• আর দেখা যাবে না মিষ্টি হেসে বাহারি মেনুর আবদার! প্রয়াত ‘মা-মাসি কিচেনে’র সেই প্রিয় ‘দাদু’
    প্রতিদিন | ৩০ আগস্ট ২০২৬
  • সোশাল মিডিয়া যে শুধু জেন জি’র নয়, তা প্রমাণ করে দিয়েছেন অনেক বৃদ্ধ-বৃদ্ধাই। তাঁদের মধ্যেই রয়েছেন বসু দম্পতি। মিষ্টি হাসিতে স্ত্রীর কাছে বাহারি মেনুর আবদার, আর সেই মতো রান্না করে নেটদুনিয়ার মন জিতে নিয়েছিলেন জ্যোতিপ্রসাদ বসু ও শিউলি বসু। বাড়ি থেকে যারা দূরে থাকেন, বসু দম্পতির ভিডিওতে যেন ঠাকুমা-দাদুর স্পর্শ পেতেন তাঁরা। সেই বসু পরিবারেই দুঃসময়। প্রয়াত ‘মা মাসি কিচেনে’র সকলের পরিচিত দাদু অর্থাৎ জ্যোতিপ্রসাদ বসু। আজ, রবিবার পেজেই এই দুঃসংবাদ জানানো হয়েছে। 

    সোশাল মিডিয়া খুললেই এখন হাজারও রান্না চ্যানেল। তবে নিজগুণে কেউ কেউ এগিয়ে যায় বাকিদের পিছনে ফেলে। ঠিক তেমনই ‘মা-মাসি কিচেন’। নাহ, এখানে কোনও চাকচিক্য ছিল না। নিউ টাউন এলাকায় ছাপোষা মধ্যবিত্ত ঘর, ছোট্ট একফালি রান্নাঘর, তাতেই বৃদ্ধ দম্পতির সংসার। ভিডিওতে দেখা যেত, গৃহকর্তা জ্যোতিপ্রসাদবাবু স্ত্রীর কাছে একেকদিন একেকটা রান্নার আবদার করছেন। তা মেটাচ্ছেন স্ত্রী শিউলিদেবী। ঠিক বাড়ির মা বা ঠাকুমার মতো যত্ন করে রান্নার পাশাপাশি সকলকে দেখাচ্ছেন পদ্ধতি। তারপর চেখে দেখে বাহবা দিচ্ছেন কর্তা। যা স্বাভাবিকভাবেই মন কেড়েছে সকলের। ইতিমধ্যেই ফেসবুকে তাঁদের ফলোয়ার সংখ্যা পৌঁছেছে প্রায় ১০ লাখের কাছাকাছি। 

    তবে গত কিছুদিন ধরেই মা-মাসি কিচেন পেজটিতে ভিডিও পোস্ট করা হচ্ছিল না। রবিবার সকালে মিলেছে দুঃসংবাদ। জানা গিয়েছে, ১৩ আগস্ট মৃত্যু হয়েছে জ্যোতিপ্রসাদবাবুর। সোশাল মিডিয়া সূত্রেই জানা গিয়েছে, বেশ কিছু বছর ধরেই ওই বৃদ্ধ সিওপিডি’তে ভুগছিলেন। গত ৭ আগস্ট হঠাৎ খুব অসুস্থ হয়ে পড়েন। সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কয়েকদিনের যুদ্ধের পর ১৩ তারিখ মৃত্যু হয় তাঁর। হয়তো ফের ভিডিও আসবে, কিন্তু সকলের প্রিয় ‘দাদু’র সেই মনভোলানো হাসি আর দেখতে পাবেন না কেউ। কমেন্ট বক্সে দুঃখপ্রকাশ করেছেন সকলেই। কেউ লিখেছেন, ‘সেই হাসিমাখা মুখ, আপনার রান্না আর পাশে থেকে তাঁর সেই প্রশংসা- আর কোনওদিন শুনতে পাবো না। কিন্তু স্মৃতির ভেতর সেই মানুষটি থেকে যাবেন।’  কেউ আবার লিখেছেন,  ‘খুব ধাক্কা খেলাম।’

     
  • Link to this news (প্রতিদিন)