‘নদীর পাড়ে বাস, চিন্তা বারো মাস’ — এই প্রবাদই যেন এখন হুগলির বলাগড়ের চরখয়রামারির বাসিন্দাদের নিত্যদিনের বাস্তবতা। বর্ষায় গঙ্গার ভাঙন ভয়ঙ্কর রূপ নিয়েছে বলাগড়ে। ভিটেমাটি, জমি সব চলে গিয়েছে নদীগর্ভে। কয়েক মাস আগে তৈরি হওয়া নতুন পিচের রাস্তাও তলিয়েছে নদীর জলে। যে কোনও সময় সেই গঙ্গার জল রাস্তা পেরিয়ে ঢুকে পড়তে পারে বাড়ির উঠোনে। আতঙ্কে দিন কাটছে গ্রামবাসীদের। তাঁদের দাবি একটাই, শুধু রাজনৈতিক বদল নয়, এ বার চাই গঙ্গার ভাঙন থেকে স্থায়ী মুক্তি।
স্থানীয় সূত্রে খবর, কয়েক মিটার এলাকা জুড়ে ফের নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে। রাস্তা না থাকায় এখন ধানের জমির উপর দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। গঙ্গার পাড় বরাবর মাটির নীচে দিয়ে যাওয়া পানীয় জলের পাইপ লাইনেও ফাটল ধরেছে বলে অভিযোগ। ফলে, পানীয় জলের সমস্যা দেখা দিয়েছে।
একসময় এখানে রানিনগর, দুর্লভপুর ও গৌরনগর এই তিনটি মৌজা ছিল। তার মধ্যে গৌরনগর মৌজা এখন পুরোপুরি গঙ্গার গর্ভে। বর্তমানে টিকে আছে দুর্লভপুর এবং রানিনগরের কিছু অংশ। আগে দেড় থেকে দুই হাজার মানুষের বসতি থাকলেও এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে ৩০০-র সামান্য কিছু বেশি সংখ্যক পরিবারে। জীবিকা হারিয়ে অনেকে এখন দিনমজুর বা খেতমজুরের কাজ করছেন।
চরখয়রামারির বাসিন্দা অসীম ঘোষাল বলেন, ‘দু’মাস আগেই তৈরি হওয়া রাস্তা নদীতে তলিয়ে গেছে। যাতায়াতের সমস্যার সঙ্গে রয়েছে পানীয় জলেরও সমস্যা। প্রশাসন বহুবার ডাম্পিং, বালির বস্তা দিয়ে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করেছে। কিন্তু সবই জলে চলে যাচ্ছে। ডাবল ইঞ্জিনের সরকারের কাছে আমরা চাই স্থায়ী সমাধান, কংক্রিটের বাঁধ।’
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা শিউলি সরকার বলেন, ‘সন্তানদের নিয়ে রাতে ঘুম হয় না। বাঁধ হওয়ার পরে ভেবেছিলাম আর ভাঙবে না। কিন্তু আবার ভেঙে গেল। অন্য জায়গায় জমি কেনার সামর্থ্য নেই। তাই বাধ্য হয়ে এখানেই থাকতে হচ্ছে। বিজেপি সরকারের কাছে আশা, তারা বিষয়টি ঠিক করে দেবে।’
স্থানীয় বাসিন্দা সরস্বতী ঘোষাল বলেন, ‘যে ভাবে গঙ্গা ভাঙছে তাতে খুব দুশ্চিন্তায় আছি। খেলার মাঠটাও চলে গিয়েছে। সরকার বদলায় কিন্তু পরিস্থিতির বদল হয় না। বস্তা দিয়ে কাজ হবে না। পাকা কংক্রিট করে দিক।’
এ বিষয়ে বলাগড়ের বিধায়ক তথা মন্ত্রী সুমনা সরকার বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রীকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন গুপ্তিপাড়া থেকে হাওড়ার উলুবেড়িয়া পর্যন্ত পুরো প্রকল্প রেডি করা হয়েছে। তাতে ৪০০ কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ করা যেতে পারে। কিছু প্রসিডিউর বাকি আছে। গঙ্গার ভাঙন থেকে আমরা খুব শীঘ্রই মানুষকে মুক্তি দিতে পারব।’ বিগত বাম ও তৃণমূল সরকারকে নিশানা করে সুমনা বলেন, ‘বাংলার বুকে ৩৪ বছর ও ১৫ বছরের সরকার ছিল। যিনি এমপি আছেন তাঁর উচিত ছিল গুরুত্ব দেওয়া। তাঁরা কেন দেখেননি জানি না। বিরোধীরা কুৎসা অপপ্রচার করছে। বিগত সরকার ভাঙন রোধে কিছু করেনি, উল্টে গঙ্গা থেকে বালি-মাটি চুরি হয়েছে। আমরা সেটা রুখেছি।’