমীক্ষা করে। তারা জানাচ্ছে, গত আড়াই বছরে এই প্রথম মোদির জনপ্রিয়তার হার ৫০ শতাংশের নীচে নেমে এসেছে। প্রধানমন্ত্রী হিসাবে তাঁর পারফরম্যান্স কেমন? গত বছর আগস্টে তা ছিল ৫৮ শতাংশ। এ বছর আগস্টে ৫১ শতাংশে নেমে এসেছে সেই হার। এমনকি, কর্মসংস্থানের প্রশ্নে জেন জি-দের নিয়েই সমীক্ষা চালিয়েছিল তারা। তাতে অন্তত ৭০ শতাংশ সদ্যযুবা জানিয়েছে, অত্যন্ত উদ্বেগজনক অবস্থা। তাঁদের ৪৮ শতাংশই মনে করছে, কর্মসংস্থানের জন্য মোদি সরকারের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। তবে সিএমআইই’র ওই রিপোর্ট অনুযায়ী, এপ্রিল-মে মাসে দেশের ২৩ থেকে ৩০ বছর বয়সিদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী মোদির জনপ্রিয়তা ছিল ৫৮ শতাংশ। জুন-জুলাইয়ে তা অতি সামান্য বেড়েছে। আবার ৩১ থেকে ৪৫ বছর যাঁদের বয়স, এপ্রিল-মে মাসে তাঁদের মধ্যে মোদির জনপ্রিয়তার হার ছিল ৫৬ শতাংশ। আগস্টে তা প্রায় ৫৪ শতাংশে নেমে এসেছে। 
  • Link to this news (বর্তমান)