• আড়াই বছর বাংলাদেশে জেলবন্দি চিন্ময় প্রভু, হস্তক্ষেপ করুক ভারত, সোচ্চার তসলিমা
    প্রতিদিন | ৩০ আগস্ট ২০২৬
  • বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন সন্ন্যাসী চিন্ময় প্রভু। যার জেরে নানান মিথ্যা মামলায় জেলে বন্দি করা হয়েছে তাঁকে। বিচারের নামে চলছে প্রহসন। আড়াই বছর ধরে জেলবন্দি থাকা চিন্ময় প্রভুর হয়ে এবার ব্যাটন ধরলেন লেখিকা তসলিমা নাসরিন। ভারত সরকার যাতে চিন্ময় প্রভু-সহ মৌলবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়, এবং জেলবন্দি বাংলাদেশিদের ন্যায়ের পক্ষে হস্তক্ষেপ করে সেই দাবি জানালেন লেখিকা।

    ২০২৪ সালে বাংলাদেশে হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ জুড়ে সংখ্যালঘু ভয়াবহ আকার নিয়েছিল। এরই প্রতিবাদে সোচ্চার হয়ে উঠেছিলেন চট্টগ্রাম ইসকন পুণ্ডরীক ধামের সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ দাস। সনাতনীদের মুখ হয়ে ওঠেন তিনি। এরপরই মৌলবাদীদের চাপে পড়ে তাঁর বিরুদ্ধে নেমে পড়ে তৎকালীন উপদেষ্টা সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনুস। ওই বছরের ২৫ নভেম্বর রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় চিন্ময় প্রভুকে। এরপর একে একে খুন-সহ নানা মামলা চাপানো হয় তাঁর উপর। হাই কোর্ট সবকটি মামলায় তাঁকে জামিন দিলেও এখনও জেলবন্দি তিনি। এই অবস্থায় চিন্ময় প্রভু-সহ সংখ্যালঘুদের পক্ষে সরব হয়ে বাংলাদেশ সরকারের কোপে পড়া সকলের হয়ে সুর চড়াচ্ছেন তসলিমা। ভারত সরকার যাতে তাঁদের ন্যায়ের পক্ষে সোচ্চার হয় সেই দাবিতে আগামিকাল সোমবার বিকেল ৪টেয় কলকাতা প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক বৈঠক ডাকা হয়েছে।

    এই সাংবাদিক বৈঠকে চিন্ময় প্রভু ছাড়াও রাষ্ট্রযন্ত্রের কোপে পড়া আরও ৩ জনের পক্ষে সরব হতে চলেছেন তসলিমারা। তাঁরা হলেন, শাহরিয়ার কবির। লেখক, সাংবাদিক ও কলামিস্ট সঙ্খ্যালঘুদের পক্ষে সোচ্চার হওয়ায় ২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এখনও তিনি জেলবন্দি। অধ্যাপক আবদুল বরকত। সংখ্যালঘুদের হয়ে কথা বলায় মৌলবাদীদের কোপে পড়েন তিনি। যার জেরে আর্থিক দুর্নীতির মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সম্প্রতি জামিন পেয়েছেন। এছাড়াও রয়েছেন বাংলাদেশ সরকারের রোষাণলে পড়েছেন মানবাধিকার কর্মী রানা দাশগুপ্ত। হিন্দু-খ্রিস্টান-বৌদ্ধ ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক তিনি।

    উল্লেখ্য, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর এহেন অত্যাচারের বিরুদ্ধে বারবার সরব হয়েছেন প্রতিবাদী লেখিকা তসলিমা নাসরিন। সম্প্রতি কলকাতায় এসে মৌলবাদীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে তিনি বলেন, ‘‘ইউনুসের জমানা হোক বা আজকের তারেক রহমানের জমানা, অন্ধকার থেকে বাংলাদেশ বেরতে পারেনি। মৌলবাদীদের বাড়বাড়ন্ত এখনও আছে। এখনও নারীরা স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারেন না। বাবার সম্পত্তির উপর তাঁদের অধিকার নেই। সংখ্যালঘু হিন্দুরা নিপীড়িত হচ্ছেন, তাঁদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নেই। বাংলাদেশের বাইরে ভারত বা পৃথিবীর যে কোনও দেশে যে কোনও প্রগতিশীল বাংলাদেশিদের হয়ে আমার দাবি, হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময় প্রভুর মুক্তি চাই। তাঁর সঙ্গে অন্যায় হয়েছে।”
  • Link to this news (প্রতিদিন)