এই সময়, জলপাইগুড়ি: কাঁটাতারের ও পারে গিয়ে চা-বাগান বা জমিতে কাজ করতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন জলপাইগুড়ির ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের বাসিন্দারা। চলতি মাসে চাউলহাটির তসড়পাড়ার বাসিন্দা দীপঙ্কর গোপের ঘটনার পরে চাষিদের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়ে গিয়েছে। এ বার সেই আতঙ্ক দূর করতে চাষিদের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দাবি করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে চিঠি দিল ক্ষুদ্র চা-চাষিদের সর্বভারতীয় সংগঠন 'সিস্টা'। সংগঠনের সভাপতি বিজয়গোপাল চক্রবর্তী বলেন, 'আগে কৃষকরা কাঁটাতারের ও পারে কাজ করতে গেলে নিরাপত্তার জন্য সঙ্গে বিএসএফ জওয়ান থাকতেন। এখন সেটা দেখা যায় না। সেই কারণেই দুষ্কৃতীরা সুযোগ পেয়ে যাচ্ছে। কৃষকদের নিরাপত্তার স্বার্থেই এই বিষয়টিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছি আমরা।'
বিষয়টি নিয়ে জলপাইগুড়ির ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের বেরুবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য রঞ্জিত রবিদাস বলেন, 'ভারতের চাষিরা খুব আতঙ্কে রয়েছেন। আমরা ভারতীয় কৃষকদের নিরাপত্তা দাবি করছি।' একই বক্তব্য সীমান্তবাসী মিজানুর রহমানের। তাঁর সংযোজন, 'কাঁটাতারের ও পারে গিয়ে আমাদের চাষ করতে অনেক সমস্যা হয়। সরকার দ্রুত সমস্যার সমাধান করুক।'
কাঁটাতারের ও পারে নিজের জমিতে কাজ করতে গিয়ে ভারতীয় চাষিদের উপরে দুষ্কৃতী-হামলার ঘটনা নতুন নয়। তবে সীমান্তবাসী জানিয়েছে, ২০২৪ থেকে এই প্রবণতা আরও বেড়ে গিয়েছে। সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভারতীয় চাষিদের অনুপ্রবেশকারী তকমা দিয়ে সে দেশের আটকে রাখার মতো ঘটনা।
২০২৫-এর ১৬ এপ্রিল কোচবিহারের শীতলখুচির কৃষক উকিল বর্মন কাঁটাতারের ও পারে ভারতীয় ভূখণ্ডে চাষের কাজে গিয়ে অপহৃত হন। অভিযোগ, বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) তাঁকে অনুপ্রবেশকারী দেখিয়ে সে দেশের আদালতে হাজির করিয়ে জেলে পাঠায়। ২৯ দিন পরে ভারত সরকার উকিলকে দেশে ফেরায়। একই ভাবে ২০২৪-এর ২৫ জুলাই জলপাইগুড়ি সদর মহকুমার কুকুজান গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা হাসান আলি কাঁটাতারের ও পারে মাছ ধরতে গেলে বাংলাদেশের দুষ্কৃতীরা তাঁকে মারধর করে বলে অভিযোগ ওঠে। পরে বিএসএফ গিয়ে হাসানকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। এমন উদাহরণ কম নেই। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিকতম ঘটনায় ক্ষুদ্র চা-চাষি দীপঙ্কর এখনও বাংলাদেশেই আটক রয়েছেন।