মহারাষ্ট্রের আদিবাসী এক আবাসিক স্কুলে একাধিক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠল এক কর্মীর বিরুদ্ধে। থানের এক স্কুলে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে। ইতিমধ্যে অভিযুক্ত ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযোগ, ধৃত ব্যক্তি ওই স্কুলের ২২ জন ছাত্রীর শ্লীলতাহানি করেন। ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই রীতিমতো তোলপাড় পড়ে যায়। নড়েচড়ে বসে স্থানীয় পুলিশ-প্রশাসন। এরপরেই অভিযুক্ত ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। জানা গিয়েছে, ধৃতের নাম গণপত গাওয়ালি। ইতিমধ্যে ধৃতকে জেরা শুরু করেছে তদন্তকারী আধিকারিকরা।
সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, গত বুধবার ওই আবাসিক স্কুলের দশমশ্রেণির এক ছাত্রী গণপতের বিরুদ্ধে স্থানীয় থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। জানা যায়, ওই স্কুলে রান্নার কাজ করতেন অভিযুক্ত। ওই ছাত্রীর অভিযোগ, একা পেয়ে ধৃত তাঁর শ্লীলতাহানি করে। এমনকী কুপ্রস্তাব দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ। অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু করে পুলিশ। থানের ওই আবাসিক স্কুলে পৌঁছে যান তদন্তকারী আধিকারিকরা। সেই সময় স্কুলের একাধিক ছাত্রীর সঙ্গে তাঁরা কথা বলেন। সেই সময়েই তদন্তকারীরা জানতে পারেন, শুধু ওই ছাত্রী নয়, আরও ২১ জন ছাত্রী অভিযুক্ত গণপতের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানায় পুলিশের কাছে। একইভাবে তারাও শ্লীলতাহানির শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা। এরপরেই অভিযুক্ত গণপতকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ধৃতের বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে।
জানা গিয়েছে, যেখানে এই ঘটনা সেটি একটি সরকারি স্কুল। ফলত সেখানে কীভাবে এই ঘটনা ঘটল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একইসঙ্গে কীভাবে অভিযুক্ত ওই ব্যক্তি কাজের সুযোগ পেলেন, তাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। এমনকী ওই আবাসিক স্কুল কর্তৃপক্ষের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জানা গিয়েছে, বছর দুয়েক আগে গণপতির বিরুদ্ধে এই একই অভিযোগ সামনে এসেছিল। যদিও সেই সময় অন্য একটি স্কুলে কর্মরত ছিলেন অভিযুক্ত। শ্লীলতাহানির অভিযোগে বেশ কিছুদিন জেলও খাটতে হয়েছিল। সম্প্রতি জামিন ছাড়া পেয়েছিলেন। আর এখানেই প্রশ্ন উঠছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে এহেন অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কেন রান্নার কাজের জন্য নিয়োগ করা হল।